১০০ টাকার বেশি বর্জ্য ফি আদায় হচ্ছে কি না, দেখবে তদারকি কমিটি

· Prothom Alo

বাসাবাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহের জন্য মাসে ১০০ টাকা ফি নির্ধারণ করে দিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। কিন্তু অনেক এলাকায় বাসিন্দাদের কাছ থেকে এর চেয়ে বেশি টাকা নেওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এবার প্রাথমিক বর্জ্য সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠান বা পিসিএসপির কার্যক্রম তদারকির জন্য অঞ্চলভিত্তিক কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দিয়েছে ডিএসসিসি।

বৃহস্পতিবার ডিএসসিসির সচিব জয়নুল আবেদীন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে বলা হয়েছে, করপোরেশনের আওতাধীন ওয়ার্ডগুলোতে বাসাবাড়ি থেকে প্রাথমিক বর্জ্য সংগ্রহকারী সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান বা পিসিএসপি বর্জ্য সংগ্রহ করে নির্ধারিত স্থানে নিয়ে যায়। এ কাজের জন্য প্রতিটি বাসাবাড়ি থেকে মাসে ১০০ টাকা সেবা ফি নেওয়ার নিয়ম রয়েছে। পিসিএসপিগুলো নির্ধারিত এই ফি নিচ্ছে কি না, তা নিয়মিত তদারকি করতে বলা হয়েছে।

Visit catcross.org for more information.

অফিস আদেশে বলা হয়েছে, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম আরও গতিশীল ও জনবান্ধব করার লক্ষ্যে পিসিএসপির দৈনন্দিন কাজ, বর্জ্য অপসারণ এবং সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম তদারকির দায়িত্ব অঞ্চলভিত্তিক আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাদের দেওয়া হয়েছে। ডিএসসিসির ১০টি অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তারা নিজ নিজ অঞ্চলে এই তদারকি করবেন।

কার্যপরিধিতে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডে পিসিএসপিগুলো প্রতিদিন নিয়মিত বর্জ্য সংগ্রহ করছে কি না, তা যাচাই করতে হবে। সেবা গ্রহণকারীদের কাছ থেকে নির্ধারিত মাসিক ফি ১০০ টাকার বেশি নেওয়া হচ্ছে কি না, সেটিও নিয়মিত তদারকি করতে হবে। কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে প্রমাণসহ প্রশাসনিক মাধ্যমে প্রতিবেদন দিতে হবে।

শুধু টাকা আদায়ের বিষয় নয়, বর্জ্য সংগ্রহের পর তা কোথায় নেওয়া হচ্ছে, সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন বা এসটিএসের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ঠিকভাবে চলছে কি না, সেটিও তদারকির আওতায় আনা হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

এর আগে প্রথম আলোতে এ নিয়ে তিন পর্বের ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। সেসব প্রতিবেদনে উঠে আসে, ডিএসসিসি বাসাবাড়ির বর্জ্য সংগ্রহের ফি ১০০ টাকা নির্ধারণ করলেও অনেক এলাকায় তা মানা হচ্ছে না। কোথাও ১৫০ টাকা, কোথাও ২০০ টাকা, আবার কোথাও এর চেয়েও বেশি টাকা আদায় করা হচ্ছে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, ময়লা না নিলে ভোগান্তিতে পড়তে হয়—এই সুযোগে অনেক এলাকায় নির্ধারিত ফির বাইরে টাকা নেওয়া হয়। অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি বা রাজনৈতিক পরিচয়ের লোকজন বর্জ্য সংগ্রহের এই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকায় সাধারণ বাসিন্দারা আপত্তি করতেও ভয় পান।

বর্জ্য সংগ্রহের এই ব্যবস্থায় সাধারণত বাসাবাড়ি থেকে ময়লা সংগ্রহ করে ভ্যান বা ছোট গাড়িতে করে এসটিএসে নেওয়া হয়। সেখান থেকে করপোরেশন বড় গাড়িতে করে ময়লা ল্যান্ডফিলে নেয়। কিন্তু বাসাবাড়ি থেকে ময়লা সংগ্রহের প্রথম ধাপটি অনেক এলাকায় বেসরকারি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের হাতে। এই জায়গাতেই ফি আদায় নিয়ে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ।

ডিএসসিসির নতুন আদেশে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সরাসরি তদারকির দায়িত্ব দেওয়ায় এখন অনিয়ম চিহ্নিত করার একটি প্রশাসনিক পথ তৈরি হলো।

তবে বাসিন্দারা বলছেন, শুধু তদারকির নির্দেশ দিলেই হবে না; কোন এলাকায় কোন পিসিএসপি কাজ করছে, তারা কত টাকা নিতে পারবে এবং অভিযোগ কোথায় জানাতে হবে—এসব তথ্য প্রকাশ করতে হবে। তাহলে নাগরিকেরা নিজেরাই অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলতে পারবেন।

নগর-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, নির্ধারিত ফির বেশি টাকা আদায় বন্ধ করতে হলে পিসিএসপিগুলোর তালিকা প্রকাশ, নিয়মিত তদারকি, অভিযোগ গ্রহণের ব্যবস্থা এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা—এই চারটি বিষয় নিশ্চিত করতে হবে। না হলে অফিস আদেশ থাকলেও মাঠপর্যায়ে অতিরিক্ত টাকা আদায় বন্ধ করা কঠিন হবে।

Read full story at source