রান্না করে মানসিক চাপ কমাতেন নানা
· Prothom Alo

‘সংকল্প’র মাধ্যমে ওটিটির দুনিয়ায় পা রাখছেন নানা পাটেকর। ওয়েব সিরিজটির ট্রেলার প্রকাশ উপলক্ষে গত বৃহস্পতিবার মুম্বাইয়ের এক অভিজাত ক্লাবে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে একদম ফুরফুরে মেজাজে ধরা দিয়েছিলেন এই বর্ষীয়ান অভিনেতা। স্পষ্টভাষী স্বভাবের জন্য পরিচিত নানা বলেন, ‘এই সিরিজে সাইন করার সময় আমাকে দুটি ভূমিকায় নেওয়া হয়েছিল। একটা তো এই অভিনয়, আর একটা ছিল শুটিং শেষ হওয়ার পর সবাইকে রান্না করে খাওয়ানো। এটা করতে আমার খুব ভালো লাগত।’
নানার কাছে রান্না করাটা মানসিক চাপ কমানোর উপায়। তিনি বলেন, ‘সারা দিনের যে চাপ থাকে, মানুষ যা টেনশন দেয়, সেটা ঝেড়ে ফেলতে সন্ধ্যায় ফিরে রান্না করা খুব ভালো একটা উপায়।’ পরিচালক প্রকাশ ঝাঁর উদ্দেশে মজার সুরে বলেন, ‘যদি কখনো কোনো চরিত্র না থাকে, তাহলে অন্তত রান্না করার জন্য তো আমাকে নিয়ো।’
Visit fishroad-app.com for more information.
ওটিটি প্রসঙ্গে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি জানাতে গিয়ে নানা পাটেকর বলেন, ‘ওটিটি হোক, টিভি হোক, নাটক হোক বা সিনেমা, আমার কাছে কোনো পার্থক্য নেই। কাজ তো কাজই। আলাদা আলাদা নাম দেওয়া হয়েছে বলে করতে হয়। তবে মাধ্যম দু-একটা আলাদা, আর তাদের কিছু সূক্ষ্ম পার্থক্য আছে। যেমন নাটকের আলাদা ধরন, টিভির আলাদা, ওটিটি, টিভি আর সিনেমারও আলাদা আলাদা ধরন আছে। সেই ছোট ছোট সূক্ষ্ম ব্যাপার যদি বুঝে নেওয়া যায়, তাহলে কাজটা অনেক সহজ হয়ে যায়।’
হিন্দি জানলে তোলপাড় ফেলে দিতাম
‘সংকল্প’র সূত্রে দীর্ঘ সময় পর আবার প্রকাশ ঝাঁর সঙ্গে জুটি বাঁধলেন নানা। আগে এই পরিচালকের রাজনীতি, অপহরণ ছবিতে কাজ করেছেন তিনি। পরিচালকের প্রশংসা করে নানা বলেন, ‘প্রকাশ ঝাঁর মতো পরিচালকের হাতে যদি নিজেকে সঁপে দেওয়া যায়, তাহলে কাজটা খুব সহজ হয়ে যায়।’
হিন্দি ভাষা নিয়ে নিজের দুর্বলতার কথাও অকপটে স্বীকার করেন নানা, ‘সত্যি বলছি, হিন্দি আমার নিজের ভাষা না। হিন্দি আমি যদি ভালো জানতাম, তাহলে তোলপাড় করে দিতাম। ভাঙা ভাঙা হিন্দিতে কথা বলার চেষ্টা করি। শুটিংয়ের সময় প্রকাশ আমাকে বলে, “তুই যা পারিস বলে যা, ডাবিংয়ের সময় ঠিক করে নেব।” আর ডাবিংয়ের সময় ও আমার সঙ্গে বসে। অন্যদের সঙ্গে বসে কি না জানি না, কিন্তু আমার সঙ্গে বসে। প্রতিটি শব্দ কীভাবে বলতে হবে, কোথায় কীভাবে উচ্চারণ করতে হবে, সবই ও আমায় বুঝিয়ে দেয়। এমনকি ওর সঙ্গে ঝগড়ার সময় যদি কোনো ভুল শব্দ বেরিয়ে যায়, তখনো ও বলে দেয়, না, এটা ঠিক নয়, এই শব্দটা এভাবে বলতে হবে। আমি তখন ওর কথামতো এগোই।’
প্রকাশ ঝাঁর আরেকটা গুণের কথাও বললেন নানা, ‘অভিনেতা হিসেবে আমার অনেক সীমাবদ্ধতা আছে, সেই পরিসরের মধ্যেই আমাকে রেখে ও কাজ করে। সব অভিনেতার খামতিগুলো খুব সুন্দর করে ঢেকে তাঁদের থেকে সেরাটা বের করে আনার এক দারুণ শক্তি ওর মধ্যে আছে।’
‘সংকল্প’–তে নানা পাটেকর। এক্স থেকেটুকটাক অভিনয় আমিও পারি
অভিনয়জগতে সাফল্যের পর অভিনেতাদের মধ্যে অহংকার তৈরি হওয়ার প্রবণতা নিয়েও সতর্ক করেন নানা। তিনি বলেন, ‘একটু সাফল্য পাওয়ার পর আমরা ভাবতে শুরু করি আমরা সব পেয়ে গেছি। মনে হয়, আমরা সব জানি। আমরা ভাবি আমাদের জন্যই সিনেমা চলে। কিন্তু আমাদের জন্য কিছুই হয় না। সব হয় গল্পের জন্য। আমাদের ছবির আসল হিরো বা হিরোইন যদি কেউ থাকে, সেটা হলো গল্প।’
নিজের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে যেসব পরিচালকের সঙ্গে কাজ করেছেন, তাঁদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান নানা পাটেকর।
তিনি বলেন, ‘আমি খুব ভাগ্যবান, আমার জীবনে যত পরিচালক এসেছেন, সবাই আমাকে অনেক কিছু দিয়েছেন। ‘পরিন্দা’ ছবিতে আমি মানুষের সামনে আসতে পেরেছিলাম বিধু বিনোদ চোপড়ার জন্য। এটা আমি অস্বীকার করতে পারি না।’ নানা আরও বলেন, ‘অনেকে বলতেন, নানার মুখে সংলাপ খুব ভালো লাগে। তখন আমি বলেছিলাম, চলুন দেখি, কথা না বলে অভিনয় করলে কেমন হয়। তাই আমি “খামোশি”–তে বোবা চরিত্রে অভিনয় করেছিলাম। এই চরিত্রে অভিনয় করতে আমার খুব মজা লেগেছিল। নিজেকে নতুনভাবে খুঁজে পাওয়ার একটা আলাদা সুযোগ ছিল সেটা। টুকটাক অভিনয় আমিও পারি।’
অ্যামাজন এমএক্স প্লেয়ার-এ গত ১১ মার্চ মুক্তি পাবে ‘সংকল্প’। সিরিজটিতে একজন শিক্ষকের চরিত্রে অভিনয় করেছেন নানা পাটেকর। গল্পে সেই শিক্ষকের ব্যক্তিগত জীবন যেমন উঠে এসেছে, তেমনি সমাজ, প্রশাসন আর রাজনীতির নানা দিকও তুলে ধরা হয়েছে।