এক দেশের দল কীভাবে অন্য দেশের লিগে খেলে?

· Prothom Alo

এফএ কাপের পঞ্চম রাউন্ডে চেলসির মুখোমুখি হয়েছিল রেক্সহাম। দ্বিতীয় বিভাগের দলটি রীতিমতো চমকে দিয়েছিল চেলসিকে। অতিরিক্ত সময় গিয়ে নিজেদের জয় তুলে আনতে হয়েছে চেলসিকে। রেক্সহামকে নিয়ে মাতামাতির মূল কারণ তাদের উত্থান। তিন বছর আগেও চতুর্থ বিভাগে থাকা দলটি উঠে এসেছে দ্বিতীয় বিভাগে। আর এর পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান রয়েছে তাদের মালিক ‘ডেডপুল’ অভিনেতা রায়ান রেনল্ডসের। কিন্তু মজার ব্যাপার কি জানো? রেক্সহাম ইংলিশ লিগে খেললেও তারা কিন্তু ইংলিশ কোনো দল নয়। বরং তাদের ঘাঁটি ওয়েলসে। ওয়েলসের ছোট্ট শহর রেক্সহাম খেলছে ইংলিশ লিগে।

Visit asg-reflektory.pl for more information.

শুনে অবাক লাগছে, তাই না? যে দেশের দল, সেই দেশের লিগেই তো খেলার কথা। যেখানে ওয়েলসের নিজেদের লিগ আছে, আছে সমৃদ্ধ একটি জাতীয় দলও। সেখান থেকে একটি দল এসে কীভাবে এসে ইংলিশ লিগে খেলতে পারে? ওয়েলসের প্রিমিয়ার লিগও কিন্তু কম নয়, দুটি ডিভিশন রয়েছে, এর মধ্যে পেশাদার প্রথম ডিভিশনে রয়েছে ১২টি দল, যা আগামী মৌসুম থেকে বেড়ে দাঁড়াবে ১৬টিতে। তা সত্ত্বেও ওয়েলসের ক্লাব রেক্সহাম কীভাবে ইংলিশ লিগে নাম লেখাল? রেক্সহাম কিন্তু এই তালিকায় একা নয়। একসময় নিয়মিত প্রিমিয়ার লিগ খেলা সোয়ানসি সিটি, কার্ডিফ সিটিও কিন্তু ওয়েলসের দল। অথচ নিয়মিত খেলে যাচ্ছে প্রিমিয়ার লিগে। কিন্তু কীভাবে? এর উত্তর জানতে একটু পেছনে ফিরে তাকাতে হবে।

আরবেলোয়া কি রিয়াল মাদ্রিদে টিকে থাকতে পারবেন?রেক্সহামের মালিক ‘ডেডপুল’ রায়ান রেনল্ডস।

ওয়েলস প্রিমিয়ার লিগ বা ‘কামরি প্রিমিয়ার’ সূচনা হয়েছিল ১৯৯২ সালে। ওয়েলস ফুটবল ফেডারেশন ১৮৭৬ সালে গঠিত হলেও ১১৬ বছর তাদের নিজস্ব কোনো লিগ ছিল না। লিগ না থাকলে কী হবে, ফুটবল দল তো ঠিকই তৈরি হয়েছে। রেক্সহাম প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ১৮৯০ সালে, কার্ডিফ সিটি ১৯১০ আর সোয়ানসি সিটি ১৯১২ সালে। প্রায় শত বছরের ঐতিহ্য নিয়ে তারা নিয়মিত খেলে গিয়েছে ইংলিশ লিগে। যত দিনে ওয়েলসের লিগ শুরু হয়েছে, তত দিনে তারা শুধু ইংলিশ লিগের পেশাদার দল নয়, প্রতিষ্ঠিত নামও বটে।

কিন্তু ওয়েলস যখন নিজেদের লিগ শুরু করে, তখন সেটা পুরোপুরি পেশাদার লিগ ছিল না। ফলে ইংলিশ লিগে খেলা ওয়েলসের অপেশাদার কিংবা সেমি প্রফেশনাল দলগুলোকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল খেলতে। তখন দেশের কথা ভেবে অনেকেই যোগ দিয়েছিলেন ওয়েলসের লিগে। কিন্তু বড় বড় দলগুলো নিজেদের নাম, যশ ও বিশাল অর্থবিত্ত ছেড়ে আসতে চায়নি। এ নিয়ে অপেশাদার দলগুলোর সঙ্গে বেশ মনোমালিন্যও হয়েছিল ওয়েলস বোর্ডের, কয়েক বছর নিজেদের মাঠে খেলতে পারেনি দলগুলো।

সেসময় ইংলিশ লিগ একটি নতুন নিয়ম চালু করে। যে নিয়মের অধীনে ওয়েলসের দলগুলো যেমন সোয়ানসি, রেক্সহাম কোনো বাধা ছাড়াই খেলতে পারে ইংলিশ লিগে। ইংল্যান্ডের বাকি সব টুর্নামেন্টেও অংশগ্রহণ করতে পারে তারা। এ ছাড়া ওয়েলসের প্রাচীন ‘ওয়েলস কাপ’-এও অংশগ্রহণের সুযোগ পায় দলগুলো। কিন্তু সেখান থেকে সরাসরি ইউরোপে খেলার সুযোগ নেই তাদের। বরং ইউরোপে খেলতে হলে তাদের ইংল্যান্ডের লিগ খেলে সেই যোগ্যতা অর্জন করতে হবে।

আর্সেনাল কি আবারও লিগ ফসকাতে চলেছে?মোনাকো আলাদা দেশ হলেও খেলে ফ্রেঞ্চ লিগে।

ইংল্যান্ড শুধু একা নয়, অন্য দেশের দল ভিন্ন লিগে খেলার উদাহরণ আছে ফ্রান্স এবং স্পেনেও। ফ্রান্সের বিখ্যাত কাপ দ্য ফ্রান্সে তো অংশ নেয় ৫ মহাদেশের ৭ হাজার দল। তবে সেটা বাদেও ফ্রান্সের লিগে নিয়মিত অংশ নেয় মোনাকো। যারা একটি স্বাধীন দেশ হলেও অংশ নেয় ফ্রেঞ্চ লিগে। আবার স্পেনের প্রতিবেশী দেশ অ্যান্ডোরা অংশ নেয় স্প্যানিশ লিগে। তারা এখন আছে দ্বিতীয় বিভাগে। এ ছাড়া লিচেনস্টাইনের ফুটবল ক্লাব ভাদুজ নিয়মিত অংশ নেয় সুইস লিগে। তবে তারা অংশ নেয় ‘গেস্ট দল’ হিসেবে। আর আমেরিকার মেজর লিগ সকারে কানাডার বেশ কয়েকটি ক্লাবও অংশ নেয়।

ভিনদেশি খেলা সেপাক টাকরাও

Read full story at source