‘রান্না করা খাবারও বাঁচাতে পারিনি, সব ভেসে গেছে’
· Prothom Alo

‘চেয়ার-টেবিল সরাতে সরাতেই দোকানের রান্নাঘরে পানি ঢুকে পড়ে। ১৫–২০ মিনিটের মধ্যে সব ভেসে গেছে, রান্না করা খাবারও বাঁচাতে পারিনি।’ কথাগুলো শাহেদ আলমের। চট্টগ্রাম নগরের প্রবর্তক এলাকার কিচেন এশিয়া রেস্টুরেন্টের ব্যবস্থাপক তিনি।
Visit grenadier.co.za for more information.
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে কথা হয় তাঁর সঙ্গে। দুদিন পর দোকান খুলেছে আজ। তবে দোকানের অধিকাংশ আসবাব ও যন্ত্রপাতি নষ্ট। রেস্তোরাঁর কার্যক্রম চলছে প্লাস্টিকের চেয়ার দিয়ে। নষ্ট হওয়া আসবাব দোকানের পাশে শুকাতে দেওয়া হয়েছে।
বিকেলে রেস্তোরাঁর ভেতরে দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি। তিনি বলেন, ‘তখন বেলা সাড়ে ১২টা। দোকানে তখনই বেচাকেনার সময়। ওই সময় পানি আসা শুরু করে। দোকানের ফ্রিজ, রান্নার কাঁচামাল সব নষ্ট হয়ে গেছে। এখন প্লাস্টিকের চেয়ার ভাড়া এনে ব্যবসা করছি।’
কিচেন এশিয়ার কয়েক দোকান পরেই ডেক্সি বাড়ি রেস্টুরেন্ট। সেখানেও দেখা গেল প্লাস্টিকের চেয়ার দিয়ে চলছে ক্রেতাদের খাবারদাবার। এই দুই রেস্তোরাঁ প্রবর্তকের মূল সড়ক থেকে দুই ফুট নিচে। এর পাশেই হিজড়া খাল। বর্তমানে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের আওতায় এই খালের সম্প্রসারণকাজ চলছে। মঙ্গলবার বৃষ্টি শুরুর পর খালের বাঁধের কারণে সড়কে উঠে আসে পানি।
কিচেন এশিয়া রেস্টুরেন্টের ব্যবস্থাপক শাহেদ আলম বলেন, দোকানের ভেতরে প্রায় চার ফুট পানি ছিল। ভেতরের ফ্রিজ ছিল তিনটা। গ্রিল মেশিন ছিল, শর্মা মেশিন ছিল। সব নষ্ট এখন। চেয়ার প্রতিদিনের জন্য ৩০ টাকা করে ভাড়া দিতে হচ্ছে। ৭০টা চেয়ার এনেছি। এর বাইরে খাবারের উপকরণ নষ্ট হয়েছে। ক্ষতির হিসাব করলে অনেক টাকা।
‘মাত্র ১০ মিনিটে সব ডুবে গেছে, আমি পথে বসে গেছি’পানি কত ফুট উচ্চতায় উঠেছে তা দেখাচ্ছেন কিচেন এশিয়া রেস্তোরাঁর ব্যবস্থাপক শাহেদ আলম। আজ বিকেলেবিকেলে রেস্তোরাঁর বাইরে পাওয়া গেল কিচেন এশিয়া ও ডেক্সি বাড়ি রেস্টুরেন্টের পরিচালনা প্রধান মিনহাজুর রহমানকে। তিনি বলেন, দুই দোকানে শুধু আসবাব গেছে পাঁচ লাখ টাকার। মেশিন নষ্ট হয়েছে।
গত মঙ্গলবার মৌসুমের প্রথম ভারী বৃষ্টিতেই চট্টগ্রাম নগরের অন্তত ২০টি এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যায়। এই জলাবদ্ধতায় অন্তত পাঁচ লাখ মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। রাস্তাঘাট, অলিগলি ও দোকানপাট পানিতে ডুবে গিয়ে থমকে যায় নগরের স্বাভাবিক গতি। বুধবারও বৃষ্টি অব্যাহত ছিল। এদিনও প্রবর্তক মোড়ে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি উঠে যায়।
বুধবার রাতে প্রবর্তক মোড় এলাকা পরিদর্শন করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি প্রবর্তক মোড়ে হিজড়া খালের কালভার্টের সামনে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এ সময় প্রতিমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম নগরী পানির ওপর ভাসছে না। চট্টগ্রাম নগরী শুষ্ক মৌসুমে যেমন থাকে, এখনো তেমনই আছে।
যেখানে প্রতিমন্ত্রী বক্তব্য দিচ্ছিলেন তাঁর পাশেই ডেক্সি বাড়ি ও কিচেন এশিয়া রেস্টুরেন্ট অবস্থিত। পরিচালনা প্রধান মিনহাজুর রহমানের অভিযোগ, তিনি কর্মকর্তাদের অনেক বলেও প্রতিমন্ত্রীকে দোকানের সামনে আনতে পারেননি। তিনি বলেন, ‘উনি যা বলেছেন আমি শুনেছি, সেখানেই ছিলাম। তাই উনাকে দেখাতে চেয়েছিলাম। কিন্তু অনেক বলেও দোকানের দিকে আনতে পারিনি।’
‘চট্টগ্রাম পানির ওপর ভাসছে না, পানি চট্টগ্রামের ওপর ভাসছে’