একসঙ্গে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপে বড় বিপদ

· Prothom Alo

ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ—দুটি রোগই বর্তমানে বিশ্বব্যাপী জনস্বাস্থ্যের বড় চ্যালেঞ্জ। অনেক ক্ষেত্রেই এ দুটি রোগ একসঙ্গে দেখা যায় এবং পরস্পরের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ডায়াবেটিস রোগীদের অর্ধেকের বেশি কোনো না কোনো পর্যায়ে উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হন। এই যুগল সমস্যা হৃদ্‌রোগ, স্ট্রোক, কিডনি বিকল হওয়া ও চোখের জটিলতার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

কারণ

Visit amunra.help for more information.

ডায়াবেটিসের রোগীর রক্তে অতিরিক্ত শর্করা দীর্ঘদিন ধরে থাকলে রক্তনালির দেয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একই সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপ রক্তনালির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। ফলে হৃৎপিণ্ড, কিডনি, মস্তিষ্ক ও চোখের ক্ষুদ্র রক্তনালিগুলো দ্রুত ক্ষতির মুখে পড়ে। তাই ডায়াবেটিস রোগীর ক্ষেত্রে শুধু রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ করাই যথেষ্ট নয়, রক্তচাপও সঠিক মাত্রায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে রক্তচাপ ১৩০/৮০ মিমি পারদের নিচে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। নিয়মিত রক্তচাপ পরিমাপ না করলে অনেক সময় রোগী বুঝতেই পারেন না যে তাঁর উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে। কারণ, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এর কোনো স্পষ্ট উপসর্গ থাকে না। এ কারণেই উচ্চ রক্তচাপকে ‘নীরব ঘাতক’ বলা হয়।

করণীয়

ডায়াবেটিসের সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে জীবনযাত্রার পরিবর্তন অত্যন্ত কার্যকর। প্রথমত, খাদ্যাভ্যাসে সচেতনতা জরুরি। অতিরিক্ত লবণ, চর্বিযুক্ত ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কমাতে হবে। শাকসবজি, ফলমূল, আঁশযুক্ত খাবার ও পরিমিত প্রোটিন গ্রহণ উপকারী। দ্বিতীয়ত, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম যেমন হাঁটা, হালকা ব্যায়াম বা সাইকেল চালানো রক্তচাপ ও রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। তৃতীয়ত, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য সম্পূর্ণ বর্জন করতে হবে। পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণও গুরুত্বপূর্ণ।

অনেক রোগীর ক্ষেত্রে ওষুধ প্রয়োজন হতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ শুরু বা বন্ধ করা উচিত নয়। বিশেষ করে কিডনি সুরক্ষার জন্য কিছু রক্তচাপের ওষুধ ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য বাড়তি উপকার দিতে পারে। ডায়াবেটিস থাকলে এসিই ইনহিবিটর বা এনজিওটেনসিন রিসেপটর ব্লকার গোত্রের রক্তচাপের ওষুধ বিশেষভাবে কার্যকর।

মোটকথা হলো, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ একসঙ্গে থাকলে ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়, তবে সময়মতো শনাক্তকরণ, নিয়মিত পরীক্ষা ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মাধ্যমে এ ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। সচেতনতা, নিয়মিত ফলোআপ এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলাই সুস্থ জীবনের মূল চাবিকাঠি।

  • ডা. শাহজাদা সেলিম, সহযোগী অধ্যাপক এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগ, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

Read full story at source