টিকটকে রাসেল ক্রোর গোপন জগৎ

· Prothom Alo

হলিউডের অস্কারজয়ী অভিনেতা—এই পরিচয়ের বাইরে আরও একটি জগৎ আছে রাসেল ক্রোর। সম্প্রতি ভক্তরা আবিষ্কার করেছেন তাঁর একটি ‘গোপন’ টিকটক অ্যাকাউন্ট, যেখানে তিনি বিলাসবহুল ঘড়ির প্রতি নিজের গভীর ভালোবাসা ভাগ করে নিচ্ছেন।

Visit lebandit.lat for more information.

অ্যাকাউন্টটির নাম ‘igp366’—যা তাঁর ব্র্যান্ড ‘ইনডোর গার্ডেন পার্টি’র প্রতি ইঙ্গিত দেয়। সেখানে অনুসারী এখন প্রায় ৩২ হাজারের বেশি। বায়োতে তিনি লিখেছেন, ঘড়ি আর ব্র্যান্ড নিয়েই এখানে তাঁর আলাপ। কোনো তারকাসুলভ প্রচার নয়, বরং নিখাদ শখের প্রকাশ।

ভিডিওতে ক্রো জানান, তাঁর পুরো সংগ্রহ দেখাতে গেলে অনেক সময় লাগবে—কারণ তিনি ‘আক্ষরিক অর্থেই নিবেদিতপ্রাণ’। আপাতত তিনি দেখিয়েছেন নিজের ‘কারেন্ট রোটেশন’—অর্থাৎ নিয়মিত পরা প্রিয় কয়েকটি ঘড়ি। সংগ্রহে রয়েছে রোলেক্স, টুডার, ওমেগার মতো ঐতিহ্যবাহী ব্র্যান্ড। কয়েকটি ঘড়ির দাম ৬০ হাজার ডলার পর্যন্ত।
বিশেষভাবে নজর কাড়ে তাঁর রোলেক্স ডেটোনা—যা তিনি গত জুলাইয়ে উইম্বলডনে পরেছিলেন। এই ঘড়ির মূল্য প্রায় ৪০ হাজার ৬০০ ডলার। টিফানি নীল ডায়ালের একটি ঘড়ি দেখাতে গিয়ে তিনি বলেন, সুটের হাতার নিচ থেকে যখন রংটি উঁকি দেয়, তা সবার নজর কাড়ে—এই সূক্ষ্ম নাটকীয়তাই তাঁর পছন্দ।

‘গ্ল্যাডিয়েটর’’ সিনেমায় রাসেল ক্রো। আইএমডিবি

ভিডিওর শুরুতেই রাসেল ক্রো দেখান সুইস ব্র্যান্ড ওমেগার বিশেষ সংস্করণ সিমস্টার ডাইভার ৩০০এম, সিক্সটি ইয়ার্স অব জেমস বন্ড। জেমস বন্ড চরিত্রের ৬০ বছর পূর্তি উপলক্ষে তৈরি এ ঘড়ির নীল ডায়াল মনে করিয়ে দেয় ১৯৯৫ সালের ‘গোল্ডেন আই’–এ জেমস বন্ডরূপে পিয়ার্স ব্রসনানের হাতে দেখা সেই বিখ্যাত ঘড়িকে। দাম প্রায় ৯ হাজার ৪০০ ডলার। তবে ক্রো জানান, বন্ড–প্রেমের জন্য নয়, বরং টেনিস ডাবলস পার্টনারের সঙ্গে ম্যাচিং ঘড়ি পরে কোর্টে মানসিক সুবিধা পাওয়ার উদ্দেশ্যেই তিনি এটি সংগ্রহ করেছিলেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০০১ সালে ব্রসনানের পর বন্ড চরিত্রে অভিনয়ের সম্ভাব্য তালিকায় ক্রোর নামও ছিল, যদিও শেষ পর্যন্ত অভিনয় করেন ড্যানিয়েল ক্রেইগ।

ভক্তরা বিস্মিত—গ্ল্যাডিয়েটরের ম্যাক্সিমাস হঠাৎ কীভাবে হয়ে উঠলেন ঘড়িপাগল? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ লিখেছেন, ‘কলোসিয়ামে বাঘের সঙ্গে লড়াই থেকে এখন এক্সক্লুসিভ অ্যালোকেশন পাওয়ার লড়াই!’

নতুন সিনেমা নিয়ে বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহে অস্কারজয়ী অভিনেতা রাসেল ক্রো

টিকটক ভিডিওর পটভূমিতেই দেখা গেছে রাসেল ক্রোর সোনালি অস্কার মূর্তি—এক কোণে প্রায় নির্লিপ্তভাবে রাখা। ২০০১ সালে ‘গ্ল্যাডিয়েটর’ ছবিতে ম্যাক্সিমাস চরিত্রে অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেতার অস্কার জিতেছিলেন তিনি। সেই অস্কার যেন অনায়াসে পড়ে আছে অন্যান্য স্মারকের পাশে—যা ভক্তদের কাছে আরও ‘ফ্লেক্স’ হিসেবে ধরা দিয়েছে।

নিজের ঘড়ির সংগ্রহ দেখাচ্ছেন রাসের ক্রো। ভিডিও থেকে

ঘড়ির প্রতি ক্রোর অনুরাগ নতুন নয়। ২০১৮ সালে ‘আর্ট অব ডিভোর্স’ নিলামে তিনি ৩৭ লাখ ডলারের স্মারক, শিল্পকর্ম ও গয়না বিক্রি করেছিলেন। সেখানে ২৪টি ঘড়িও ছিল—পানেরাই, ব্রাইটলিং, কার্টিয়ের, শোপার্ডসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের।
ক্রো নিজেই বলেছিলেন, ছোটবেলায় কোনো ‘ফ্ল্যাশি’ ঘড়ি ছিল না—বড় হয়ে সে অভাব পুষিয়ে নিয়েছেন। তাঁর কাছে ঘড়ি কেবল সময় জানানোর যন্ত্র নয়; প্রতিটি ঘড়ি যেন জীবনের একেকটি অধ্যায়ের স্মারক।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে

Read full story at source