বঙ্গোপসাগরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে আশঙ্কাজনক হারে

· Prothom Alo

আমাদের বঙ্গোপসাগরসহ ভারত মহাসাগরের তাপমাত্রা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের জন্য একটি বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন, সামুদ্রিক তাপপ্রবাহ ও সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধি মাছের সংখ্যা, প্রবাল প্রাচীর ও উপকূলীয় জনপদগুলোর ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। আরব সাগর, বঙ্গোপসাগরসহ ভারত মহাসাগরের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের তাপমাত্রা এখন বাস্তুসংস্থানগতভাবে একটি ভারসাম্যহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন ভারতের তামিলনাড়ুর ফিশারিজ কলেজ অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের একদল বিজ্ঞানী।

জলবায়ু পর্যবেক্ষণব্যবস্থার তথ্যানুযায়ী, ভারত মহাসাগরের বিভিন্ন অংশে বারবার সামুদ্রিক তাপপ্রবাহের ঘটনা ঘটছে। গবেষণায় দেখা গেছে, আরব সাগর ও বঙ্গোপসাগরের বড় একটি অংশের তাপমাত্রা দীর্ঘ সময় ধরে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি ছিল। গবেষকদের মতে, এটি কোনো সাময়িক পরিবর্তন নয়। এই প্রভাব বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের একটি দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল। উষ্ণ পানি অক্সিজেনের পরিমাণ কমিয়ে দেয়, যা সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যকে চাপের মুখে ফেলে এবং খাদ্যশৃঙ্খলকে ব্যাহত করে।

Visit extonnews.click for more information.

সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধির অন্যতম স্পষ্ট প্রভাব দেখা যাচ্ছে প্রবাল প্রাচীরের ওপর। প্রবালগুলো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় বেঁচে থাকার জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। তাপমাত্রা বাড়লে প্রবালরা তাদের ভেতরে থাকা শৈবাল বের করে দেয়, যা প্রবালকে খাদ্য ও রং জোগায়। এই প্রক্রিয়া প্রবালের সাদা হয়ে যাওয়া নামে পরিচিত। যদি এই অবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে প্রবাল মারা যায়। প্রবাল প্রাচীর কেবল সামুদ্রিক প্রাণীদের আবাসস্থল নয়, এটি উপকূলীয় অঞ্চলের প্রাকৃতিক সুরক্ষাকবচ হিসেবেও কাজ করে।

ভারত মহাসাগরের উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে মাছের আচরণ ও বিচরণক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। মাছ বাঁচার তাগিদে তুলনামূলক শীতল ও গভীর পানির দিকে সরে যাচ্ছে। ফলে উপকূলীয় জেলেরা চরম বিপাকে পড়েছেন। মাছের ঘনত্ব কমে যাওয়ায় তাঁদের এখন উপকূল থেকে অনেক দূরে গভীর সমুদ্রে যেতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ। এই পরিবর্তন উপকূলীয় লাখ লাখ মানুষের জীবিকার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বাড়লে পানির বিভিন্ন স্তরের মধ্যে পুষ্টি উপাদানের মিশ্রণ কমে যায়। ফলে সামুদ্রিক খাদ্যশৃঙ্খলের ভিত্তি ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটনের উৎপাদন হ্রাস পায়। গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের ফলে সমুদ্রের ওপরের স্তরগুলো ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় এই সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে।

ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল সেন্টার ফর ওশান ইনফরমেশন সার্ভিসেসের মতো সংস্থাগুলো নিয়মিত সমুদ্রের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছে এবং কোরাল ব্লিচিং বা তাপপ্রবাহের আগাম সতর্কতা জারি করছে। তবে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, কেবল পর্যবেক্ষণই যথেষ্ট নয়। কার্বন নিঃসরণ কমানো ও সামুদ্রিক পরিবেশ রক্ষায় দ্রুত টেকসই পদক্ষেপ না নিলে ভারত মহাসাগরের এই পরিবেশগত ভাগ্যবিপর্যয় অনিবার্য।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

Read full story at source