অ্যান্টিম্যাটার স্থানান্তরে সার্নের সাফল্য
· Prothom Alo

মহাবিশ্বের অন্যতম রহস্যময় উপাদান অ্যান্টিম্যাটারকে প্রথমবারের মতো সড়কপথে স্থানান্তর করতে সক্ষম হয়েছেন ইউরোপীয় পারমাণবিক গবেষণা সংস্থা সার্নের বিজ্ঞানীরা। এর ফলে ইউরোপের বিভিন্ন গবেষণাগারে অ্যান্টিম্যাটার সরবরাহের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে সার্নের পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফান উলমার জানিয়েছেন, কণাগুলো অক্ষত অবস্থায় ফিরে এসেছে, যা বিশাল সাফল্য। সার্ন ক্যাম্পাসে ১০ কিলোমিটার পথ ট্রাক চালিয়ে এই পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। আপাতদৃষ্টিতে এই দূরত্ব কম মনে হলেও এটি পদার্থবিজ্ঞানের ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা।
অ্যান্টিম্যাটারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, এটি সাধারণ পদার্থের সংস্পর্শে আসামাত্রই ধ্বংস হয়ে শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। ফলে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়া যায় না। সার্নের অ্যান্টিম্যাটার কারখানা বিশ্বের একমাত্র স্থান, যেখানে অ্যান্টিপ্রোটন তৈরি ও সংরক্ষণ করা যায়। কিন্তু এই কারখানার ভেতরের যন্ত্রপাতির কম্পন ও চৌম্বকীয় ওঠানামা সূক্ষ্ম পরিমাপের ক্ষেত্রে বাধা তৈরি করে।
Visit grenadier.co.za for more information.
বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, অ্যান্টিম্যাটার স্থানান্তরের জন্য ৯২টি অ্যান্টিপ্রোটনকে একটি বহনযোগ্য ক্রায়োজেনিক পেনিং ট্র্যাপে বন্দী করা হয়। এরপর কণার গতি কমাতে ৮ দশমিক ২ কেলভিন বা মাইনাস ২৬৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে শীতল করা হয়। ট্র্যাপের ভেতরে শক্তিশালী শূন্যস্থান নিশ্চিত করা হয়, যাতে কোনো অবশিষ্ট গ্যাসের অণুর সঙ্গে সংঘর্ষে অ্যান্টিপ্রোটনগুলো ধ্বংস না হয়। ৮৫০ কেজি ওজনের এ ট্র্যাপটি যখন ট্রাকে যাত্রা শুরু করে, তখন সবচেয়ে বড় ঝুঁকি ছিল রাস্তার কম্পন। ট্রাকের গায়ে লেখা ছিল অ্যান্টিম্যাটার ইন মোশন। স্টিফান উলমার তাঁর মুঠোফোনে একটি মনিটরের মাধ্যমে পুরো সময় কণার স্পন্দনের ওপর নজর রাখছিলেন। মনিটরে এম আকৃতির দুটি চূড়া নির্দেশ করছিল যে কণাগুলো অক্ষত আছে। যদি চূড়াটি একটিতে পরিণত হতো, তবে বোঝা যেত যে অ্যান্টিম্যাটার ধ্বংস হয়ে গেছে।
সার্নের পরবর্তী লক্ষ্য এই অ্যান্টিপ্রোটনকে জার্মানির ডুসেলডর্ফের মতো ইউরোপের দূরবর্তী গবেষণাগারগুলোতে পাঠানো। ডুসেলডর্ফে পৌঁছাতে প্রায় আট ঘণ্টা সময় লাগবে। পরীক্ষা কার্যক্রমের প্রধান ক্রিশ্চিয়ান স্মোরা জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় ধরে ট্র্যাপের সুপারকন্ডাক্টিং চুম্বককে ৮ দশমিক ২ কেলভিনের নিচে রাখা এবং গন্তব্যে পৌঁছানোর পর অ্যান্টিপ্রোটনগুলোকে অক্ষত অবস্থায় অন্য যন্ত্রে স্থানান্তর করাই হবে এখনকার প্রধান চ্যালেঞ্জ।
সূত্র: সায়েন্স অ্যালার্ট