বাবর আলীর সামনে এবার ‘কালো পাহাড়’

· Prothom Alo

পর্বতারোহীদের কাছে ‘কালো পাহাড়’ নামেই পরিচিত মাউন্ট মাকালু। এই পাহাড়ে উঠতে গেলে সামনে পড়ে বরফের খাড়া ঢাল, সরু পথ আর আচমকা বদলে যাওয়া আবহাওয়া। এতে যেকোনো সময় পরিস্থিতি কঠিন হয়ে পড়ে পর্বতারোহীদের জন্য। নেপালের মহালাঙ্গুর হিমালয়ে অবস্থিত ৮ হাজার ৪৮৫ মিটার উচ্চতার এই পর্বতের চূড়া এবার ছুঁতে চান বাংলাদেশের পর্বতারোহী বাবর আলী।

বিশ্বে ৮ হাজার মিটার বা তার বেশি উচ্চতার পর্বত আছে মাত্র ১৪টি। এর মধ্যে চারটি শৃঙ্গ ইতিমধ্যে ছুঁয়েছেন বাবর আলী। ২০২৪ সালে একই অভিযানে এভারেস্ট ও লোৎসে জয়, ২০২৫ সালে অন্নপূর্ণা-১ আরোহণ এবং একই বছরে কৃত্রিম অক্সিজেন ছাড়াই মানাসলু জয় করেছেন তিনি। এই ধারাবাহিকতায় আট হাজার মিটার উচ্চতার পর্বতে মাকালু তাঁর পঞ্চম অভিযান হতে যাচ্ছে।

Visit afsport.lat for more information.

বাবর আলীর যাত্রা উপলক্ষে আজ শনিবার বেলা ১১টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে বাবর আলী তুলে ধরেন তাঁর নতুন অভিযানের ইতিবৃত্ত। সংবাদ সম্মেলনে বাবর আলী বলেন, ‘৮ হাজার মিটার উচ্চতার ১৪টি শৃঙ্গ জয় করার স্বপ্ন দীর্ঘদিন ধরে লালন করছি। সে লক্ষ্যেই ধাপে ধাপে এগোতে হচ্ছে। মাকালু লক্ষ্যের পথে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এটি কঠিন একটি পর্বত। খাড়া ঢাল, প্রবল বাতাস, সরু পথ—সব মিলিয়ে এটি আরোহীদের ভালোই পরীক্ষা নেয়। সেই চ্যালেঞ্জটা নিতে আমি প্রস্তুত।’

মাকালু অভিযানকে ব্যাখ্যা করে বাবর আলী আরও বলেন, ‘মাকালুকে কঠিন করে তুলেছে এর ওঠার পথটাই। এভারেস্টের মতো এখানে নির্দিষ্ট পথ বা প্রস্তুত–সহায়তা খুব একটা পাওয়া যায় না। অনেক জায়গায় প্রায় খাড়া বরফের ঢাল বেয়ে উঠতে হয়। আর মুহূর্তেই বদলে যেতে পারে আবহাওয়া। তাই এই পর্বতে ওঠা মানে শুধু শক্তি নয়; অভিজ্ঞতা, কৌশল আর মানসিক স্থিরতার প্রয়োজন হয় একসঙ্গে।’

বাবর আলীমাকালুকে কঠিন করে তুলেছে এর ওঠার পথটাই। এভারেস্টের মতো এখানে নির্দিষ্ট পথ বা প্রস্তুত সহায়তা খুব একটা পাওয়া যায় না। অনেক জায়গায় প্রায় খাড়া বরফের ঢাল বেয়ে উঠতে হয়।

অবশ্য এই বছরের শুরুতে বাবর আলীর লক্ষ্য ছিল পাকিস্তানের নাঙ্গা পর্বত। তবে অর্থসংকট এবং পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে বিদ্যমান উত্তেজনার কারণে পরিকল্পনা বদলাতে হয়েছে তাঁর। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই তিনি মাকালুকে নতুন লক্ষ্য হিসেবে বেছে নেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ৭ এপ্রিল মাকালু অভিযানের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়বেন বাবর আলী। নেপালের কাঠমান্ডু হয়ে টুমলিংটার পৌঁছে সেখান থেকে কয়েক দিনের ট্রেকিং শেষে বেজক্যাম্পে যাবেন তিনি। এরপর ধাপে ধাপে ক্যাম্পগুলোয় ওঠানামার মাধ্যমে শরীরকে উচ্চতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে। পুরো অভিযানে সময় লাগতে পারে প্রায় ৫০ দিন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে মে মাসের দ্বিতীয় বা তৃতীয় সপ্তাহে চূড়ায় ওঠার চেষ্টা করবেন তিনি।

মাউন্ট মাকালু অভিযানের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন বাবর আলী। আজ বেলা ১১টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে

পর্বতারোহণ ক্লাব ‘ভার্টিক্যাল ড্রিমার্স’ এই অভিযানের আয়োজন করেছে। সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন অভিযানের ব্যবস্থাপক ও ক্লাবটির সভাপতি ফরহান জামান। আরও উপস্থিত ছিলেন ক্লাবটির উপদেষ্টা শিহাব উদ্দীন এবং পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান ভিজ্যুয়াল নিটওয়ারস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ নুর ফয়সাল। অভিযানে পৃষ্ঠপোষক হিসেবে রয়েছে সামুদা স্পেক-কেম লিমিটেড, মাই হেলথ, চন্দ্রবিন্দু প্রকাশন এবং রহমানস গ্রোসারিজ। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে বাবরের হাতে জাতীয় পতাকা তুলে দেওয়া হয়।

বাবর আলীর পর্বতারোহণের শুরু পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ে। ২০১০ সালে ট্রেকিং দিয়ে যাত্রা শুরু। এরপর ধীরে ধীরে হিমালয়ের বিভিন্ন শৃঙ্গে অভিযান। ২০১৭ সালে ভারতের নেহরু ইনস্টিটিউট অব মাউন্টেনিয়ারিং থেকে প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর তাঁর পথচলা আরও সুসংগঠিত হয়। গত এক দশকে ছোট-বড় নানা শৃঙ্গ পেরিয়ে তিনি এখন আট হাজার মিটার উচ্চতার পর্বতের ধারাবাহিক অভিযাত্রী।

Read full story at source