মস্তিষ্ক যেভাবে নিজের সম্পর্কে ধারণা তৈরি করে

· Prothom Alo

‘নো দাইসেলফ’ বা নিজেকে জানো। গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিস জানিয়েছেন, জ্ঞানের চূড়ান্ত পর্যায় হলো নিজেকে জানা। এখান থেকেই জ্ঞানের শুরু, আবার এখানেই জ্ঞানের সমাপ্তি। নিজেকে জানার মতো গুরুত্বপূর্ণ আর কিছুই নেই। আমরা যা কিছু পড়ি, লিখি বা ভাবি, এই সবকিছুর চূড়ান্ত উদ্দেশ্য হলো নিজের সম্পর্কে ধারণা লাভ করা বা প্রতিনিয়ত সেই ধারণাকে স্পষ্ট করা। কিন্তু আমাদের মস্তিষ্কে কীভাবে নিজের সম্পর্কে ধারণা তৈরি হয়?

Visit h-doctor.club for more information.

আমরা সব সময় মনে করি, আজকের আমি, গতকালের আমি বা আগামীকালের আমি—সবই এক ও অভিন্ন ব্যক্তি। কিন্তু বাস্তবে, মস্তিষ্ক আমাদের নিজের পরিচয় একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিনিয়ত তৈরি করতে থাকে। ফলে আপনার মস্তিষ্কের বিচারে গতকালের আপনি আর আজকের আপনি হুবহু এক নন।

আমরা জীবনে প্রতিনিয়ত শিখি, ভুলে যাই, সম্পর্ক গড়ি ও ভেঙে ফেলি। আসলে এটি মস্তিষ্কের একটি ধারাবাহিক নির্মাণপ্রক্রিয়া

আমরা জীবনে প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হই। শিখি, ভুলে যাই, সম্পর্ক গড়ি ও ভেঙে ফেলি। তারপরও আমাদের মনে হয়, আমরা আসলে একই ব্যক্তি। আসলে এটি মস্তিষ্কের একটি ধারাবাহিক নির্মাণপ্রক্রিয়া, যা প্রতিদিনের জমা হওয়া স্মৃতির তথ্য ও অভিজ্ঞতা থেকে ‘আমি’ অনুভূতি তৈরি করে। রাতারাতি নিজের সম্পর্কে ধারণা আমূল বদলে যায় না। তাই আমাদের মনে হয়, নিজের সম্পর্কে ধারণা হয়তো আগের মতোই আছে। এটা অনেকটা বয়স বাড়ার মতো একটি ব্যাপার। ধীরে ধীরে হয় বলে আমরা বুঝতেই পারি না।

একটি মাত্র কোষ থেকে কীভাবে তৈরি হয় মস্তিষ্ক
আমরা জীবনে প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হই। শিখি, ভুলে যাই, সম্পর্ক গড়ি ও ভেঙে ফেলি। তারপরও আমাদের মনে হয়, আমরা আসলে একই ব্যক্তি। আসলে এটি মস্তিষ্কের একটি ধারাবাহিক নির্মাণপ্রক্রিয়া।

মস্তিষ্ক সবচেয়ে বেশি মনে রাখে সেই স্মৃতিগুলো, যেগুলো আমাদের বর্তমান ‘আমি’ ধারণার সঙ্গে মিল রাখে। আপনি যদি নিজেকে শান্ত ও অন্তর্মুখী ধরনের মানুষ মনে করেন, তবে অতীত থেকে সেই স্মৃতিগুলোই আপনি বেশি করে মনে রাখবেন। এর মানে হলো, আপনি সজ্ঞানে নিজের সম্পর্কে ধারণা বদলাতে মস্তিষ্ককে প্রশিক্ষিত করতে পারেন। আপনি নিজেকে যেমনভাবে ভাবতে চান, মস্তিষ্ককে সেই সংশ্লিষ্ট তথ্য দ্বারা প্রভাবিত হতে বলতে পারেন।

একইভাবে বাইরের মানুষও নিজের সম্পর্কে ধারণা তৈরিতে ইতিবাচক বা নেতিবাচকভাবে অবদান রাখতে পারে। তবে নিজের সম্পর্কে আপনার নিজের ধারণা যত স্পষ্ট ও শক্তিশালী হবে, অন্যরা আপনার সম্পর্কে আপনার মনে ধারণা তৈরিতে তত কম অবদান রাখতে পারবে। এখানে আসলে সত্য-মিথ্যার চেয়ে মস্তিষ্ক কোন তথ্য ও অভিজ্ঞতাগুলোকে গুরুত্ব দিচ্ছে, অথবা আপনি সচেতনভাবে কতটা কোন জাতীয় তথ্যের চর্চা করে নির্দিষ্ট একটি ধারণা প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছেন, তার ওপর নির্ভর করে।

নিজের সম্পর্কে ধারণা তৈরি করে মস্তিষ্কের মিডিয়াল প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স। আপনি যখন নিজেকে প্রশ্ন করেন—আমি কি এই গুণের অধিকারী? বা আমি কি এটা পারব? তখন মস্তিষ্কের এই অংশ সক্রিয় হয়ে আগের তথ্য ও অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে প্রশ্নের উত্তর খোঁজে। অন্য মানুষ কেমন, সেটির তুলনায় আপনি নিজে কেমন বা নিজেকে নিয়ে ভাবলে মস্তিষ্কের এই অংশ আরও বেশি সক্রিয় থাকে। এটি আমির মূল্যায়ন ও আবিষ্কারের জন্য মূল কেন্দ্র বা হাবের মতো কাজ করে।

মস্তিষ্ক কীভাবে আলাদা শব্দ বুঝতে পারে
তবে নিজের সম্পর্কে আপনার নিজের ধারণা যত স্পষ্ট ও শক্তিশালী হবে, অন্যরা আপনার সম্পর্কে আপনার মনে ধারণা তৈরিতে তত কম অবদান রাখতে পারবে।

নিজের শরীর সম্পর্কে ধারণা অনুভবের জন্য মস্তিষ্ক বিভিন্ন ইন্দ্রিয় থেকে আসা তথ্য মিলিয়ে নেয়। গবেষণায় দেখা গেছে, মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট রিদম শরীরের বিভিন্ন অংশকে নিজের অংশ হিসেবে বিশ্বাস তৈরি করতে সাহায্য করে।

কিছু পরিস্থিতিতে বা নির্দিষ্ট পরীক্ষায় দেখা গেছে, মানুষের নিজের সম্পর্কে ধারণা সম্পূর্ণ বদলে যেতে পারে। এমনকি আমি অনুভূতিও লোপ পেতে পারে। যখন মানুষের মস্তিষ্কের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, নির্দিষ্ট নতুন তথ্য বা উদ্দীপনা ঘটে, তখন মানুষের নিজের সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণার বোধ এলোমেলো হয়ে যেতে পারে। যেমন কেউ মনে করতে পারেন যে, তিনি নিজেকে নিজের শরীরের বাইরে থেকে দেখতে পাচ্ছেন! বা নিজের সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো ধারণা তৈরি না-ও হতে পারে।

আবার ভুল ধারণা থেকে অনেকে সঠিক ধারণাও লাভ করতে পারেন। অন্যদিকে, নানা নিয়ামকের প্রভাবে সঠিক ধারণা থেকেও কারও কারও মস্তিষ্কে নিজের সম্পর্কে ভুল ধারণা প্রতিষ্ঠা পেতে পারে।

সূত্র: বিবিসি সায়েন্স ফোকাসস্বাভাবিক মস্তিষ্ক বলে কিছু নেই

Read full story at source