রোজা : কোরআন যেভাবে সংযমের শিক্ষা দেয়

· Prothom Alo

মানুষের শরীরচর্চা যেমন কেবল শক্তি বৃদ্ধির জন্য নয়, বরং বৃহত্তর লক্ষ্য অর্জনের প্রস্তুতি; তেমনি ইবাদতও নিছক আনুষ্ঠানিকতা নয়—এটি আত্মার পরিশুদ্ধি, চরিত্র গঠন এবং চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জনের প্রশিক্ষণ।

Visit sweetbonanza.qpon for more information.

রোজা সেই প্রশিক্ষণের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এর উদ্দেশ্য কেবল ক্ষুধা-তৃষ্ণা সহ্য করা নয়; বরং তাকওয়া অর্জন, আত্মসংযম শেখা এবং আল্লাহকেন্দ্রিক জীবন গঠন করা।

কোরআনে রোজা ফরজ হওয়া সম্পর্কে স্পষ্ট ঘোষণা এসেছে। আল্লাহ–তাআলা বলেন, “হে মুমিনগণ, তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।” (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৮৩-১৮৪)।

রোজা স্থায়ী নয়; বরং সাময়িক সংযম। এটি একধরনের আধ্যাত্মিক চিকিৎসা, যা বিশেষ সময়ের জন্য নির্ধারিত—‘গণনাযোগ্য কয়েকটি দিন’।
রমজানে মহানবীর (সা.) দানশীলতা

এই আয়াতে রোজার মূল লক্ষ্য ‘তাকওয়া’ বা আল্লাহভীতি অর্জন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ রোজার প্রকৃত উদ্দেশ্য মানুষের অন্তরকে পরিশুদ্ধ করা, নফসের নিয়ন্ত্রণ শেখানো এবং আত্মিক শক্তি বৃদ্ধি করা।

রোজা-সংক্রান্ত আয়াতের আগে ও পরে যে আয়াতগুলো এসেছে, সেগুলো বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়—ইসলামে আহার গ্রহণই মূলনীতি, বর্জন নয়।

আল্লাহ মানুষকে পবিত্র ও হালাল রিজিক ভোগ করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং শয়তানের অনুসরণ থেকে বিরত থাকতে বলেছেন। আল্লাহ বলেছেন, হে মানবজাতি, তোমরা পৃথিবীতে যা কিছু বৈধ ও পবিত্র খাদ্য রয়েছে তা থেকে আহার করো এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৬৮)

এতে স্পষ্ট হয়, রোজা স্থায়ী নয়; বরং সাময়িক সংযম। এটি একধরনের আধ্যাত্মিক চিকিৎসা, যা বিশেষ সময়ের জন্য নির্ধারিত—‘গণনাযোগ্য কয়েকটি দিন’। তাই ইসলাম লাগাতার রোজা রাখাকে উৎসাহিত করেনি; বরং ভারসাম্যপূর্ণ জীবনধারার শিক্ষা দিয়েছে।

রমজানে মহানবীর (সা.) আল্লাহভীতি
রোজার আয়াতের পরে কোরআনে সামাজিক ন্যায়বিচার, সম্পদের সঠিক ব্যবহার এবং জুলুম-অত্যাচারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ এসেছে। অন্যায়ভাবে সম্পদ আত্মসাৎ করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

রোজা একটি বৃহত্তর নৈতিক কাঠামোর অংশ। কোরআনে সৎকর্মের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলা হয়েছে, পূর্ব বা পশ্চিমমুখী হওয়াই সৎকর্ম নয়; বরং প্রকৃত সৎকর্ম হলো ঈমান, দান, নামাজ, প্রতিশ্রুতি রক্ষা এবং বিপদে ধৈর্য ধারণ। (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৭৭)

এখানে বোঝানো হয়েছে, নিছক আচার-অনুষ্ঠান পালন যথেষ্ট নয়। একইভাবে কোরবানির প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, আল্লাহর কাছে পশুর মাংস বা রক্ত পৌঁছে না; পৌঁছে কেবল তাকওয়া। (সুরা হজ্জ, আয়াত: ৩৭)

অর্থাৎ বাহ্যিক রূপ নয়, অন্তরের বিশুদ্ধতাই মুখ্য।

রোজার আয়াতের পরে কোরআনে সামাজিক ন্যায়বিচার, সম্পদের সঠিক ব্যবহার এবং জুলুম-অত্যাচারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ এসেছে। অন্যায়ভাবে সম্পদ আত্মসাৎ করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আবার আল্লাহর পথে সংগ্রামের নির্দেশ দিয়ে সীমালঙ্ঘন না করার সতর্কবাণী উচ্চারিত হয়েছে ।

পাশাপাশি আল্লাহর পথে ব্যয় করার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে—কৃপণতাই ধ্বংসের কারণ। (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৯৫)

এসব আয়াত প্রমাণ করে, রোজা একক ইবাদত নয়; বরং সামাজিক ন্যায়, আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের চেতনার সঙ্গে যুক্ত একটি পূর্ণাঙ্গ অনুশীলন।


আহমাদ সাব্বির: আলেম ও লেখক

রমজানে শেষ নয় রোজা

Read full story at source