পৃথিবীর গভীরে থাকা দানবীয় কাঠামো কি সত্যিই চৌম্বক ক্ষেত্র নিয়ন্ত্রণ করছে

· Prothom Alo

আমরা জানি পৃথিবীর উপরিভাগ থেকে প্রায় ১ হাজার ৮০০ মাইল গভীরে তরল বহিঃকেন্দ্রে গলিত ধাতুর অবিরাম ঘূর্ণন থেকে বিদ্যুৎপ্রবাহ তৈরি হয়। এই বিদ্যুৎপ্রবাহ জিওডায়নামো প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি করে। তবে অস্ট্রেলিয়ার কার্টিন বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই বিজ্ঞানী লাক এস ডুসেট ও ঝেং–জিয়াং লিনতুন এক গবেষণায় জানিয়েছেন, এই প্রক্রিয়ার পেছনে কেন্দ্রসহ ম্যান্টল বা ভূত্বকের নিচের স্তরেরও এক বিশাল ভূমিকা রয়েছে। সম্ভবত পৃথিবীর গভীরে লুকিয়ে থাকা কিছু দানবীয় কাঠামো পৃথিবীর সুরক্ষাকারী চুম্বকীয় ঢাল বা ম্যাগনেটোস্ফিয়ারকে নিয়ন্ত্রণ করছে।

বিজ্ঞানীদের মতে, ম্যান্টলের নিচে লুকিয়ে থাকা বিশাল এই কাঠামোগুলো দীর্ঘ সময় ধরে পৃথিবীর ম্যাগনেটোস্ফিয়ারের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণ করে আসছে। এই কাঠামো মূলত বহিঃকেন্দ্র থেকে তাপ নির্গমনের প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে, যা শেষ পর্যন্ত চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি করা গলিত ধাতুর গতিপথ বদলে দেয়। অসংখ্য ভূতাত্ত্বিক মডেল, প্রাচীন চৌম্বকীয় তথ্য ও ভূ–অভ্যন্তরের ভূকম্পীয় চিত্র বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন।

Visit somethingsdifferent.biz for more information.

পৃথিবীর গভীরে কী রয়েছে

এত দিন বিজ্ঞানীরা মনে করতেন, এই পুরো প্রক্রিয়াটি কেবল পৃথিবীর কেন্দ্রের ওপর নির্ভর করে। কিন্তু নতুন গবেষণায় বিজ্ঞানীরা ভূ–অভ্যন্তরের নিচের স্তরে কিছু বিশাল অঞ্চলের সন্ধান পেয়েছেন, যেগুলোকে বলা হচ্ছে লার্জ লো–শেয়ার ভেলোসিটি প্রভিন্সেস। ভূমিকম্পের তরঙ্গ বিশ্লেষণ করে এই অঞ্চলগুলোর অস্তিত্ব নিশ্চিত করা হয়েছে। বিজ্ঞানীদের দাবি, এই দানবীয় কাঠামোগুলো ম্যান্টলের অন্যান্য স্তরের তুলনায় অনেক বেশি উত্তপ্ত ও ঘন। শুধু তা–ই নয়, কেন্দ্রের চারপাশে থাকা ম্যান্টল স্তরটি একটি নিয়ন্ত্রণকারী স্তরের মতো কাজ করতে পারে।

এক সেকেন্ডের জন্য পৃথিবীর ঘূর্ণন বন্ধ হলে কী হতে পারে

বিজ্ঞানীদের মতে, লোহাযুক্ত ঘন ম্যান্টল শিলা বিশাল কাঠামোগুলোকে দীর্ঘস্থায়ী করতে সাহায্য করছে। আর তাই কোটি কোটি বছর ধরে এই কাঠামোগুলো নিরবচ্ছিন্নভাবে কেন্দ্র থেকে তাপের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার বিজ্ঞানীরাও নিশ্চিত করেছেন, পৃথিবীর কেন্দ্র ও ম্যান্টলের সংযোগস্থলে তাপ স্থানান্তর পৃথিবীর ইতিহাসের বেশির ভাগ সময়জুড়েই চলমান ছিল।

কম্পিউটার মডেলিংয়ের মাধ্যমে দেখা গেছে, তাপপ্রবাহের পার্থক্যের ফলে পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রে একধরনের অসামঞ্জস্যতা বা অ্যাসাইমেট্রি তৈরি হতে পারে, যা দীর্ঘ সময় ধরে স্থায়ী হয়। সহজ কথায়, ম্যান্টলের যে অঞ্চলগুলো কেন্দ্রের শীতলীকরণ প্রক্রিয়ায় বেশি প্রভাব ফেলে, সেই অঞ্চলের চৌম্বক ক্ষেত্রেও ভিন্নতা দেখা যায়।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

Read full story at source