কারাবাও কাপ জিতে কি ‘রয়্যাল রান’ দেওয়ার রসদ পেল সিটি
· Prothom Alo
প্রিমিয়ার লিগের সেরা দুই দল নেমেছিল কারাবাও কাপ জেতার লড়াইয়ে। আর্সেনালের সামনে সুযোগ ছিল ২০২০ সালের পর প্রথম ট্রফি জিতে তাদের ‘কোয়াড্রপল’ (এক মৌসুমে চার শিরোপা) স্বপ্ন জিইয়ে রাখার। অন্যদিকে পেপ গার্দিওলার সামনে হাতছানি ছিল এই প্রতিযোগিতার ইতিহাসের সফলতম কোচ হওয়ার। লড়াইটা হলো সেয়ানে সেয়ানে, তবে শেষ হাসি গার্দিওলার ম্যানচেস্টার সিটিরই। নিকো ও’রাইলির জোড়া হেডে আর্সেনালকে বিষাদে ডুবিয়ে শিরোপা উৎসব করল সিটিজেনরা।
Visit mchezo.life for more information.
গতকালের এই ফাইনালের চারটি উল্লেখযোগ্য দিক:
দুই ‘রিজার্ভ’ গোলরক্ষকের বিপরীতমুখী ভাগ্য
দুর্দান্ত কিছু সেভ করেছেন সিটির গোলরক্ষক জেমস ট্র্যাফোর্ড।দুই কোচই তাঁদের নিয়মিত গোলরক্ষক দাভিদ রায়া ও জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মাকে বিশ্রামে রেখে কারাবাও কাপের শুরু থেকে খেলে আসা ব্যাক-আপ গোলরক্ষকদের ওপর ভরসা রেখেছিলেন। কিন্তু আর্সেনালের কেপা আরিজাবালাগার জন্য দিনটা ছিল ভুলে যাওয়ার মতো। তাঁর অস্থিরতা আর ভুল সিদ্ধান্তের চড়া মাশুল দিতে হয়েছে গানারদের। বিপরীতে জেমস ট্র্যাফোর্ড খুব বেশি ব্যস্ত না থাকলেও যখনই প্রয়োজন হয়েছে, অতন্দ্র প্রহরীর মতো সিটিকে বাঁচিয়েছেন।
আর্সেনালকে হারিয়ে মৌসুমের প্রথম শিরোপা সিটিরগার্দিওলার সেই পুরোনো ক্ষুধা
কারাবাও কাপে নিজের পঞ্চম শিরোপা জিতেছেন সিটি কোচ পেপ গার্দিওলা।পেপ গার্দিওলা সব সময়ই বলে এসেছেন, ইংল্যান্ডের ঘরোয়া কাপগুলোর প্রতি তাঁর আলাদা টান। বিশেষ করে ম্যানচেস্টার সিটিতে তিনি সাফল্যের খাতা খুলেছিলেন এই কারাবাও কাপ দিয়েই। গুঞ্জন আছে, মৌসুম শেষে ইতিহাদ ছাড়তে পারেন এই স্প্যানিশ মাস্টারমাইন্ড। হয়তো সে কারণেই নিকো ও’রাইলির গোলের পর ডাগআউটে গার্দিওলার উদ্যাপন ছিল দেখার মতো। বিজ্ঞাপন বোর্ডে লাথি মারা থেকে শুরু করে জোসে মরিনিওর মতো ভোঁ-দৌড়—গার্দিওলার এমন আগ্রাসী রূপ অনেক দিন দেখেনি ফুটবল বিশ্ব। কারাবাও কাপে নিজের পঞ্চম শিরোপা জয়টা যেন তাঁর জন্য এক পরম স্বস্তি।
বেঞ্চের শক্তিতেই কি এবার প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জিতবে আর্সেনালপ্লে-মেকারহীন আর্সেনালের কঙ্কালসার দশা
আর্সেনাল কোচ আরতেতার কৌশল কাজে দেয়নি ম্যাচে।মার্টিন ওডেগার্ড আর এবারিচি ইজের অনুপস্থিতি হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে আরতেতার দল। মাঝমাঠে সৃজনশীলতার অভাব ঢাকতে কাই হাভার্টজ আর ভিক্টর ইয়োকেরেসদের শারীরিক শক্তিকে পুঁজি করতে চেয়েছিল আর্সেনাল। কিন্তু গার্দিওলার কৌশলের কাছে সেই ছক বেশিক্ষণ টেকেনি। দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম ২০ মিনিট আর্সেনালকে স্রেফ নাচিয়ে ছেড়েছে সিটি। কোনো সৃজনশীল প্লে-মেকার ছাড়া আর্সেনালকে বড় অসহায় মনে হয়েছে, যারা চার শিরোপার স্বপ্ন দেখা দলের বদলে যেন কোনো আন্ডারডগ দল হিসেবে মাঠে নেমেছিল।
শিরোপা লড়াই কি নতুন মোড় নিল
কারাবাও কাপ জয়ের আত্মবিশ্বাস এখন লিগেও সিটি কাজে লাগাতে পারে কি না, সেটাই দেখার অপেক্ষা।প্রিমিয়ার লিগের পয়েন্ট টেবিলে আর্সেনাল এখনো ৯ পয়েন্টে এগিয়ে। তবে রোববারের এই হার গানারদের আত্মবিশ্বাসে বড় একটা নাড়া দিয়েছে। লিগে আর্সেনালের (৩১) চেয়ে এক ম্যাচ কম খেলেছে সিটি (৩০)। ইতিহাদ স্টেডিয়ামে আরও একবার আর্সেনালের মুখোমুখি হবে তারা। ওয়েম্বলির এই জয় সিটিকে সেই পুরোনো ‘রয়্যাল রান’ দেওয়ার রসদ জোগাবে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে আপাতত মনে হচ্ছে, লিগের শিরোপা লড়াইটা আবার জমে উঠল।
আর্সেনাল না ম্যান সিটি: পরের পাঁচটা ম্যাচ কোন দলের জন্য বেশি কঠিন