ক্ষমা করার পদ্ধতি শেখায় কোরআনের ১০ আয়াত
· Prothom Alo

ক্ষমা কেবল একটি মানবিক গুণ নয়, এটি একটি মহৎ আত্মিক শক্তি। আমাদের চারপাশে অনেকেই হয়তো আমাদের সঙ্গে রূঢ় আচরণ করেন বা কষ্ট দেন। সেই কষ্ট মনে পুষে রেখে প্রতিহিংসা পরায়ণ হওয়ার চেয়ে ক্ষমা করে দেওয়া অনেক বেশি সম্মানের।
Visit betsport.cv for more information.
পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ ক্ষমাশীলতার যে অনন্য শিক্ষা দিয়েছেন, তার ১০টি বিশেষ দিক তুলে ধরা হলো:
১. ক্ষমাশীলদের জন্য আল্লাহর ভালোবাসা
প্রতিশোধ নেওয়ার সামর্থ্য থাকার পরও যারা রাগ নিয়ন্ত্রণ করে মানুষকে ক্ষমা করেন, তাঁরাই প্রকৃত সৎকর্মশীল।
উচ্চারণ: ওয়াল কাযিমিনাল গাইযা ওয়াল আফিনা আনিন নাস, ওয়াল্লাহু ইউহিব্বুল মুহসিনিন।
অর্থ: যারা ক্রোধ সংবরণ করে এবং মানুষকে ক্ষমা করে দেয়। আর আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন। (সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৩৪)
২. আল্লাহর ক্ষমা পেতে মানুষকে ক্ষমা করা
আমরা নিজেরা যখন সব সময় স্রষ্টার কাছে ক্ষমার প্রত্যাশী, তখন আমাদেরও উচিত অন্য মানুষের ভুলগুলোকে উদারচিত্তে ক্ষমা করে দেওয়া।
উচ্চারণ: ওয়াল ইয়া'ফু ওয়াল ইয়াসফাহু, আলা তুহিব্বুনা আই ইয়াগফিরাল্লাহু লাকুম।
অর্থ: তারা যেন ক্ষমা করে এবং উপেক্ষা করে। তোমরা কি চাও না যে আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করুন? (সুরা নুর, আয়াত: ২২)
৩. ক্ষমার পুরস্কার আল্লাহর কাছে
আঘাতের বদলে পাল্টা আঘাত করার চেয়ে ক্ষমা করে বিবাদ মিটিয়ে ফেলাই শ্রেষ্ঠ কাজ। এর প্রতিদান স্বয়ং আল্লাহ নিজ হাতে দেবেন।
উচ্চারণ: ফামান আফা ওয়া আসলাহা ফা আজরুহু আলাল্লাহ।
অর্থ: কিন্তু যে ক্ষমা করে এবং সংশোধন করে, তার পুরস্কার আল্লাহর কাছে। (সুরা শুরা, আয়াত: ৪০)
৪. ধৈর্য ও ক্ষমা বীরত্বের পরিচয়
অন্যায় বা অপমান সহ্য করে ধৈর্য ধরা এবং ক্ষমা করতে পারাটা কোনো দুর্বলতা নয়, বরং এটি দৃঢ় সংকল্প ও বীরত্বের পরিচায়ক।
উচ্চারণ: ওয়া লামান সাবারা ওয়া গাফারা ইন্না যালিকা লামিন আযমিল উমুর।
অর্থ: আর যে ধৈর্য ধরে এবং ক্ষমা করে, নিশ্চয়ই এটা দৃঢ় সংকল্পের কাজ। (সুরা শুরা, আয়াত: ৪৩)
৫. ক্ষমা ও অজ্ঞদের এড়িয়ে চলা
তর্কে না জড়িয়ে ক্ষমার নীতি অবলম্বন করা এবং মূর্খদের এড়িয়ে চলা সুন্দর ব্যক্তিত্বের লক্ষণ।
উচ্চারণ: খুযিল আফওয়া ওয়া'মুর বিল উরফি ওয়া আ'রিদ আনিল জাহিলীন।
অর্থ: তুমি ক্ষমার নীতি অবলম্বন করো, সৎকাজের আদেশ দাও এবং মূর্খদের এড়িয়ে চলো। (সুরা আরাফ, আয়াত: ১৯৯)
৬. সুন্দরভাবে ক্ষমা করা
ক্ষমা কেবল মৌখিকভাবে নয়, বরং মনের গহীন থেকে সুন্দরভাবে ও হাসিমুখে করা উচিত। মনে কোনো তিক্ততা রাখা উচিত নয়।
উচ্চারণ: ফাসফাহিস সাফহাল জামিল।
অর্থ: সুতরাং তুমি সুন্দরভাবে ক্ষমা করো। (সুরা হিজর, আয়াত: ৮৫)
৭. কোমল হৃদয়ের প্রভাব
কঠোরতা মানুষকে দূরে সরিয়ে দেয়, আর কোমলতা ও ক্ষমাশীলতা মানুষকে কাছে টানে। রাসুল (সা.)-এর জীবনের অন্যতম শিক্ষা এটিই।
উচ্চারণ: ফা'ফু আনহুম ওয়াস তাগফির লাহুম।
অর্থ: সুতরাং তাদের ক্ষমা করো এবং তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো। (সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৫৯)
৮. মন্দের জবাব মঙ্গলের মাধ্যমে
কেউ আপনার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করলে আপনি তার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করুন। এই উদারতা শত্রুকেও পরম বন্ধুতে পরিণত করতে পারে।
উচ্চারণ: ইদফা' বিল্লাতি হিয়া আহসানুস সাইয়্যিআহ।
অর্থ: তুমি মন্দের মোকাবিলা করো উত্তম দ্বারা। (সুরা মুমিনুন, আয়াত: ৯৬)
৯. আল্লাহর ক্ষমাশীলতা থেকে শিক্ষা
আল্লাহ নিজে অসীম ক্ষমতার অধিকারী হয়েও আমাদের ক্ষমা করেন। তাঁর গুণাবলি ধারণ করে আমাদেরও উচিত ক্ষমাশীল হওয়া।
উচ্চারণ: ইন তুবদু খাইরান আও তুখফুহু আও তা'ফু আন সুইন ফাইন্নাল্লাহা কানা আফুওওয়ান কাদিরা।
অর্থ: তোমরা যদি কোনো ভালো কাজ প্রকাশ করো অথবা গোপন রাখো কিংবা কোনো মন্দ ক্ষমা করে দাও, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, ক্ষমতাবান। (সুরা আন-নিসা, আয়াত: ১৪৯)
১০. অনুতপ্তকে ফিরিয়ে না নেওয়া
কেউ নিজের ভুল বুঝতে পেরে ফিরে এলে তাকে সাদরে গ্রহণ করা এবং নতুন করে সুযোগ দেওয়া প্রকৃত মহানুভবতা।
উচ্চারণ: ইন্নাল্লাহা হুওয়াত তাওওয়াবুর রাহিম।
অর্থ: নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু। (সুরা তাওবা, আয়াত: ১১৮)
পরিশেষে, ক্ষমা করার অর্থ এই নয় যে আমরা অন্যায়ের কাছে হার মানছি; বরং এর অর্থ হলো আমরা নিজেদের অন্তরকে ঘৃণা ও অস্থিরতা থেকে মুক্ত রাখছি। আল্লাহ আমাদের সবাইকে ক্ষমা করার মতো বিশাল হৃদয় দান করুন। আমিন।
সাধারণ পাঠকদের সুবিধার্থে এখানে বাংলা উচ্চারণ দেওয়া হয়েছে। তবে বিশুদ্ধ উচ্চারণের জন্য মূল আরবি আয়াতের সাহায্য নেওয়া বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণ করা বাঞ্ছনীয়।
সম্পদের সঠিক ব্যবহার শেখায় কোরআনের ১০ আয়াত