সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আইজিপির বক্তব্য নিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের ব্যাখ্যা
· Prothom Alo

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির গত সোমবার দুপুরে রাজধানীর মালিবাগে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সদর দপ্তর পরিদর্শনে গিয়ে বলেছিলেন, ‘শতকরা ৯৯ ভাগ পুলিশ সদস্য সৎ ও দায়িত্বশীল’। আইজিপির এই বক্তব্য নেতিবাচকভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
Visit moryak.biz for more information.
বুধবার পুলিশ সদর দপ্তর এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছে, আইজিপির বক্তব্য মূলত ‘বার্ষিক তথ্য’ বা একটি নির্দিষ্ট সময়ে কতজন সদস্য সুশৃঙ্খল থাকছেন, তার ওপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়েছে। গত চার বছরের (২০২২-২০২৫) প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, পুলিশ সদর দপ্তরের গৃহীত ও অনুসন্ধানে আসা মোট অভিযোগের সংখ্যা ছিল ৭ হাজার ৮৮২।
আর বর্তমানে মোট পুলিশ সদস্যের সংখ্যা ২ লাখ ১৮ হাজার ৫৫৪। এতে গড় বার্ষিক অভিযোগ দাঁড়ায় ১ হাজার ৯৭০ দশমিক ৫টি এবং বার্ষিক অভিযোগে জড়িত হওয়ার হার দশমিক ৯০ ভাগ। এতে প্রতীয়মান হয় যে, যেকোনো বড় সংস্থায় ১ ভাগ বা তার কম সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকা অত্যন্ত স্বাভাবিক এবং এটি একটি সুশৃঙ্খল বাহিনীর পরিচায়ক। এই হার নির্দেশ করে যে বাহিনীর অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কার্যকর।
অপর দিকে অভিযোগের প্রকারভেদ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সব অভিযোগই সরাসরি দুর্নীতি সম্পর্কিত নয়। যেমন পারিবারিক সমস্যা বা অদক্ষতা সরাসরি অসততা নয়, বরং ব্যক্তিগত বা কৌশলগত সীমাবদ্ধতা। এগুলো বাদ দিলে প্রকৃত অসততা বা দুর্নীতির হার আরও অনেক কমে আসবে, যা প্রায় দশমিক ৭০ ভাগ এর নিচে।
পুলিশ সদর দপ্তরের ব্যাখ্যায় বলা হয়, জনমনে ধারণা এবং পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে প্রতীয়মান হয় যে ২ লাখ ১৮ হাজার পুলিশ সদস্যের মধ্যে ২ হাজার সদস্য যখন কোনো ভুল করেন, তখন সেই ক্ষুদ্র অংশটির কারণে জনগণের মনে বিরূপ ধারণা জন্মে। কিন্তু পরিসংখ্যান বলছে, বাহিনীর সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যই নিরবচ্ছিন্নভাবে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। আইজিপি তাঁর বক্তব্যে এই বিষয়টিই বোঝাতে চেয়েছেন।