এসএমই বৈশাখী মেলায় ভিড়ের সঙ্গে বিক্রিবাট্টাও বেড়েছে

· Prothom Alo

পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) ফাউন্ডেশন আয়োজিত বৈশাখী মেলায় আজ মঙ্গলবার দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। সে সঙ্গে ব্যবসাও ভালো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মেলায় অংশ নেওয়া অধিকাংশ উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী। তাঁদের দাবি, প্রথম দুই দিনের তুলনায় আজ দর্শনার্থী বেশি হওয়ায় বিক্রিও বেড়েছে।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র প্রাঙ্গণে প্রথমবারের মতো এ বৈশাখী মেলার আয়োজন করে এসএমই ফাউন্ডেশন। সরেজমিনে আজ বেলা ১১টার দিকে মেলা প্রাঙ্গণে চোখে পড়ে টিকিট কাউন্টারে লম্বা লাইন। প্রচণ্ড গরমেও অনেককে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। অনেকে পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে মেলার আয়োজন দেখতে এসেছেন। তাঁদের একটি অংশ স্টলে স্টলে ঘুরে পছন্দ অনুযায়ী পণ্য কিনছেন। অনেকে আবার মেলা প্রাঙ্গণে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, সঙ্গে ছবি তুলছেন। কেউ কেউ খাবারের দোকানে দেশীয় খাবারের স্বাদ নিচ্ছেন।  

Visit sport-tr.bet for more information.

মেলায় আগত দর্শনার্থীদের বেশি ভিড় চোখে পড়ে বিভিন্ন গয়না, খাবার, পোশাক ও ভিন্নধর্মী পণ্যের স্টলে। তেমনি একটি ভিন্নধর্মী গয়নার স্টল ‘আট কুঠুরি নয় দরজা’। এই স্টলে রয়েছে নেকলেস, চুড়ি, কানের দুল, আংটি, জুয়েলারি বাক্সসহ বিভিন্ন পণ্য। সব মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটি ৪০০ শতাধিক নকশার ২৬ ধরনের গয়না নিয়ে মেলায় অংশ নিয়েছে।

আট কুঠুরি নয় দরজা গতকাল সোমবার মেলায় প্রায় ৬০ হাজার টাকার গয়না বিক্রি করেছে, এমন তথ্য দিলেন প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী হাফসা মোসলেম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আজ দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৩০ হাজার টাকার বেশি গয়না বিক্রি করেছি। আশা করছি, আজ এক লাখ টাকার গয়না বিক্রি করতে পারব।’

মেলায় বিক্রি বেড়েছে
মেলায় অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠান অরগানিক শস্যভান্ডার বিক্রি করছে পাহাড়ি চাল, পেঁপে, কাঁঠাল, হলুদ, মরিচসহ বিভিন্ন পণ্যে। এসব পণ্য বান্দরবান ও মানিকগঞ্জ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রায় ৬০ ধরনের বেশি পণ্য নিয়ে মেলায় অংশ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। একটু ভিন্নধর্মী হওয়ায় ক্রেতাদের ভিড় দেখা যায় এ স্টলের সামনে।

অরগানিক শস্যভান্ডারের সহকারী সমন্বয়ক দেবব্রত বর্মণ বলেন, মেলায় প্রথম দিন ৪ হাজার টাকা ও দ্বিতীয় দিন প্রায় ১৭ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। আজ দুপুর ১২টার আগেই ১০ হাজার টাকার বেশি বিক্রি হয়েছে।

ঘর সাজানোর বিভিন্ন শোপিস বিক্রির প্রতিষ্ঠান ‘দেয়াল কাব্য’ মেলায় অংশ নিয়েছে। শিল্পী দম্পতি সৈয়দ সাবের ও লুবনা হাবিব মিলে প্রায় দুই বছর আগে এ উদ্যোগ শুরু করেন। তাঁরা কাঠ, মাটি, জিপসাম ও রেসিন দিয়ে শোপিস তৈরি করেন। প্রথম ২ দিনে প্রায় ২৩ হাজার টাকা বিক্রি করে প্রতিষ্ঠানটি।

দেয়াল কাব্যের উদ্যোক্তা লুবনা হাবিব বলেন, আজ সকাল থেকে গতকালের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি ক্রেতা এসেছে। আজ প্রথম ৫ ঘণ্টায় ৫ হাজার টাকার বেশি বিক্রি হয়েছে।

কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, মেলায় বেশ কিছু বিদেশি পণ্যের স্টল রয়েছে। এসব বিদেশি পণ্যের দাম কিছুটা কম। ফলে ক্রেতাদের আগ্রহ সেখানে বেশি।

মেলায় বিভিন্ন ধরনের পাটজাত পণ্য নিয়ে অংশ নিয়েছে ইকো সোর্স বাংলাদেশ। এ স্টলে পাট দিয়ে তৈরি ঝুড়ি, টেবিল রানার, প্লেসম্যাটসহ প্রায় ২৫ ধরনের পণ্য রয়েছে। মেলার শুরু থেকে আজ দুপুর পর্যন্ত ৫০ হাজার টাকার বেশি পণ্য বিক্রি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

ইকো সোর্স বাংলাদেশের স্বত্বাধিকারী আফজাল হোসেন বলেন, মেলায় সব মিলিয়ে প্রায় ৪ লাখ টাকার মতো পণ্য বিক্রির আশা রয়েছে।

মেলায় আরও রয়েছে হস্ত ও কারুশিল্প পণ্য, পাটজাত পণ্য, তৈরি পোশাক, কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য, গয়না, চামড়াজাত পণ্য, ঐতিহ্যবাহী পণ্য, প্রস্তুত খাবার ও স্ট্রিট ফুড এবং সুগন্ধি ও লাইফস্টাইলের বিভিন্ন ধরনের পণ্যের স্টল। আজ বিকেলে দর্শনার্থীদের জন্য সোহান আলী, প্রজন্ম (নৃত্য পরিবেশনা) ওশান মিউজিক ক্রু, নৃত্য ছায়া ও বাউল সংগীত পরিবেশনা হওয়ার কথা রয়েছে।

এসএমই ফাউন্ডেশন আয়োজিত বৈশাখী মেলার টিকিট কাউন্টারে দর্শনার্থীদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টায়।

পাঁচ ঘণ্টায় ২০ হাজার দর্শনার্থী
প্রথমবারের মতো আয়োজিত এই এসএমই বৈশাখী মেলায় ১৫০টি স্টল রয়েছে। এ ছাড়া মেলার পাশেই আছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের প্রায় ৩০টি খাবারের দোকান।
আজ মেলা শুরু হয় সকাল আটটায়। শুরুতে চারটি টিকিট কাউন্টার থাকলেও ভিড় বাড়ায় আরও দুইটি টিকিট কাউন্টার খোলা হয়।

আয়োজকেরা জানান, মেলায় গতকাল প্রায় ১২ হাজার দর্শনার্থী আসে। আজ প্রথম ৫ ঘণ্টায় প্রায় ২০ হাজার দর্শনার্থী এসেছেন। সব মিলিয়ে প্রায় এক লাখ দর্শনার্থীর জন্য টিকিটের ব্যবস্থা রয়েছে বলে জানান আয়োজকেরা।

মেলার ব্যবস্থাপনা নিয়ে অনেক দর্শনার্থীর ক্ষোভ রয়েছে। পর্যাপ্ত এয়ার কন্ডিশন ব্যবস্থা না থাকায় গরমে হাঁসফাঁস করতে দেখা যায় অনেক দর্শনার্থীকে। টিকিটের বুথ কম হওয়ায় মেলায় আশা দর্শনার্থীদের দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

মেলায় প্রবেশের জন্য প্রতিদিন ৩০ টাকা মূল্যের টিকিট কাটতে হবে। তবে কেউ যদি লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কাটতে না চান, তাঁদের জন্য রয়েছে এক্সপ্রেস টিকিট। এই টিকিটের মূল্য ২০০ টাকা। এ ছাড়া থাকবে ফ্রি পার্কিং সুবিধা। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত এ মেলা চলবে। এই বৈশাখী মেলা চলবে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত।

Read full story at source