ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভাকক্ষে উপাচার্য ও ডাকসু নেতাদের তর্কবিতর্ক

· Prothom Alo

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শনিবারের বাসসেবা চালুর দাবিকে কেন্দ্র করে উপাচার্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নেতাদের মধ্যে তীব্র তর্কবিতর্ক হয়েছে। বৃহস্পতিবার সিন্ডিকেট সভা চলার সময় মিটিং রুমের ভেতরেই এ অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

Visit newssport.cv for more information.

ডাকসুর প্রচেষ্টায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) থেকে পরিবহন খাতে সাড়ে চার কোটি টাকা বরাদ্দ আনা সত্ত্বেও কোষাধ্যক্ষ শনিবারের বাস ট্রিপ আটকে দেওয়ার সুপারিশ করেন বলে অভিযোগ আনেন ডাকসুর নেতারা। তাঁরা একদল শিক্ষার্থীকে সঙ্গে নিয়ে নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।

একপর্যায়ে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সিন্ডিকেট মিটিং রুমের বাইরে অবস্থানের সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা। তখন উপাচার্য ওবায়দুল ইসলামের পক্ষ থেকে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার শামস উদ্দীন আহমেদ তাঁদের সেখানে অবস্থান না করার অনুরোধ জানান। তিনি তাঁদের পক্ষ থেকে একজন প্রতিনিধিকে মিটিং রুমের ভেতরে উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলার আহ্বান জানান।

তবে ডাকসু নেতারা এ প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে উপাচার্যকে বাইরে এসে তাঁদের সঙ্গে কথা বলার জন্য বলেন। একপর্যায়ে তাঁরা সিন্ডিকেট মিটিং রুমে ঢুকে পড়েন। সেখানে বাস ট্রিপের বিষয় নিয়ে উপাচার্য ওবায়দুল ইসলাম ও ডাকসু নেতাদের মধ্যে তর্কবিতর্ক হয়। বৃহস্পতিবার রাত আটটার পর এ ঘটনা ঘটে।

‘মব’ বলা নিয়ে উত্তেজনা

মিটিং রুমে ঢোকার পর ডাকসু নেতারা তাঁদের দাবির বিষয়ে উপাচার্যকে বিস্তারিত জানান। বিস্তারিত শুনে উপাচার্য বলেন, ‘আমি তোমাদের আর্জেন্সি ইতিমধ্যে মেনে নিয়েছি। আজকে বিকেলে এটাকে জরুরিভাবে এজেন্ডাভুক্ত করেছি। এজেন্ডাভুক্ত করার পরও এজেন্ডার সিদ্ধান্ত না জেনেই তোমরা এমন মব (উশৃঙ্খল জনতার আচরণ) করলে এখানে?’

এ সময় ডাকসু নেতারা প্রতিবাদ জানান। তাঁরা শাহবাগের ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে উপাচার্যকে বলেন, যখন শাহবাগ থানায় ডাকসু নেতারা ও সাংবাদিক সমিতির সদস্যরা ছাত্রদল নেতা–কর্মীদের হামলার শিকার হয়েছিলেন, তখনো এটিকে মব বলা হয়নি, সেই ঘটনার বিচার এখনো করা হয়নি।

ডাকসু নেতাদের অবস্থান কর্মসূচি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবন, ৭ মে

ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের দাবি আদায়ের জন্য আমরা যেকোনো কাজ করতে প্রস্তুত। আমরা বহুদিন ধরে অফিসে অফিসে ঘুরছি, কাজ হয় না। আমরা কোথায় যাব? শিক্ষার্থীদের দ্বারা নির্বাচিত হয়ে আমাদের একটি দায়বদ্ধতা আছে।’

তখন সহ–উপাচার্য (শিক্ষা) আবদুস সালাম ডাকসু নেতাদের উদ্দেশে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো কার্যক্রম চালু হওয়ার একটি প্রক্রিয়া রয়েছে। মাননীয় উপাচার্য তোমাদের বিষয়টিকে আমাদের এজেন্ডাভুক্ত করেছেন। এখানে আমরা আলোচনা করব, এরপর সিদ্ধান্ত দেব। কিন্তু তোমরা ৫০ জন মানুষ এসে তাত্ক্ষণিক সিদ্ধান্তের দাবি জানালে তা কীভাবে সম্ভব?’

এ সময় শিক্ষকদের পক্ষ থেকে ডাকসুর নেতাদের বলা হয়, ‘সিন্ডিকেট মিটিং ওপেন মিটিং নয়, এটি অত্যন্ত গোপনীয় মিটিং। এখানে এভাবে সাংবাদিকদের নিয়ে প্রবেশ করা উচিত নয়।’

জবাবে ডাকসু নেতাদের মধ্যে একজন বলেন, ‘ফাইল পড়ে থাকে চার মাস, আমরা দপ্তরে ঘুরে বেড়াই। আমাদের আন্দোলনে নামতে বাধ্য করা হয়েছে। আমরা আসতে চাইনি। আমাদের যে অপমানিত করা হলো, এরপর বাধ্য হয়ে আসতে হয়েছে।’

এ সময় সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বলেন, ‘উপাচার্য তোমাদের দাবিগুলো উপস্থাপন করবেন। সব রিপোর্ট আমাদের কাছে আছে। আমরা বিশ্বাস করি, এই সিন্ডিকেট অবশ্যই শিক্ষার্থীদের স্বার্থে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। সিন্ডিকেট সভার পর সিদ্ধান্ত তোমরা জানতে পারবে।’

এ সময় ডাকসুর পরিবহন সম্পাদক আসিফ আবদুল্লাহ বলেন, ‘আমরা উপাচার্য স্যারের মাধ্যমে নিশ্চিত হতে চাই, আমাদের দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন করার পদক্ষেপ প্রশাসন নেবে।’

উপাচার্য ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘আমি আজকে এজেন্ডা এনেছি, অবশ্যই কোনো উদ্দেশ্য আছে। কিন্তু একা সিদ্ধান্ত দিতে পারব না। কারণ, এখানে ফাইন্যান্সের (অর্থায়নের) বিষয় জড়িত। সিন্ডিকেট সিদ্ধান্ত নেবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘তোমাদের এজেন্ডা আমি নিয়েই আসছি। তারপর এজেন্ডা যদি বাস্তবায়ন না হতো, তখন মব করতে পারতা। কিন্তু আমি এজেন্ডা আনার পরও এভাবে বিনা নিয়মে রুমে ঢুকে পড়লে?’

পরে ডাকসুর নেতারা সিন্ডিকেট মিটিং রুম ত্যাগ করেন। এরপর তাঁরা সিনেট ভবনের সামনে সাংবাদিকদের জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এ আন্দোলন বন্ধ হবে না এবং তাঁরা উপাচার্যের ‘মব’ শব্দটি ব্যবহারের তীব্র নিন্দা জানান।

‘দুই বছরের বাজেট দিয়েছে ইউজিসি’

বিষয়টি নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘এই কাজ আটকে রাখার অভিযোগ ভিত্তিহীন। ৫ তারিখে (৫ মে) ডিরেক্টরস অব অ্যাকাউন্টস (অর্থ বিভাগের পরিচালক) সাইন (স্বাক্ষর) করেছেন এবং পরে ফাইল আমার অফিসে আসে। অন্য একটি কাজ থাকায় বলেছি, পরে স্বাক্ষর করব; কিন্তু আমাকে তখনই ফাইলে স্বাক্ষর করতে বলা হয়েছিল।’

জাহাঙ্গীর আলম আরও বলেন, ‘পরবর্তী সময়ে ৭ তারিখ (বৃহস্পতিবার) সকালেই আমি ফাইলের বিষয়টি উপাচার্যের নিকট পাঠিয়ে দিই। আমি উপাচার্যকে লিখিত দিই, দুই বছরের বাজেট নিয়ে এসেছে ওরা। এখন তা অনুমোদন করলে পরবর্তী সময়ে যদি ইউজিসি থেকে বাজেট না দেয়, তাহলে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়কেই এই খরচ বহন করতে হবে।’

Read full story at source