মাদকমুক্ত জীবন রমজান থেকেই শুরু হোক 

· Prothom Alo

মদ্যপান ও মাদক সেবন গুনাহের উৎস। মদ্যপান ও মাদক সেবন এমন পাপ, যা মানুষের জন্য অন্য সব পাপের দরজা খুলে দেয়। এটি হালাল–হারাম মেনে চলার বোধশক্তিকে নষ্ট করে দেয়। এ জন্যই সব ধরনের মদ, মাদক ও নেশাদ্রব্য ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ বা হারাম। মহানবী (সা.) বলেন, ‘যেকোনো পানীয় বা বস্তু নেশা সৃষ্টি করে, তা হারাম।’ (সহিহ বুখারি: ২৪১)

ধূমপান ও তামাক সেবন একসময় আসক্তি বা নেশায় পরিণত হয়। জাহান্নাম বা দোজখের তিনটি বৈশিষ্ট্য হলো আগুন, ধোঁয়া ও দুর্গন্ধ। এ তিনটির সমাহার ধূমপানের মধ্যেই দেখা যায়। মদ, মাদক, ধূমপান ও তামাক কেবল ব্যবহারকারীরই ক্ষতি করে না; বরং অন্যদেরও ব্যাপক ক্ষতির কারণ হয়। 

Visit asg-reflektory.pl for more information.

নিজের ক্ষতি করা যেমন জায়েজ নয়, তেমনি অন্যের ক্ষতি করার অধিকারও কারও নেই। ধূমপায়ী ব্যক্তি নিজের ক্ষতির পাশাপাশি আশপাশের অন্যদেরও ক্ষতি করে। এটি সম্পূর্ণ হারাম ও কবিরা গুনাহ। যাঁরা ধূমপান বা তামাক সেবন করেন, তাঁদের মুখ ও শরীর থেকে একধরনের উৎকট দুর্গন্ধ বের হয়, যা অন্য মানুষের কষ্টের কারণ হয়। এটিও হারাম ও নাজায়েজ।

মানুষ নিজের স্রষ্টা নয়, মালিকও নয়। আল্লাহ–তাআলাই সবকিছুর স্রষ্টা ও মালিক। মানুষ তার জীবন, সম্পদ, সম্মান, দেহ–প্রাণ ও প্রাপ্ত সব নিয়ামতের কেবল আমানতদার বা রক্ষণাবেক্ষণকারী মাত্র। তাই এমন কোনো কাজ, যা নিজের ক্ষতির কারণ হয়, তা ইসলামে নিষিদ্ধ ও হারাম।

আল্লাহ–তাআলা বলেন, ‘আর তোমরা নিজেদের হাতে নিজেদের ধ্বংসের মধ্যে নিক্ষেপ করো না। তোমরা সৎ ও উত্তম কাজ করো; নিশ্চয়ই আল্লাহ সৎকর্মপরায়ণদের ভালোবাসেন।’ (সুরা–২ বাকারা, আয়াত: ১৯৫)

এ ছাড়া নবীজি (সা.) কিছু পাত্র ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন, যেমন শুকনা লাউয়ের খোল, সবুজ (রং করা) কলসি ও আলকাতরার প্রলেপ দেওয়া পাত্র, যেগুলো সে সময় মদ সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত হতো। (সহিহ বুখারি: ৮৭)

পবিত্র শবে কদরসহ বিশেষ বিশেষ দিবস ও রজনীতে আল্লাহ–তাআলা ব্যাপকভাবে বান্দাদের ক্ষমা করে দেন। কিন্তু মদ্যপায়ী ও মাদকসেবীদের দোয়া কবুল হয় না। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, এই রাতে আল্লাহ–তাআলা সৃষ্টির প্রতি রহমতের দৃষ্টিতে তাকান, মুমিনদের ক্ষমা করে দেন এবং কাফির–মুশরিকদের তওবার সুযোগ দেন। কিন্তু মদ্যপায়ীদের মদ্যপান ত্যাগ না করা পর্যন্ত ক্ষমা করা হয় না। (বায়হাকি, শুআবুল ঈমান; কিতাবুস সুন্নাহ, খণ্ড–৩, পৃষ্ঠা: ৩৮২)

তবে শবে কদরেও কিছু মানুষের দোয়া কবুল হয় না। যেমন মদ্যপায়ী বা মাদকসেবী, মাদক ব্যবসায়ী, মাতা–পিতার অবাধ্য সন্তান, আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী, ইচ্ছাকৃতভাবে নামাজ ত্যাগকারী ও শরিয়তসম্মত কারণ ছাড়া কোনো মুসলমানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নকারী। (হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ; তাফসিরে কাশফুল আসরার, খণ্ড–১, পৃষ্ঠা: ৫৬৪)

ধূমপানে রোজা ভঙ্গ হয়। তাই ধূমপায়ীরাও পবিত্র রমজানে দিনের বেলায় ধূমপান করেন না। অনুরূপভাবে যাঁরা বিভিন্নভাবে তামাক সেবন করেন, তাঁরাও রোজা অবস্থায় তা করতে পারেন না। তাঁরা রমজানে প্রতিদিন দীর্ঘ সময় ধূমপান ও তামাক সেবন থেকে বিরত থাকেন। ধূমপান, তামাকসহ সব ধরনের মাদক বর্জনের জন্য পরবর্তী সময়েও রমজানের এই চর্চা অব্যাহত রাখতে হবে।

অধ্যক্ষ মুফতি মাওলানা শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী 

সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব, বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতি; সহকারী অধ্যাপক, আহ্ছানিয়া ইনস্টিটিউট অব সুফিজম

[email protected]

Read full story at source