নায়িকা হতে বাড়ি থেকে পালিয়ে ঢাকায়, প্রথম ছবিতেই বাজিমাত

· Prothom Alo

শিমলা প্রথম সিনেমা দিয়েই জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। ছবি: ফেসবুক থেকে

মৌসুমী ও সালমান শাহ অভিনীত ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ দেখার পর চলচ্চিত্রের নায়িকা হওয়ার ঝোঁক প্রবল হয়। বারবার দেখতে থাকেন পছন্দের সিনেমাটি। একসময় সিদ্ধান্ত নিয়েই নেন তাঁকেও নায়িকা হতে হবে। পরে তিনিই বাড়ি পালিয়ে নাম লেখান সিনেমায়। প্রথম সিনেমায় পেয়ে যান জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। তিনি নায়িকা শিমলা। গতকাল ছিল তার জন্মদিন।

শিমলা সেই সময়ের কথা মনে করে এর আগে প্রথম আলোকে বলেছিলেন, ‘আমি “কেয়ামত থেকে কেয়ামত” দেখে নায়িকা হয়েছি। সিনেমাটি দেখে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে সংলাপ নকল করতাম। মাকে বললাম, আমি নায়িকা হব। মা ভাবলেন, আমি পাগলটাগল হয়ে গেলাম মনে হয়, ভাবলেন আমার মাথা ঠিক নাই। পড়াশোনা গেল গোল্লায়। কোনোমতে এসএসসি পাস করে ইন্টারে ভর্তি হই। সিনেমার নেশায় এরপর আর পড়াশোনা হয়নি।’

Visit syntagm.co.za for more information.

তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাত থেকে পুরস্কার নিচ্ছেন শিমলা।‍ ছবি : শিমলার সৌজন্যে

কীভাবে নায়িকা হলেন শিমলা? সেই গল্পও যেন সিনেমার মতোই। কিশোরী শিমলা বড় ভাইকে সঙ্গে নিয়ে ঝিনাইদহ থেকে পালিয়ে ঢাকায় আসেন। পরিচিতজনের মাধ্যমে গুণী পরিচালক শহীদুল ইসলাম খোকনের সঙ্গে যোগাযোগ। তাঁর সাহস দেখে পছন্দ হয় পরিচালকের। তাঁকে সুযোগ দেন। এর পরেই সিনেমায় নাম লেখান। শহীদুল ইসলাম খোকন ‘ম্যাডাম ফুলি’ ছবিতে সুযোগ দেন। ছবিটি মুক্তির পর শিমলা পরিচিত হয়ে ওঠেন। প্রথম ছবিতে অর্জন করেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।

‘ম্যাডাম ফুলি’ সিনেমা দিয়ে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়ার পরে ক্যারিয়ারে আর কোনো বাধা থাকেনি। পরে ‘পাগলা ঘণ্টা’, ‘ভেজা বেড়াল’সহ বেশ কিছু সিনেমা দিয়ে ঢালিউডে জায়গা শক্ত হয়। অল্প সময়েই ৩৫টির মতো ছবিতে অভিনয় করেছেন শিমলা। পরবর্তী সময়ে ২০১৫ সালের পর থেকে দেশের সিনেমায়ও অনিয়মিত।
সমসাময়িক তারকাদের তুলনায় শিমলা অভিনীত ছবির সংখ্যা অনেক কম। বিষয়টিকে তিনি ভাগ্যের লিখন বলেই জানালেন। শিমলা বলেন, ‘আমার সময় পরিচালকেরা অন্য ব্যস্ত শিল্পীদের নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। তাঁরা আমাকে নিয়ে ভাবার সময় হয়তো পাননি। তাই যত বেশি কাজ করা উচিত ছিল, তা করা হয়নি।

অভিনেত্রী শিমলা

তবে ভালো ক্যারিয়ার নিয়ে খুব একটা ভাবেননি। কখনো শীর্ষেও যেতে চাননি। নিয়মিত কাজ করে যেতে চেয়েছেন। জানালেন, কম কাজের কারণ; অনেক সময় তিনি পছন্দমতো চরিত্র পাননি। এসবে মোটেও বিচলিত নন। তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘আমাকে দর্শকেরা “ম্যাডাম ফুলি” নামে বেশি চেনে। একটি চরিত্র হয়ে দর্শকহৃদয়ে বেঁচে থাকতে পারাটা একজন শিল্পীর অনেক বড় পাওয়া।’

সর্বশেষ কাজ নিয়ে এই অভিনেত্রী ২০২০ সালের দিকে জানিয়েছিলেন, ঢালিউড থেকে বলিউডে যাচ্ছেন। এ জন্য তিনি বেশ কয়েক বছর মুম্বাইয়ের মীরা রোডের একটি বাড়িতে ছিলেন। বলিউডে কাজ করার স্বপ্ন নিয়েই যাওয়া। সেই সময়ে বলেছিলেন ‘সফর’ নামের একটি ছবিতেও অভিনয় করবেন। কিন্তু পরে আর সিনেমাটি নিয়ে কিছু জানা যায়নি। এর এক বছর পরেই তিনি ঢালিউডে আলোচিত হন ‘নিষিদ্ধ প্রেমের গল্প’ সিনেমায় অভিনয় করে। সিনেমাটি সেন্সরেও আটকে যায়। এতে এক কিশোরের সঙ্গে তাঁকে প্রেম করতে দেখা যায়। বেশ কিছু দৃশ্য নিয়ে বিতর্কও হয়। এটিই ছিল তাঁর প্রধান চরিত্রে অভিনয় করা সর্বশেষ সিনেমা।

নৌকা থেকে ধানের শীষে, শিমলা বললেন, ‘আমাকে নিয়ে নয়-ছয় বলবেন না’অভিনেত্রী শিমলা

আলোচনার বাইরে থাকা এই নায়িকা এবার নির্বাচনের সময় হঠাৎ করেই রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত হন। কারণ, এক বছর আগেও যিনি আওয়ামী লীগের নৌকার মনোনয়ন নিতে সরাসরি দলীয় কার্যালয়ে গিয়েছিলেন, এবার তাঁকেই দেখা যায় ধানের শীষের নির্বাচনী প্রচারণায়। প্রতীক বদলে মাঠে নামা এই নায়িকার অবস্থান নিয়ে ভোটের মাঠের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে বিস্তর আলোচনা।

সমালোচনা নিয়ে শিমলা গণমাধ্যমে বলেছিলেন, ‘আমি মোটেও ভোল পাল্টাইনি। আমি একজন শিল্পী, এটাই আমার সবচেয়ে বড় পরিচয়। আর আমি যে কারও জন্য ভোট চাইতে পারি। এমনকি যেকোনো দলের হয়ে নির্বাচনে লড়ার আগ্রহও প্রকাশ করতে পারি—এটাতে মোটেও কোনো সমস্যা দেখছি না। একটা কথা আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই, আমি কোনো দলের কর্মী নই। শিল্পী হিসেবে আমি সবার। যাকে মন চাইবে, আমি তার জন্য ভোট চাইব।’

ধানের শীষের প্রচারণায় শিমলা

Read full story at source