কম্পিউটার যন্ত্রাংশে শুল্ক হ্রাসের প্রস্তাব

· Prothom Alo

ঢাকার আগারগাঁওয়ের রাজস্ব ভবনে গতকাল জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রাক্-বাজেট আলোচনায় দুই দফায় আটটি সংগঠন তাদের প্রস্তাবনা তুলে ধরে।

দেশের মোট জনসংখ্যার ৯ শতাংশ এখন কম্পিউটার ব্যবহার করেন। একেকটি কম্পিউটারের দাম ৬০ থেকে ৬৫ হাজার টাকা। তাই কম্পিউটারকে শিক্ষাসামগ্রী হিসেবে বিবেচনা করে এর যন্ত্রাংশ আমদানিতে শুল্ক কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস)। তারা বলেছে, শুল্ক কমিয়ে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনলে দেশে কম্পিউটারের ব্যবহার বাড়বে।

Visit asg-reflektory.pl for more information.

ঢাকার আগারগাঁওয়ের রাজস্ব ভবনে গতকাল শনিবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রাক্-বাজেট আলোচনায় বিসিএস এ প্রস্তাব দেয়। এদিন দুই দফায় আটটি সংগঠন তাদের প্রস্তাবনা এনবিআরের কাছে তুলে ধরে। জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বিভিন্ন প্রস্তাব পূরণের আশ্বাস দেন।

বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির (বিসিএস) সভাপতি মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে মনিটর আমদানিতে ৪০ শতাংশ শুল্ক দিতে হয়। এ ছাড়া ফায়ার ওয়াল যন্ত্রপাতিতে ৪০ শতাংশ ও এসএসডিতে ৬০ শতাংশ শুল্ক দিতে হয়। এসব শুল্কহার কমিয়ে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা উচিত। তাহলে বেকার যুবকদের ফ্রিল্যান্স শিখিয়ে কাজে লাগানো যাবে।

এ সময় পুরোনো ল্যাপটপ আমদানিতে হয় অনুমতি প্রদান অথবা বিধিনিষেধ ভালোভাবে কার্যকর করার দাবি জানানো হয়।

জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, দীর্ঘসময় শুল্ক ছাড় দেওয়া হয়েছিল। স্কুলে ল্যাব করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কয়টা কাজে লেগেছে? বরং একটা ক্লাসরুম বন্ধ করে সমস্যায় ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ করে স্কুলগুলো।

আলোচনায় অংশ নিয়ে নারী উদ্যোক্তাদের সংগঠন উইমেন এন্টারপ্রেনিউর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ নারীদের জন্য সুযোগ–সুবিধা বৃদ্ধির দাবি জানায়। সংগঠনটির সভাপতি নাসরিন ফাতেমা আউয়াল নারী উদ্যোক্তাদের জন্য তিন থেকে পাঁচ বছরের জন্য কর অবকাশসুবিধা ও করবিষয়ক প্রশিক্ষণ আয়োজনের দাবি জানান। তিনি নারী উদ্যোক্তাদের জন্য কাঁচামাল আমদানিতে সুবিধা ও কম সুদে ঋণের ব্যবস্থা করার দাবি জানান।

এ সময় নারী উদ্যোক্তাদের জন্য নির্দিষ্ট ভ্যাট হার চালুর প্রস্তাব দেন এনবিআর চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ‘তখন আপনাদের আর ভ্যাট রিটার্ন জমা দিতে হবে না। ভ্যাট নিবন্ধন বাড়াতে আইনে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হবে।’

অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে করারোপের প্রস্তাব

উচ্চ আয়ের করদাতাদের করহার বাড়ালে পুঁজি পাচার বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সভাপতি কামরান টি রহমান। তিনি বলেন, এতে সৎ করদাতারা নিরুৎসাহিত হবেন। এক কোটির বেশি টিআইএন থাকলেও রিটার্ন জমা দিচ্ছেন অর্ধেকের কম। এটা বড় দুর্বলতা। তাই করহার না বাড়িয়ে আওতা বাড়ালে তা অধিক কার্যকর হবে।

কামরান টি রহমান কর আহরণ বাড়াতে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে ন্যূনতম ১০০ থেকে ১ হাজার টাকা করারোপের প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রায় ৯০ শতাংশ অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের ওপর নির্ভরশীল। তাই তাদের করের আওতায় না আনা গেলে জাতীয় কর-জিডিপির অনুপাত বাড়ানো প্রায় অসম্ভব। এ সময় এনবিআরকে দুই ভাগ করার বিষয়ে সর্বশেষ অবস্থা জানতে চান তিনি। জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, সরকার এই সংস্থাকে দুই ভাগ করার অবস্থান থেকে সরে আসেনি। তবে এটাকে আরেকটু গভীরভাবে খতিয়ে দেখতে চাইছে সরকার।

এমসিসিআইয়ের পরিচালক হাসান মাহমুদ করপোরেট কর আড়াই শতাংশ কমানোর দাবি জানান। ন্যূনতম করহার থাকা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের প্রতিনিধি মো. নাজিমুদ্দিন বলেন, অপটিক্যাল ফাইবারে ৬৫ শতাংশ শুল্ক দিতে হয়। ঘরে ঘরে ইন্টারনেট সংযোগ ছড়িয়ে দিতে এই হার কমানো উচিত।

বাংলাদেশ টাওয়ারকো অ্যাসোসিয়েশন এ খাতে ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। সংগঠনটির প্রতিনিধি মো. রবিউল আলম বলেন, বাংলাদেশে ২৫ হাজার টাওয়ার রয়েছে। এখাতে ভ্যাট প্রত্যাহার করা উচিত। টাওয়ার স্থাপনের যন্ত্রপাতি আমদানিতে শুল্ক কমানোর দাবি জানান তিনি।

গতকালের প্রাক্–বাজেট আলোচনায় রাজশাহী, বরিশাল ও জয়পুরহাট জেলা চেম্বারের পক্ষ থেকেও করছাড় চেয়ে বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।

Read full story at source