দেশের ক্রেডিট কার্ডে সবচেয়ে বেশি ১৩% অর্থ খরচ যুক্তরাষ্ট্রে ও থাইল্যান্ডে ১০%
· Prothom Alo
২০২৪ সালের আগস্টে দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সবচেয়ে বেশি প্রবাসী আয় আসার উৎস ও ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। তখন মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে পেছনে ফেলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বেশি প্রবাসী আয় আসতে শুরু করে। আবার বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশিদের ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহারও সবচেয়ে বেশি হয় সে দেশে। দেশটি থেকে সবচেয়ে বেশি প্রবাসী আয় আসার প্রবণতাটি টেকসই না হলেও ক্রেডিট কার্ডের খরচে এখনো সবার ওপরে যুক্তরাষ্ট্র।
Visit newsbetting.cv for more information.
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এমন তথ্যই উঠে এসেছে। এতে দেখা যায়, গত মার্চ মাসে দেশের ক্রেডিট কার্ডের গ্রাহকেরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ৪৭০ কোটি টাকা খরচ করেছেন। তার আগে মাসে অর্থাৎ ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশি ক্রেডিট কার্ডে খরচ হয়েছিল ৩৭৭ কোটি টাকা। মার্চে বিদেশে বাংলাদেশি ক্রেডিট কার্ডে যে অর্থ খরচ হয়েছে, তার অর্ধেকের বেশি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, থাইল্যান্ড, সৌদি আরব, সিঙ্গাপুর ও যুক্তরাজ্যে। দেশগুলোতে খরচ হয়েছে ২৪১ কোটি টাকা।
দেশের ক্রেডিট কার্ডে গত মার্চে সবচেয়ে বেশি ১৩ শতাংশ অর্থ খরচ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। টাকার পরিমাণ ৬১ কোটি টাকা। তারপরের অবস্থানে রয়েছে থাইল্যান্ড। গত মার্চে দেশটিতে ক্রেডিট কার্ডে খরচ হয়েছে ১০ দশমিক ৬৪ শতাংশ বা ৫০ কোটি টাকা। এ ছাড়া সৌদি আরবে ৪৯ কোটি টাকা (১০ দশমিক ৪৪ শতাংশ), সিঙ্গাপুরে ৪১ কোটি (৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ), যুক্তরাজ্যে ৪০ কোটি (৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ), ভারতে ৩৬ কোটি ৫০ লাখ (৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ) এবং মালয়েশিয়ায় ৩৫ কোটি টাকা (৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ), নেদারল্যান্ডসে ২৪ কোটি টাকা (৫ দশমিক ২৪ শতাংশ) ক্রেডিট কার্ডে খরচ হয়েছে।
বাংলাদেশ ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরেই ভারত শীর্ষস্থানে ছিল। ২০২৪ সালের মার্চে ক্রেডিট কার্ডে ৫০৩ কোটি টাকা খরচ হয়। তার মধ্যে ভারতে হয় ২১ শতাংশ বা ১০৬ কোটি টাকা। তারপরের অবস্থানে ছিল যুক্তরাষ্ট্র। ওই মাসে দেশটিতে খরচ হয়েছিল ৬৩ কোটি টাকা। এ ছাড়া থাইল্যান্ডে ৩৫ কোটি টাকা, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৫০ কোটি, সৌদি আরবে ৩৫ কোটি, সিঙ্গাপুরে ৩৩ কোটি এবং যুক্তরাজ্যে প্রায় ৩২ কোটি টাকা খরচ হয়।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আগস্টে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশিদের ভিসা প্রদানের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করে ভারত। তাতে ভ্রমণ ও চিকিৎসার প্রয়োজনে বাংলাদেশিদের ভারত যাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে কমে যায়। এর প্রভাবে ছয় মাসের ব্যবধানে ভারতে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার কমে ষষ্ঠ স্থানে যায়। চিকিৎসা ও ভ্রমণের ক্ষেত্রে ভারতের বিকল্প হয়ে ওঠে থাইল্যান্ড।
কোন দেশে ক্রেডিট কার্ডে বেশি খরচ হয়, সেটি পরিবর্তন হলেও খরচের ধরনের কোনো পরিবর্তন হয়নি। আগের মতোই ডিপার্টমেন্টাল স্টোরেই বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে ক্রেডিট কার্ড। গত মার্চে বিদেশে ক্রেডিট কার্ড থেকে ৩২ শতাংশ বা ১৫০ কোটি টাকা খরচ হয় ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে। এ ছাড়া খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রে ৭৬ কোটি, যাতায়াতে ৫৭ কোটি, ওষুধে ৫০ কোটি, ব্যবসায়িক সেবায় ৩৯ কোটি, তৈরি পোশাক ক্রয়ে ৩১ কোটি টাকা খরচ হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, গত মার্চ পর্যন্ত দেশে ২৭ লাখ ৮ হাজার ২৮৫টি ক্রেডিট ইস্যু করেছে বিভিন্ন ব্যাংক। মার্চে এসব কার্ডের মাধ্যমে লেনদেন হয়েছে ৪ হাজার ৭২৬ কোটি টাকা।
দেশে খরচ বেড়েছে ২১ শতাংশ
দেশের অভ্যন্তরে গত ফেব্রুয়ারির তুলনায় মার্চে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার ২১ শতাংশের বেশি বেড়েছে। আর ডিপার্টমেন্টাল স্টোর থেকে পণ্য কেনায় ক্রেডিট কার্ডের প্রায় ৪৫ শতাংশ অর্থ ব্যয় হয়। আর ১২ শতাংশ অর্থ ব্যয় হয় তৈরি পোশাক কিনতে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারি মাসে দেশের ভেতরে ক্রেডিট কার্ডের গ্রাহকেরা ৩ হাজার ৪২২ কোটি টাকা খরচ করেন। পরের মাস অর্থাৎ মার্চে সেটি বেড়ে ৪ হাজার ৩৪২ কোটি টাকা হয়। তার মধ্যে ১ হাজার ৯৪৭ কোটি টাকা ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে, ৫৫১ কোটি তৈরি পোশাকের দোকানে, ৪৮৪ কোটি খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রে, ৩৬০ কোটির ইউটিলিটি বিল পরিশোধ, ২৭৭ কোটি নগদ উত্তোলন, ২১১ কোটি টাকার ওষুধ ক্রয়সহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় হয়।
ব্যাংক খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেন, মার্চে পবিত্র ঈদুল ফিতর থাকায় স্বাভাবিকভাবেই ক্রেডিট কার্ডে খরচ বেশি করেছেন গ্রাহকেরা। এ সময় ব্যাংকগুলো বিভিন্ন অফার দিয়ে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারে গ্রাহকদের উৎসাহ দিয়ে থাকে। তা ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি থাকায় বাধ্য হয়ে ক্রেডিট কার্ড কিছুটা বেশি ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন গ্রাহকেরা।