সংস্কার না হলে পুরোনো সংকটেই ফিরতে পারে দেশ

· Prothom Alo

জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের কথা থাকলেও এই পরিষদ গঠিত হয়নি। ইতিমধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শেষ হয়েছে। সরকারি দল বিএনপি ওই আদেশটিকে ‘অন্তর্বর্তী সরকারের অন্তহীন প্রতারণার দলিল’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। সংস্কার ও গণভোট নিয়ে বিএনপির নানা অভিযোগ ও সংস্কারের ভবিষ্যৎ কী হতে পারে, এসব নিয়ে প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেছেন সাবেক জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রিয়াদুল করিম

Visit tr-sport.bond for more information.

আপনি সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান ছিলেন। পরে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি হিসেবে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় নেতৃত্ব দিয়েছেন। আপনাদের সংস্কার প্রস্তাব তৈরির মূল লক্ষ্য কী ছিল?

আলী রীয়াজ: সংবিধান সংস্কার কমিশনসহ অন্যান্য বেশ কিছু সংস্কার কমিশনের প্রধান লক্ষ্যই ছিল রাষ্ট্রব্যবস্থার সংস্কার, যাতে করে একটি গণতান্ত্রিক এবং জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রকাঠামো গড়ে তোলা যায়। সুনির্দিষ্ট করে সংবিধান সংস্কার কমিশনের লক্ষ্যগুলো ছিল নির্বাহী বিভাগের হাতে ক্ষমতার এককেন্দ্রীকরণ, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর হাতে ক্ষমতার এককেন্দ্রীকরণ বন্ধ করা; সাংবিধানিক এবং কিছু সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের যেমন নির্বাচন কমিশন, সরকারি কর্মকমিশন, মহা হিসাব নিরীক্ষক ও দুর্নীতি দমন কমিশনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা; বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার কাঠামো তৈরি করা; প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরি করা; তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়োগের স্থায়ী ব্যবস্থা করা; নারীদের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা; সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে এক দলের আধিপত্য হ্রাস করা এবং নাগরিকদের মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ।

সংবিধান সংস্কার কমিশনের এসব প্রস্তাবের বাইরে ঐকমত্য কমিশন অন্যান্য কমিশনের প্রস্তাবগুলোর মধ্য থেকেও কিছু সুপারিশের আলোকে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল। যেমন স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করা।

এতগুলো বড় বড় বিষয়ে কি এত অল্প সময়ে সংস্কার করা সম্ভব? এসব এত বড় কাঠামোগত সংস্কারের লক্ষ্যে যে সময় নেওয়া হয়েছে, সেটি কি যথেষ্ট ছিল?

আলী রীয়াজ: ঐকমত্য কমিশন সংস্কার বাস্তবায়নের দায়িত্বে ছিল না। কমিশনের লক্ষ্য ছিল সংস্কারের বিষয়গুলোর একটি এজেন্ডা তৈরি এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একধরনের ঐকমত্য তৈরি করা। ফলে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে সাংবিধানিক সংস্কার করার চেষ্টা করা হয়নি, কিছু আইনের সংশোধন করা হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করেই করা হয়েছে, তারা সম্মতি দিয়েছে। কিন্তু এটা ভুলে গেলে চলবে না যে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অঙ্গীকার ছিল কাঠামোগত সংস্কারের, অন্তর্বর্তী সরকারের সেটা একটা দায়িত্ব ছিল।

বড় ধরনের কাঠামোগত সংস্কারের জন্য সময়ের প্রয়োজন এ বিষয়ে সন্দেহ নেই, সে কারণেই ঐকমত্য কমিশন ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠনের প্রস্তাব করেছে। যা গণভোটে জনগণের সম্মতি লাভ করেছে। সংস্কার ওই পরিষদ এবং নির্বাচিত সংসদের মাধ্যমেই হবে। তবে এটা ঠিক যে কাঠামোগত সংস্কারের বিষয়ে আরও বেশি সময় নিয়ে আলোচনা করা সম্ভব হলে ভালো হতো; অন্যান্য দেশে এই জন্য আরও বেশি সময় দেওয়া হয়েছে।

কিন্তু আপনার নিশ্চয় মনে থাকবে যে ঐকমত্য কমিশনের প্রক্রিয়া চলার সময়েই রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনের জন্য সরকারের ওপরে চাপ দিচ্ছিল। এমন অপপ্রচারও ছিল যে অন্তর্বর্তী সরকার ‘সংস্কারের অজুহাতে’ দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকতে চায়। ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে আলোচনার দ্বিতীয় পর্বে অনেক রাজনৈতিক দল সংস্কারের কাঠামো এবং এই বিষয়ে এজেন্ডা তৈরির চেয়ে নির্বাচনের ব্যাপারে অস্থিরতা দেখিয়েছে, কমিশনকে সেটা বিবেচনায় নিতে হয়েছে। সংস্কারের ব্যাপারে কোনো কোনো দলের প্রস্তুতিতে ঘাটতি ছিল। তারপরেও এটা ঠিক যে রাষ্ট্র সংস্কারের একটা সুস্পষ্ট এজেন্ডা তৈরি হয়েছে।

আপনারা কি সংস্কার চাপিয়ে দিতে চেয়েছেন?

আলী রীয়াজ: ঐকমত্য কমিশন এবং অন্তর্বর্তী সরকার কিছু চাপিয়ে দিতে চায়নি। কমিশনের বৈঠকে এবং আলোচনার সময় গণমাধ্যমে আমি বারবার বলেছি যে কমিশন কিছু চাপিয়ে দিতে চায় না। কমিশন যে কিছু চাপিয়ে দিতে চায়নি তার অনেক উদাহরণ আছে। আলোচনার শুরুতে ১৬৬টি বিষয় ছিল, তার মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ৬৪টি বিষয়ে একমত হওয়া গেছে, ২০টি সাংবিধানিক বিষয় নিয়ে দ্বিতীয় পর্বে আলোচনা হয়েছে। তাতেই স্পষ্ট যে কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত এবং সময় ও বাস্তবতার বিবেচনায় ৮২টি বিষয় এজেন্ডা থেকে বাদ দিয়েছে।

প্রকৃতপক্ষে এর কিছু কিছু সংশোধিত আকারে দ্বিতীয় পর্বের আলোচনায় আনা হলেও, ২৫টি প্রস্তাব একেবারেই বাদ দেওয়া হয়েছে। আবার দ্বিতীয় পর্যায়ে আলোচনার সময়, একাধিক প্রস্তাব আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে কয়েক দফা সংশোধিত হয়েছে। প্রস্তাবিত জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিলের (এনসিসি) আলোচনা লক্ষ করলেই দেখতে পাবেন। অধিকাংশ দল এই প্রস্তাবে সম্মত হলেও, বিএনপিসহ কয়েকটি দলের জোর আপত্তির মুখে এবং আলোচনাকে অগ্রসর করে নিয়ে যাওয়ার স্বার্থে এটাকে বাদ দিতে হয়েছে। নারী প্রতিনিধিত্ব নিয়ে পাঁচ দিন আলোচনার পরে যেটা গৃহীত হয়েছে সেটা কমিশনের প্রস্তাব আর আকাঙ্ক্ষার ধারেকাছেও নেই। এগুলো কি প্রমাণ করে না যে, কোনো কিছু চাপিয়ে দেওয়া হয়নি?

আলী রীয়াজ

কোনো প্রস্তাবে প্রধান দলের নোট অব ডিসেন্ট থাকলে সেই প্রস্তাব কীভাবে বাস্তবায়িত হবে?

আলী রীয়াজ: যখন অনেকে মিলে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তাতে কারও আপত্তি থাকলে সেটাই নোট অব ডিসেন্ট হিসেবে লিপিবদ্ধ হয়। এই ভিন্নমত হতে পারে পদ্ধতিগত, হতে পারে সিদ্ধান্তের মূল বিষয় নিয়ে। জুলাই জাতীয় সনদের আলোচনায় কিছু বিষয়ে এ ধরনের নোট অব ডিসেন্ট আছে। কিন্তু সিদ্ধান্ত হয়েছে যখন গুরুত্বপূর্ণ এবং অধিকাংশ অংশগ্রহণকারী একটি প্রস্তাবে সম্মত হয়েছে।

রাষ্ট্র সংস্কারে কেবল দলগুলোর সংখ্যাগরিষ্ঠতা, এমনকি দুই-তৃতীয়াংশও যথেষ্ট নয়। জনগণ সেটা চান কি না, মূল লক্ষ্যের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ কি না, সেটাও বিবেচনায় নিতে হবে। সে জন্যই এসব বিষয় বাস্তবায়িত হবে কি না, সেটার জন্য নাগরিকদের মতামত দরকার। এ ক্ষেত্রে গণভোটের মাধ্যমে সেটাই চাওয়া হয়েছে। ধরুন, একটা বিষয়ে একটি দল ভিন্নমত পোষণ করে, কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠ নাগরিকেরা বলছেন তাঁরা এই সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন দেখতে চান; ক্ষমতাসীন দল হিসেবে তাঁদের দায়িত্ব হচ্ছে সেটা বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নেওয়া।

সম্প্রতি এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন সংসদে বলেছেন, জুলাই সনদের খসড়ায় নোট অব ডিসেন্টের উল্লেখ ছিল না। কোনো একটি দলের একজন ব্যক্তি সংসদ প্লাজায় এসে নিজের মতো করে এটি অন্তর্ভুক্ত করেছেন। নোট অব ডিসেন্ট সনদে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল কীভাবে?

আলী রীয়াজ: এখানে একটু ভুল–বোঝাবুঝি হচ্ছে। সব দল ও জোটের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতেই জুন মাসের মাঝামাঝি দ্বিতীয় পর্বের আলোচনায় সিদ্ধান্ত হয় যে, কোনো বিষয়ে কোনো দলের যদি ভিন্নমত থাকে তবে তারা নোট অব ডিসেন্ট দিতে পারবে। ৭০ অনুচ্ছেদ বিষয়ে আলোচনায় বিএনপি সংবিধান সংশোধন, আস্থা ভোট ও জাতীয় নিরাপত্তার বিষয় এবং জামায়াতে ইসলামী সংবিধান সংশোধন যুক্ত করতে চাইলে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সবাই এই পদ্ধতির ব্যাপারে সম্মত হন। কিন্তু আখতার হোসেন যে বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করছেন, তা হচ্ছে সনদে ‘নোট অব ডিসেন্টের’ সঙ্গে একটি লাইন যুক্ত করা। সনদের চূড়ান্তকরণ এবং স্বাক্ষরের সময় অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি যুক্ত করা হয় যে কোনো রাজনৈতিক দল যদি জনগণের ম্যান্ডেট পায়, তবে তারা সেই মতে ব্যবস্থা নিতে পারবে।

এটা কি কমিশনের সিদ্ধান্ত ছিল না?

আলী রীয়াজ: এটা কমিশনের অবস্থান ছিল না বলেই এটা আলাদা করে ব্র্যাকেটে লেখা হয়েছে নোট অব ডিসেন্টের সঙ্গে। এটা নোট অব ডিসেন্টের ব্যাখ্যা। এই রকম ব্যাখ্যা অন্য নোট অব ডিসেন্টের সঙ্গেও আছে। কমিশন এতে রাজি হয়েছিল যেহেতু তখনো সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতি বিষয়ে কোনো ধরনের সিদ্ধান্ত হয়নি। এ ছাড়া দুটি কারণ ছিল, কোনো কোনো দল এই ধরনের বক্তব্য না থাকলে সনদ স্বাক্ষর করতে আপত্তি করেছিল, অন্যদিকে আমাদের বিবেচনা ছিল যে এতে করে নোট অব ডিসেন্ট দিলেও যেকোনো দল পরে তাদের অবস্থান বদল করতে পারবে।

আলী রীয়াজ

আপনাদের যে পরিকল্পনা সেটার কী হলো, এটা তো বাস্তবায়িত হলো না...

আলী রীয়াজ: আমি এখনই এই উপসংহারে পৌঁছাতে রাজি নই যে কিছুই বাস্তবায়িত হলো না। এখন পর্যন্ত হয়নি, এর অর্থ এই নয় যে অদূর ভবিষ্যতে হবে না। কয়েক দশক ধরে রাষ্ট্রকাঠামো এবং শাসনব্যবস্থা নিয়ে আলোচনাগুলো স্মরণ করলে দেখবেন সংস্কার করার আর কোনো বিকল্প আছে, এমন কথা কেউ বলেনি। রাজনৈতিক দলগুলো স্বীকার করে সংস্কার করতে হবে। তদুপরি গণভোটে অংশগ্রহণকারী নাগরিকদের ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠ রায় দিয়েছেন সংস্কারের পক্ষে। ফলে ভবিষ্যতে জুলাই সনদ এবং গণভোটের রায়কে এড়িয়ে যাওয়া যাবে এমন মনে করার কারণ নেই।

সংস্কার প্রক্রিয়া নিয়ে এখন সমালোচনা বাড়ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আপনারা নিন্দিত হচ্ছেন। কী বলবেন?

আলী রীয়াজ: গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় যেকোনো কাজেরই সমালোচনা থাকবে। কেউ প্রশংসা করবেন, কেউ নিন্দা করবেন। সংস্কারের এজেন্ডা তৈরির প্রক্রিয়া যত দূর সম্ভব অংশগ্রহণমূলক ছিল। যদি কেবল প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন থাকে, তবে সময়ের সীমাবদ্ধতার যে কথা আপনি আগে উল্লেখ করেছেন সেটা স্মরণ করতে হবে, রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা বিবেচনায় নিতে হবে।

এটাও দেখতে হবে যে যেসব সংস্কারের প্রস্তাব জুলাই জাতীয় সনদে উপস্থাপিত এবং গৃহীত হয়েছে, গণভোটে নাগরিকদের সম্মতি পেয়েছে সেগুলো অগ্রহণযোগ্য কি না। সেগুলো জবাবদিহিমূলক গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা তৈরি করবে কি না। গত ৫৪ বছরে এই প্রথম একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্র সংস্কারের এজেন্ডা এবং পদ্ধতি তৈরি হয়েছে। এ নিয়ে সমালোচনা থাকতে পারে, কিন্তু একে অস্বীকার বা নাকচ করা যাবে না।

আপনাদের সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ জারি করেছিল। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই আদেশকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে সংসদে বলেছেন, এটি অন্তর্বর্তী সরকারের অন্তহীন প্রতারণার একটি দলিল। আপনি কী বলবেন?

আলী রীয়াজ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যকে আমার কাছে পলিটিক্যাল রেটরিক বলে মনে হচ্ছে। আদেশ জারি করা হয়েছে ১৩ নভেম্বর ২০২৫, নির্বাচন হয়েছে ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬। অর্থাৎ মাঝখানে ৯০ দিন সময় ছিল। এর মধ্যে বিএনপি আদেশ নিয়ে আপত্তি করেছে, কিন্তু প্রত্যাখ্যান করেনি। আমার জানা মতে, তারা অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে এই আদেশ বাতিলের দাবিও করেনি।

এই আদেশের অধীনেই ২৫ নভেম্বর গণভোট অধ্যাদেশ হয়েছে। সে অধ্যাদেশের আওতায় গণভোট করা নিয়ে বিএনপি আপত্তি করেনি। সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্তকে তারা স্বাগত জানিয়েছিল। গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য বিএনপির সর্বোচ্চ পর্যায় থেকেও জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। ফলে এখন প্রতারণা বলাটা কতটা যৌক্তিক?

এমন আদেশ জারির এখতিয়ার রাষ্ট্রপতির নেই বলে দাবি করছে বিএনপি। আপনারা কোন বিবেচনায় এই আদেশ জারির সুপারিশ করেছিলেন? এর আইনি ভিত্তি কী?

আলী রীয়াজ: আমাদের, অর্থাৎ ঐকমত্য কমিশনের বিবেচনাগুলো সরকারের কাছে দেওয়া সুপারিশে বলা হয়েছে, ওই আদেশের সূচনায়ও বলা হয়েছে। একই সঙ্গে আপনি যদি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ঐকমত্য কমিশনের দ্বিতীয় পর্বের আলোচনা স্মরণ করেন তাহলেও দেখবেন, বিবেচনাটি হচ্ছে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জনগণের যে অভিপ্রায়ের প্রকাশ ঘটেছে তার বাস্তবায়নের জন্য পদক্ষেপ গ্রহণের ক্ষমতা অন্তর্বর্তী সরকারের আছে। বিদ্যমান সংবিধানের ভেতরে অন্তর্বর্তী সরকারের বিধান না থাকলেও অন্তর্বর্তী সরকার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, ওই সরকারের নেতৃত্বে দেশ পরিচালিত হয়েছে, আইন প্রণীত হয়েছে, বাজেট প্রণীত হয়েছে। এগুলোর আইনি ভিত্তি যেখানে, সেটাই হচ্ছে এই আদেশ প্রণয়নের ভিত্তি।

ঐকমত্য কমিশন বলেছিল ‘সরকার’ আদেশ প্রণয়ন করবেন। সেই সময়ে বিএনপি মহাসচিব সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলেছিলেন, ‘সরকারের এ রকম আদেশ জারি করার এখতিয়ার নেই। সংবিধানের ১৫২ নম্বর অনুচ্ছেদের সংজ্ঞা অনুসারে “আদেশ” আইনের মর্যাদাপ্রাপ্ত। অতএব তা জারি করা রাষ্ট্রপতির এখতিয়ার।’ আমাদের যুক্তি ছিল, রাজনৈতিক দলগুলোর বক্তব্য ছিল গণ-অভ্যুত্থানের পরে কেবল সংবিধানের ভেতরে সমাধান খোঁজা যাবে না, সংবিধান মেনে বা সংবিধানের বিধিবিধান প্রতিষ্ঠার জন্য ২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থান হয়নি।

সনদে নোট অব ডিসেন্ট থাকলেও জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ এবং সে অনুযায়ী গণভোটের প্রশ্নে নোট অব ডিসেন্টের উল্লেখ করা হয়নি কেন?

আলী রীয়াজ: আদেশে বলা হয়েছে কী কী বিষয়ে একমত হওয়া গেছে, কোথায় বড় ধরনের পার্থক্য আছে। আদেশে সনদের উল্লেখ আছে, যেখানে এগুলো বিস্তারিতভাবেই বলা হয়েছে। আদেশের বিষয় ছিল—বাস্তবায়নের পথ কী হবে। সেখানে মূল বিষয় হচ্ছে জনগণের সম্মতি চাওয়া, এই আদেশে সাংবিধানিক কিছুই বাস্তবায়িত করার কথা বলা হয়নি। দলগুলো তাদের আপত্তির কথা জানাতে পারবে, সেই বিষয়ে কোনো ধরনের বাধা ছিল না। তদুপরি, পৃথিবীতে এ যাবৎ অনুষ্ঠিত কোনো গণভোটের আদেশ বা ব্যালটে ভিন্নমতের উল্লেখ ছিল বলে আমার জানা নাই।

বিএনপি অভিযোগ করেছে, গণভোট করা হয়েছে গোঁজামিল করে। প্রশ্ন চারটি হলেও উত্তর দেওয়ার অপশন ছিল একটি। প্রশ্নটি এভাবে নির্ধারণ করার যৌক্তিকতা কী ছিল?

আলী রীয়াজ: প্রথমত চারটি প্রশ্ন ছিল না। প্রশ্ন একটাই ছিল—সনদের বিভিন্ন সুপারিশকে চার ভাগে বিভক্ত করে এর প্রতি সমর্থন আছে কি না, সে প্রশ্ন করা হয়েছিল। দ্বিতীয়ত, একটি প্রশ্নের ভিত্তিতে গণভোট অনুষ্ঠানই হচ্ছে আন্তর্জাতিকভাবে প্রচলিত পদ্ধতি। কয়েকটি উদাহরণ দিলে বুঝতে পারবেন। ২০১৭ সালে তুরস্কের এরদোয়ানের শাসনের অধীন সংবিধানের ১৮টি বিষয় নিয়ে যে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল, সেই ১৮টি বিষয়ের মধ্যে ছিল নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতা ব্যক্তিকরণ, আইনসভার ক্ষমতা হ্রাস, বিচার বিভাগের ক্ষমতা হ্রাস। এগুলো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

একেবারে মৌলিক বিষয়গুলো নিয়ে ১৮টি প্রশ্ন করে ওপরে লিখে দেওয়া হয়, এখানে যে ১৮টি বিষয় আছে, এর মধ্যে আপনি ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ দেবেন। বিভিন্ন দেশে পুরো সংবিধানের ব্যাপারে একটি প্রশ্নে গণভোট হয়েছে। ২০০২ সালে তিউনিসিয়ায় নতুন সংবিধানের ওপর গণভোট হয়েছে, নতুন সংবিধান ছিল ১৪০টি অনুচ্ছেদ; ২০১০ সালে কেনিয়ায় সংবিধানের ওপরে গণভোট হয়েছে, নতুন সংবিধানে ২৬০টি অনুচ্ছেদ ছিল। তৃতীয়ত সংবিধান সংস্কারের যেসব বিষয় উপস্থাপন করা হয়েছে, সেগুলো আলাদা করে বাস্তবায়ন করলে সংস্কার হবে না; একটা সামগ্রিক সংস্কার কেবল সবগুলো একসঙ্গে করেই সম্ভব। সে জন্য এইভাবে জানতে চাওয়া হয়েছিল।

নির্ধারিত সময়ে গণভোট অধ্যাদেশ সংসদ অনুমোদন বা অননুমোদন কোনোটাই করেনি। ফলে এটা কার্যকারিতা হারিয়েছে। এর ফলে কি গণভোট প্রশ্নবিদ্ধ হলো?

আলী রীয়াজ: গণভোটের অধ্যাদেশ অনুমোদন না করার বিষয়টির দুটি দিক আছে—রাজনৈতিক এবং আইনি। রাজনৈতিক দিক থেকে বিষয়টি অস্বস্তিকর যে বিএনপির পক্ষ থেকেই গণভোটের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, এখন বিএনপি ক্ষমতায় থাকার সময় সেটাকে স্বীকৃতি দিচ্ছে না; এটা নিশ্চয় ইতিবাচক নয়।

আইনি দিক থেকে বিচার করলে গণভোট অধ্যাদেশের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার ফলে গণভোট প্রশ্নবিদ্ধ হয় না। একটি আইনের অব্যাহত থাকা এবং এটি কার্যকর থাকার সময় সেই আইনের অধীনে গৃহীত পদক্ষেপের বৈধতার মধ্যে পার্থক্য আছে। নির্ধারিত সময়ের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরে অধ্যাদেশটি বাতিল হওয়ার অর্থ এটি আর কার্যকর নয়। কিন্তু যখন বহাল ছিল সে সময়ে এটি একটি বৈধ আইন ছিল।

গণভোট সেই বৈধ আইনি কাঠামোর অধীনে পরিচালিত হয়েছিল। এ–সংক্রান্ত অধ্যাদেশটি পদ্ধতিগত প্রকৃতির ছিল। একবার এই প্রক্রিয়া শেষ হয়ে গেলে, অধ্যাদেশটি কার্যকরভাবে তার উদ্দেশ্য পূরণ করেছিল। ফলে এটা বাতিল হওয়ার কারণে ইতিমধ্যে এর অধীনে যা করা হয়েছে সেটার বৈধতাকে ক্ষুণ্ন করে না।

আলী রীয়াজ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সম্প্রতি বলেছেন, গণভোট ফ্যাক্টাম ভ্যালেট বা ঘটনাক্রমে সিদ্ধ। আপনি কী বলবেন?

আলী রীয়াজ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্যের বিষয়ে আমি বিনয়ের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করতে চাই। ফ্যাক্টাম ভ্যালেটের মতবাদ সাধারণত এমন একটি কাজকে বৈধতা দেওয়ার কথা বলে, যেটার আইনি ত্রুটি আছে, তা সত্ত্বেও বৈধ হিসেবে বিবেচিত হয়, কারণ এটি ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু গণভোট অধ্যাদেশে কোনো ত্রুটি নেই। গণভোটটি একটি বৈধ অধ্যাদেশের অধীনে পরিচালিত হয়েছিল। এটিকে ফ্যাক্টাম ভ্যালেট হিসেবে বর্ণনা করার সঙ্গে আমি একমত নই।

আপনারা কেন সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের কথা বলেছিলেন? নিয়মিত সংসদ কি এটা করতে পারত না?

আলী রীয়াজ: আমরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের কথা বলেছি তার কারণ ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলের আলোচনায় বাস্তবায়নের প্রশ্নে সংবিধান সংশোধন এবং সংস্কারের প্রশ্ন ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছিল। এটাও বারবার বলা হয় যে একটি সংসদের কেবল সংশোধনের ক্ষমতা (অ্যামেন্ডিং পাওয়ার) আছে, গাঠনিক ক্ষমতা (কনস্টিটিউন্ট পাওয়ার) নেই। যদি আগে থেকেই সংসদকে জনগণ এই গাঠনিক ক্ষমতা না দেন তবে যেকোনো ধরনের মৌলিক কাঠামোগত পরিবর্তন আদালতে চ্যালেঞ্জ করা যাবে এবং তা বাতিল হওয়ার আশঙ্কাই বেশি। অতীতে বাংলাদেশে বারবার তাই হয়েছে। ফলে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকেই এই প্রশ্নটি উঠেছিল যে, যেসব বিষয়ে সংস্কার হবে সেগুলো কী করে সুরক্ষা করা যাবে। এই সুরক্ষা ছাড়াও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ যে আগের সংসদগুলো থেকে ভিন্ন, এটা ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের পটভূমিকায় নির্বাচিত সেই স্বীকৃতি দেওয়া।

বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করা হয়নি। বিএনপির সংসদ সদস্যরা সে শপথই নেননি। তাহলে কি সংবিধান সংস্কার আর হচ্ছে না?

আলী রীয়াজ: এই প্রশ্নটির উত্তর প্রকৃতপক্ষে সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে বিএনপিকেই দিতে হবে। কিন্তু আপনি যদি বাংলাদেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষার কথা বলেন, তবে এটা বলা ছাড়া উপায় নেই যে সংস্কার হতেই হবে। গণভোটে প্রায় ৫ কোটি মানুষ সেই আকাঙ্ক্ষার কথাই বলেছেন। রাজনৈতিক দলগুলো এই অঙ্গীকার করেছে, কেবল জুলাই সনদে স্বাক্ষর করে নাগরিকদের সঙ্গে একটি চুক্তি করার মাধ্যমেই নয়, গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে নির্বাচন পর্যন্ত তাদের প্রতিটি বক্তব্যে। ফলে এখন যে ‘সংশোধনের’ কথা বলা হচ্ছে তা সংস্কারের আকাঙ্ক্ষা ও প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ বলে মনে হচ্ছে না। কিন্তু এই বিষয় নিশ্চিত করা যেমন বিএনপির কাজ, তেমনি সংসদ ও সংসদের বাইরে যেসব রাজনৈতিক দল আছে, সিভিল সোসাইটির যারা রাষ্ট্রকাঠামোর বদল চান—তাদেরও দায়িত্ব।

বেশ কিছু মৌলিক সংস্কার প্রস্তাবে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট আছে। দলটি যেভাবে চায়, সেভাবে সংস্কার হলে কতটা মৌলিক পরিবর্তন আসবে? বা আপনাদের যে উদ্দেশ্য ছিল, তা কতটুকু পূরণ হবে?

আলী রীয়াজ: আমি ঠিক ‘আমাদের উদ্দেশ্য’ হিসেবে বিষয়গুলো বিবেচনা করব না; সেগুলো পূরণ হলো কি না, সেটা দেখব না। সংবিধান সংস্কার কমিশন বা জাতীয় ঐকমত্য কমিশন, যেভাবেই আপনি বলুন না কেন, আমরা যে লক্ষ্যগুলো নির্ধারণ করেছিলাম সেগুলো দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের রাষ্ট্রব্যবস্থার ত্রুটিবিচ্যুতির বিবেচনায় নির্ধারিত হয়েছিল। এগুলো নিয়ে কমবেশি সবার মধ্যেই আলোচনা ছিল। সংস্কারের এই এজেন্ডা বাংলাদেশের পাঁচ দশকের শাসনব্যবস্থার অভিজ্ঞতা এবং আলাপ-আলোচনা, রাজনৈতিক দল ও নাগরিকদের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে তৈরি হয়েছে। যেমন ধরুন, সংবিধান সংস্কার কমিশন।

কমিশন সুপারিশ তৈরির জন্য ৪৭টি সিভিল সোসাইটি সংগঠন, ২০টি পেশাজীবী সংগঠন, প্রায় ৭০ জন নাগরিক, ৭ জন সংবিধান বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলেছে; ৩৪টি রাজনৈতিক দল এবং জোট লিখিতভাবে তাদের মতামত দিয়েছে। ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ মতামত দিয়েছেন, তা ছাড়া ৪৫ হাজারের বেশি খানায় জরিপ করা হয়েছে। একই ধরনের প্রক্রিয়া অন্য কমিশনও করেছে। তারপরে ৩০টি দল ও জোটের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এগুলোকে এড়িয়ে গিয়ে কেবল একটি দলের বিবেচনায় সংস্কার করলে মৌলিক পরিবর্তনের লক্ষ্যগুলো অর্জনের সম্ভাবনা খুবই সীমিত। এতে করে রাষ্ট্র সংস্কারের সুযোগই হাতছাড়া হবে, বৃত্তচক্রের মতো আবারও একই সংকটের দিকে দেশ অগ্রসর হতে পারে।

সংস্কার প্রশ্নে এখন যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তাতে কি রাজনৈতিক সংকট তৈরি হতে পারে বলে মনে করেন?

আলী রীয়াজ: সংকট এবং সম্ভাবনা—দুটিই তৈরি হতে পারে। অবস্থা সংকটে রূপ নেবে যদি জনগণের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সংস্কার প্রশ্নে সরকারের পদক্ষেপের সামঞ্জস্য না থাকে। ক্ষমতাসীন দলের দায়িত্ব দ্রুত এই বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া। প্রশ্ন হচ্ছে ক্ষমতাসীন দল কাঠামোগত পরিবর্তন চায় কি না; রাষ্ট্রের কাঠামোগত সংস্কারের ব্যাপারে সবাইকে সঙ্গে নিয়েই এগোতে হবে, দেওয়া প্রতিশ্রুতি পালন করতে হবে, স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় দেওয়া অঙ্গীকারকে কৌশল বলে এড়িয়ে যাওয়া জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে বলে মনে হয় না। এগুলো মনে রাখলে এই পরিস্থিতি সম্ভাবনায় রূপান্তরিত হবে। আমি মনে করি যে রাজনৈতিক কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া অবিলম্বে প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক সংস্কারও করা যাবে না।

এখন সমাধানের পথ কী?

আলী রীয়াজ: সমাধানের একটা পথ হচ্ছে সংবিধান সংস্কার পরিষদ তৈরি করা এবং সেখানে সুনির্দিষ্টভাবে সংবিধান সংস্কার নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করে অগ্রসর হওয়া। অন্যথায় সংবিধানের যেকোনো ধরনের সংশোধন সুরক্ষিত হবে না। দ্বিতীয় পথ হচ্ছে, অবিলম্বে সংসদের ভেতরে ও বাইরের যাঁরাই রাষ্ট্র সংস্কার চান, তাঁদের মধ্যে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক আলোচনা করা। সম্প্রতি প্রকাশিত ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের প্রতিবেদনে এই বিষয়ে সরকারকে যে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে সেটা স্মরণ করা দরকার। ওই প্রতিবেদনে সংঘাত এড়াতে সংস্কার নিয়ে বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক আচরণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আপনাকে ধন্যবাদ

আলী রীয়াজ: আপনাকেও ধন্যবাদ।

Read full story at source