চট্টগ্রামেও হামের লক্ষণ নিয়ে ১২ শিশু হাসপাতালে ভর্তি

· Prothom Alo

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাম ও হামজনিত নিউমোনিয়ার লক্ষণ নিয়ে ১২ শিশু ভর্তি হয়েছে। এসব রোগীকে শিশু ওয়ার্ডের পৃথক একটি কর্নারে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া অধিকাংশ রোগী কক্সবাজার অঞ্চলের বলে জানা গেছে। তাদের বয়স ১৫ মাসের কম।

সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডের আগের ডেঙ্গু কর্নারটিকে হাম কর্নারে পরিণত করা হয়েছে। নতুন ভর্তি হওয়া রোগীদের সেখানেই রাখা হয়েছে। ভর্তি হওয়া ১২ শিশুর মধ্যে ২ জনের বয়স ৬ মাসের কম, বাকিদের বয়স ৭ থেকে ১৫ মাসের মধ্যে। ওই কর্নারে অন্য কোনো রোগীকে রাখা হচ্ছে না।

Visit afsport.lat for more information.

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশুস্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ মুছা মিঞা প্রথম আলোকে বলেন, সাধারণত হামের লক্ষণ দেখেই প্রাথমিকভাবে রোগ শনাক্ত করে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে নমুনা পরীক্ষা করলে নিশ্চিত হওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে যাদের শনাক্ত করা হয়, তাদের বেশির ভাগের ক্ষেত্রেই পরে হাম ধরা পড়ে। হামের আলাদা ব্যবস্থা না থাকলেও রোগীদের আলাদা স্থানে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

হাম একটি সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা কাশি-হাঁচির মাধ্যমে দ্রুত ছড়ায়। জ্বর, সর্দি, কাশি ও চোখ লাল হওয়ার পর শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেয়। শিশুদের মধ্যে ঝুঁকি বেশি এবং জটিলতা হলে নিউমোনিয়াসহ অন্যান্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। সময়মতো এমএমআর টিকা গ্রহণই এ রোগ প্রতিরোধের প্রধান উপায়।

দাতা সংস্থাগুলোর একটি সূত্র বলছে, এ বছরের ৪ জানুয়ারি কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রথম হাম শনাক্ত হয়। ১০ জানুয়ারি ক্যাম্প এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়। বাংলাদেশ হামমুক্ত দেশ নয়, তবে টিকা কর্মসূচির কারণে হামের প্রকোপ কমে এসেছিল। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, অনেক শিশু নিয়মিত টিকা পাচ্ছে না। পাশাপাশি দেশে বেশ কয়েক বছর হাম ও রুবেলা টিকাদান কর্মসূচিও হয় না।

চট্টগ্রামে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের অধিকাংশ কক্সবাজারের অঞ্চলের বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন। তিনি বলেন, ‘এখনো নিশ্চিত করে হাম আমরা বলতে পারছি না, তবে রোগীদের আলাদা রাখা হয়েছে।’

Read full story at source