যে ৫টি কাজ রোজার দিনে করবেন না

· Prothom Alo

পবিত্র রমজান মাস শুরু হয়েছে। দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা এ মাসব্যাপী রোজা রেখে থাকেন। সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার থেকে বিরত থাকেন তাঁরা। তবে সেই সঙ্গে এ সময় কিছু কাজ থেকে বিরত থাকলে রোজার সময়টা সুন্দর কাটে নিজের ও সমাজের সবার জন্য। চলুন, এবার এমন কিছু কাজের কথা দেখে নিই, যা রোজার সময় করা উচিত নয়।

Visit librea.one for more information.

১. কেউ রোজা না রাখলে তাঁকে বিব্রত করা

কেউ রোজা না রাখলে তাঁকে বিব্রত করা বা হ্যারাস করা ঠিক নয়। কারও শারীরিক সমস্যা বা অন্যান্য কারণে রোজা না রাখা হতে পারে, আবার কেউ অন্য ধর্মাবলম্বী বা নিজের বিশ্বাস অনুযায়ী রোজা রাখতে না চাওয়াও স্বাভাবিক। এটি তাঁর ব্যক্তিস্বাধীনতার মধ্যে পড়ে। তাই বারবার জিজ্ঞেস করে তাঁকে বিব্রত করা ঠিক নয়। আবার কেউ রোজা না রাখলে, খাবার বা পানি গ্রহণ করলে তাঁকে হ্যারাস করা বা ক্ষেত্রবিশেষে জনসমক্ষে তাঁকে লাঞ্ছিত করা অপরাধের পর্যায়ে পড়ে। বিশ্বে মুসলিমপ্রধান বহু দেশ রয়েছে। সেখানে এমন নজির দেখা যায় না।

২. ইফতার–সাহ্‌রির ভার শুধু ঘরের নারীদের ওপরে চাপিয়ে দেওয়া

সারা দিন রোজা রেখে অক্লান্ত পরিশ্রম করে ইফতার–সাহ্‌রির আয়োজন করতে হিমশিম খেতে থাকেন ঘরের নারীরা। এটাই আমাদের দেশের প্রায় বেশির ভাগ গৃহের চিত্র। কর্মজীবী হোন বা গৃহবধূ—নারীদেরই দায়িত্ব যেন এই গরমে সবার ফরমাশমতো ইফতার আর সাহ্‌রির ব্যবস্থা করা। এই অন্যায় প্রথা থেকে বেরিয়ে এসে পরিবারের সবাইকে এই কাজগুলো ভাগ করে করা উচিত।

৩.অতিভোজন করা

আমাদের দেখলে মনে হয় রোজা সংযম নয়, বরং ভোজনের মাস। এলাহি কারবার চলে ইফতার ও সাহ্‌রি ঘিরে। সারা দিনই চলে যায় এই খাওয়াদাওয়ার আয়োজন নিয়ে। অতিভোজনের কারণে ওজন বেড়ে যাওয়ার মতো ব্যাপার ঘটে স্বাভাবিকভাবেই। আর অতিরিক্ত আড়ম্বরপূর্ণ ইফতার আয়োজন, সাহ্‌রি নাইটের উদ্‌যাপনই যেন এ মাসের মূল বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। অতিভোজন কোনো দিক থেকেই ভালো নয়, সে কথা সবাই জানেন।

৪. যত্রতত্র থুতু ফেলা ও মুখে অতিরিক্ত দুর্গন্ধ থাকা

রোজার সময় আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে অত্যন্ত আপত্তিকর এক অভ্যাস দেখা যায়। তা হলো যত্রতত্র থুতু ফেলা। এর কোনোই যুক্তিসংগত কারণ নেই। সারা দিন রোজা রেখে পেটের পাচক রসের নিঃসরণে মুখে যে গন্ধ হয়, তা ধর্মীয় রীতি মেনেই মিসওয়াক বা ব্রাশ করে আয়ত্তে রাখা যায়। মুখগহ্বরের স্বাস্থ্য বা ওরাল হাইজিন ঠিক না থাকলে দুর্গন্ধ তো অসহনীয় পর্যায়ে চলে যায়ই, তার সঙ্গে থাকে দাঁতের সমস্যা ও বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি।

৫.অতিরিক্ত অস্বাস্থ্যকর আর বাইরের খাবার খাওয়া

রোজার সময় পাড়ার মোড়ের দোকান থেকে শুরু করে বিলাসবহুল পাঁচ তারকা হোটেল—সব জায়গায় চলে ইফতারের মহাযজ্ঞ। বাইরের খাবার নিয়মিত প্রতিদিনের ইফতারে খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর। ভেজাল ও ক্ষতিকর কেমিক্যালের ব্যবহার এর অন্যতম কারণ। আবার সব সময় রোজায় তেলে ভাজা আর অতিরিক্ত চর্বি ও চিনিযুক্ত খাবার মাসব্যাপী খেলে স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়ে যায় অনেক। এ থেকে হৃদ্‌রোগ, ডায়াবেটিস, অতিরিক্ত স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপ, পেটের সমস্যা, উচ্চ মাত্রার কোলেস্টেরলসহ বহু রোগ হতে পারে।

Read full story at source