জন্মদিনে আলিয়া ভাট: মা হওয়ার পর কীভাবে ফিরে পেলেন ফিটনেস
· Prothom Alo

বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী আলিয়া ভাট আজ ৩৩ বছরে পা রাখলেন। অভিনয়, ফ্যাশন এবং ব্যক্তিত্ব—সব মিলিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই তরুণ প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণার নাম।
Visit xsportfeed.quest for more information.
আলিয়া ভাটের ক্যারিয়ারের মতোই আলোচিত হয়েছে মা হওয়ার পর তার ফিটনেসে ফিরে আসার যাত্রা, যা অনেকের কাছেই বাস্তবসম্মত ও ইতিবাচক এক উদাহরণ।
শুরু থেকেই ফিটনেস সচেতন
View this post on Instagram
‘স্টুডেন্ট অব দা ইয়ার’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে অভিষেকের পর থেকেই আলিয়া ভাট নিজেকে ফিট ও সক্রিয় রাখতে গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। নিয়মিত শরীরচর্চা, স্বাস্থ্যকর খাবার এবং সুষম জীবনযাপন তার দৈনন্দিন অভ্যাসের অংশ।
২০২২ সালের নভেম্বরে কন্যাসন্তানের জন্ম দেন তিনি। মা হওয়ার পর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আবার কাজে ফিরে আসেন—র্যাম্পে হাঁটা থেকে শুরু করে নতুন ছবির শুটিং পর্যন্ত। এতে অনেকেই অবাক হয়েছিলেন। কেউ কেউ মনে করেছিলেন, দ্রুত ওজন কমাতে তিনি হয়তো শর্টকাট কোনো পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন। তবে আলিয়া নিজেই জানিয়েছেন, বাস্তবে বিষয়টি ছিল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক এবং ধীরে ধীরে করা একটি প্রক্রিয়া।
নিজের শরীরকে সময় দিয়েছেন
মা হওয়ার পর তিনি নিজের ওপর কোনো বাড়তি চাপ দেননি। বরং তিনি গর্ব অনুভব করেছেন যে তার শরীর একটি নতুন জীবনের জন্ম দিয়েছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী সন্তান জন্মের পর প্রথম ১২ সপ্তাহ তিনি শরীরকে বিশ্রাম দিয়েছেন এবং ধীরে ধীরে শরীরচর্চা শুরু করেছেন।
তিনি জানান, অনেকেই ভাবেন চলচ্চিত্র জগতের মানুষ দ্রুত ওজন কমাতে অস্বাভাবিক পদ্ধতি ব্যবহার করেন। কিন্তু তিনি সেই ধারণা ভাঙতেই নিজের ফিটনেস যাত্রার অনেকটা অংশ সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করেছিলেন।
গর্ভাবস্থায়ও ছিল নিয়মিত রুটিন
View this post on Instagram
গর্ভাবস্থার সময়ও তিনি স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে পুষ্টিকর খাবার খেয়েছেন এবং নিয়মিত হালকা ব্যায়াম করেছেন। সপ্তাহে ছয় দিন শরীরচর্চা তার অভ্যাসের মধ্যেই ছিল।
তবে একটি পরিবর্তন তিনি করেছিলেন—প্রতিটি ত্রৈমাসিকে তার ক্যালরি গ্রহণ প্রায় ১০ শতাংশ করে বাড়িয়েছিলেন, যাতে শরীর পর্যাপ্ত শক্তি পায়।
ধীরে ধীরে ফিরে পাওয়া ছন্দ
সন্তান জন্মের পর আলিয়া খুব সহজ কিছু অভ্যাস দিয়ে তার ফিটনেস যাত্রা শুরু করেন। প্রতিদিন ১৫ মিনিট হাঁটা এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম ছিল তার প্রথম ধাপ। এতে শরীরে রক্ত চলাচল বাড়ে এবং ধীরে ধীরে শক্তি ফিরে আসে।
আরেকটি বিষয় তিনি সচেতনভাবে এড়িয়ে চলেছিলেন—প্রতিদিন ওজন মাপা। তিনি মাত্র দুই সপ্তাহে একবার ওজন মাপতেন, যাতে অপ্রয়োজনীয় মানসিক চাপ না তৈরি হয়।
পরিবার, খাবার ও ভারসাম্য
View this post on Instagram
মা হওয়ার সময় বাড়তি ওজন নিয়ে দুশ্চিন্তা করার কোনো প্রয়োজন নেই—এ কথাও তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন। সেই সময়ে তিনি স্বামীর মা নীতু সিংয়ের বানানো লাড্ডুও কয়েক সপ্তাহ ধরে খেয়েছেন, কোনো দুশ্চিন্তা ছাড়াই।
আলিয়ার মতে, “সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ধারাবাহিকতা। শরীরকে সময় দিতে হবে, পরিবর্তন নিজে থেকেই আসবে।”
নতুন মায়েদের জন্য বার্তা
আলিয়া ভাটের অভিজ্ঞতা একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয়—মা হওয়ার পর শরীরকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার যাত্রা কোনো প্রতিযোগিতা নয়। ধৈর্য, নিয়মিতচর্চা এবং নিজের শরীরের প্রতি সম্মান—এই তিনটিই আসল চাবিকাঠি।
ফিটনেসের এই বাস্তব ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিই আজ আলিয়া ভাটকে শুধু একজন জনপ্রিয় অভিনেত্রী নয়, বরং অনেক নারীর কাছে অনুপ্রেরণার প্রতীক করে তুলেছে।