হাজারীবাগে স্কুলছাত্রী হত্যা মামলার আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি
· Prothom Alo

রাজধানীর হাজারীবাগে স্কুলছাত্রী শাহরিয়ার শারমিন বিন্তিকে (১৫) ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় আসামি সিয়াম হোসেন ওরফে ইমন (১৯) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। আজ শুক্রবার দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিলরুবা আফরোজ তিথি তাঁর জবানবন্দি রেকর্ড করেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল বাসার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
Visit solvita.blog for more information.
আসামি ১৬৪ ধারায় দায় স্বীকার করে জবানবন্দিতে দিতে সম্মত হন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হাজারীবাগ থানার এসআই মো. মতিউর রহমান আসামির জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদন করেন। বিচারক আসামির জবানবন্দি রেকর্ড করেন। জবানবন্দি রেকর্ড শেষে আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে অভিযান চালিয়ে সিয়ামকে কলাবাগানের কাঁঠালবাগান থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদন থেকে জানা গেছে, ২০২৩ সালে আসামি সিয়াম ও শারমিন শিকড় আইডিয়াল স্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ত। ওই সময় তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্কে গড়ে ওঠে। আসামি মামার সঙ্গে হাজারীবাগ থানার জিগাতলা এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। পরের বছর বাসা পরিবর্তন করে তাঁরা রামপুরা যান। সেখান থেকে আসামি নিয়মিত হাজারীবাগ এলাকায় গিয়ে শারমিনের সঙ্গে দেখা করতেন।
আবেদনে বলা হয়, অন্য বন্ধুদের মাধ্যমে শারমিনের একাধিক প্রেম ও ছবি থাকার বিষয়ে জানতে পারেন সিয়াম। এ বিষয়ে নিয়ে তাঁদের মধ্যে আট মাস যোগাযোগ বন্ধ থাকে। গত বছরের অক্টোবর থেকে আবার যোগাযোগ হয়। তবে শারমিনের আচরণ ও কথাবার্তা আসামির কাছে সন্দেহজনক মনে হয়। তাকে যাচাই করার জন্য সিয়াম তাঁর পরিচিত বন্ধুর মাধ্যম প্রেমের প্রস্তাব দেন। শারমিন তাঁর বন্ধুর প্রেমের প্রস্তাবও গ্রহণ করে। আসামি প্রমাণসহ শারমিনকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে, সে এবারও অস্বীকার করে। এবার আসামি সিদ্ধান্ত নেন সরাসরি শারমিনকে জিজ্ঞেস করবেন। কিন্তু সে অস্বীকার করলে হত্যার পরিকল্পনা করেন।
‘আরেক যুবকের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছে’ সন্দেহে স্কুলছাত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে সিয়াম: পুলিশআবেদনে আরও বলা হয়, ২৫ ফেব্রুয়ারি ঘটনার দিন আসামি হাজারীবাগ এলাকার ট্যানারি মোড় থেকে একটি চাকু কিনে পকেটে রাখেন। ওই দিন সন্ধ্যায় আসামি রায়েরবাজার স্কুলের সামনে শারমিনকে দেখা করার জন্য ডাকেন। দুজন রিকশায় করে বাংলামোটর এলাকায় যান এবং আবার ফিরে আসেন। দুজন শারমিনের বাসার পাশে কিছুক্ষণ ঘোরাফেরা করেন। এ সময় আসামি শারমিনকে ক্ষমা চাইতে বলেন। শারমিন আবারও অস্বীকার করে। আসামি পরিকল্পনা অনুযায়ী শারমিনকে এক হাতে জাপটে ধরেন এবং অপর হাতে পেটে ও পিঠে চাকু দিয়ে আঘাত করেন। ভুক্তভোগী রক্তাক্ত হয়ে গেলে আসামি তাকে ছেড়ে দেন। ভুক্তভোগী দৌড়ে বাড়িতে যান। আসামি ঘটনাস্থলে নিজের পরা জামায় চাকুর রক্ত মুছে তাঁর বাবা ও চাচার মাধ্যমে দাদার বর্তমান ঠিকানার বাসা কাঁঠালবাগানে আশ্রয় নেন। সেখান থেকে পুলিশ তাঁকে আটক করে।
ওই ঘটনায় বৃহস্পতিবার ভুক্তভোগীর বাবা মো. বিল্লাল হোসেন হাজারীবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।