পাহাড়েই রক্ষা পাচ্ছে না পাহাড়, ড্রোন দিয়ে নজরদারির পরিকল্পনা
· Prothom Alo

খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার যোগ্যাছোলা ইউনিয়নের খাড়িছড়া গ্রাম। সবুজে ঢাকা পাহাড়ি এই এলাকায় ১৫ একর জায়গাজুড়ে অনেকগুলো উঁচু-নিচু পাহাড়। সেখানে তিনটি পাহাড়ের ঢাল কেটে তৈরি করা হচ্ছিল কৃত্রিম হ্রদ। শেষ পর্যন্ত প্রশাসনের হস্তক্ষেপে কাজটি বন্ধ হয়। যদিও এর আগেই পাহাড়গুলোর বেশ কিছু অংশ কেটে ফেলা হয়।
এই ঘটনায় জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করে পরিবেশ অধিদপ্তর। গত এপ্রিলে অভিযান চালিয়ে জব্দ করা হয় একটি এক্সক্যাভেটর বা খননযন্ত্র। শুধু খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি নয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম অর্থাৎ পাহাড়ের তিন জেলায় বছরের পর বছর ধরে পাহাড় কাটা চলছে। জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযান, মামলা ও জরিমানার পরও এমন পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ড থামছে না। পাহাড় কাটা থামাতে নিরুপায় পরিবেশ অধিদপ্তর ভাবছে ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারির কথাও।
Visit biznow.biz for more information.
আজ শুক্রবার ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস। পার্বত্য চট্টগ্রামের বন, প্রকৃতি ও পাহাড় ধ্বংস নিয়ে পরিবেশকর্মীদের উদ্বেগের মাঝেই দিবসটি পালিত হবে। পরিবেশকর্মীরা বলছেন, এভাবে পাহাড়ের প্রাকৃতিক গঠন নষ্ট করার ফলে পার্বত্যাঞ্চলে পাহাড়ধসে প্রাণহানির ঘটনা যেমন বাড়ছে, তেমনি বিপন্ন হচ্ছে পাহাড়ের প্রাকৃতিক বন ও বাস্তুতন্ত্র। পাহাড় ও বন ধ্বংস হওয়ায় এই অঞ্চলের পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার বড় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। পাহাড় কাটা ও ক্রমাগত পাথর উত্তোলনের কারণে এই অঞ্চলের প্রাকৃতিক পানির উৎস ঝিরি-ঝরনা শুকিয়ে যাচ্ছে। পানির অভাবে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে পাহাড়ি পাড়াগুলো। বন্য প্রাণীর আবাসও ছোট হয়ে আসছে। অভিযোগ আছে, পাহাড়ের মাটি অবকাঠামো নির্মাণকাজে, জমি ভরাট, ইটভাটাসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।
পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড় ধ্বংসের সঙ্গে সাধারণ ব্যক্তিদের পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। পার্বত্য অঞ্চলে নির্বিচার পাহাড় কর্তনের ঘটনা ঘটলেও তা প্রতিরোধে নানা সীমাবদ্ধতা আছে। দুর্গম এলাকা হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে ঠিক সময়ে অভিযান চালানো সম্ভব হয় না। আবার পার্বত্য জেলাগুলোতে দীর্ঘদিন পরিবেশ অধিদপ্তরের কার্যালয় ছিল না। জেলা কার্যালয়গুলো কার্যক্রম শুরু করে দুই থেকে সাত বছর আগে। কিন্তু এখনো জনবল ও যানবাহনসংকট প্রকট। ফলে পাহাড় রক্ষাসহ পরিবেশবিরোধী কার্যক্রম বন্ধে হিমশিম খেতে হচ্ছে অধিদপ্তরকে। এ অবস্থায় পাহাড় রক্ষায় ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে পরিবেশ অধিদপ্তর।
পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড় ধ্বংসের সঙ্গে সাধারণ ব্যক্তিদের পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। পার্বত্য জেলাগুলোতে দীর্ঘদিন পরিবেশ অধিদপ্তরের কার্যালয় ছিল না। জেলা কার্যালয়গুলো কার্যক্রম শুরু করে দুই থেকে সাত বছর আগে। কিন্তু এখনো জনবল ও যানবাহনসংকট প্রকট। ফলে পাহাড় রক্ষাসহ পরিবেশবিরোধী কার্যক্রম বন্ধে হিমশিম খেতে হচ্ছে অধিদপ্তরকে। এ অবস্থায় পাহাড় রক্ষায় ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে পরিবেশ অধিদপ্তর।
পার্বত্য চট্টগ্রামে কী পরিমাণ পাহাড় কাটা হয়েছে, তার নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য-উপাত্ত সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে পাওয়া যায়নি। তবে পরিবেশ অধিদপ্তরের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় বছরে তিন জেলায় পাহাড় কর্তনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ৭৩টি মামলা করা হয়েছে। তবে এসব মামলায় কারও শাস্তি হয়েছে কি না কিংবা মামলাগুলো কোন পর্যায়ে আছে, তা জানা সম্ভব হয়নি।
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে পাহাড়ি জমির পরিমাণ ১৮ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৫ হেক্টর। অর্থাৎ ১৮ হাজার ৩৬৬ বর্গকিলোমিটার; যা দেশের মোট আয়তনের ১২ দশমিক ৭ শতাংশ।
দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ১৬টিতে পাহাড় রয়েছে। এর মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলার প্রায় পুরোটাই পাহাড়ি এলাকা। পরিবেশ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তার মতে, বাংলাদেশের মোট পাহাড়ি ভূমির ৮৯ শতাংশ তিন পার্বত্য জেলায়। তিন পার্বত্য জেলার মোট আয়তন ১৩ হাজার ২৯৫ বর্গকিলোমিটার। এই তিন জেলায় বসবাস করেন ১৮ লাখ ৪২ হাজার মানুষ।
গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ধসের ঘটনা শুরু হয় স্বাধীনতার আগে থেকেই। তবে ভয়াবহ পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে ২০১৭ সালের ১৩ জুন। ওই দিন বৃহত্তর চট্টগ্রামের পাঁচ জেলায় পাহাড়ধসে ১৬৪ জনের মৃত্যু হয়। তাঁদের মধ্যে রাঙামাটিতেই মারা যান ১২০ জন। ওই বছরের জুন ও জুলাইয়ে বান্দরবান জেলায় মারা যান ১৪ জন। পরবর্তী সময়েও রাঙামাটি ও বান্দরবানে পাহাড়ের নিচে চাপা পড়ে মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার যোগ্যাছোলা ইউনিয়নের জঙ্গলবেষ্টিত এলাকাটিতে পাহাড় কাটা হচ্ছিলমামলা বেশি বান্দরবানে
তিন পার্বত্য জেলার মধ্যে বান্দরবানে পাহাড় কর্তনের মামলা সবচেয়ে বেশি হয়েছে। গত দেড় বছরে এই জেলায় এ ধরনের মামলা হয়েছে ৪৮টি। বান্দরবানের সাত উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঘটনা ঘটেছে বান্দরবান সদর, নাইক্ষ্যংছড়ি ও আলীকদমে। মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে এখানে।
সম্প্রতি বান্দরবান শহরের বনরূপা, ছিদ্দিকনগর, রূপনগর, ক্যাচিংঘাটা, বীর বাহাদুর নগর, বালাঘাটা ও কালাঘাটা এলাকা ঘুরে দেখা যায়, এসব এলাকার বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ের মাটি কাটা হচ্ছে। খননযন্ত্র দিয়ে পাহাড়ের ঢাল কেটে ফেলা হচ্ছে। অনেক জায়গায় শ্রমিকের সাহায্যেও পাহাড় কাটা হচ্ছে। কিছু কিছু জায়গা ঘেরাও দিয়ে রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার তেঁতুলতলা–সংলগ্ন এলাকায়ও তিন থেকে চারটি পাহাড় কাটা হয়েছে মাস তিনেক আগে। এই জেলায় পাহাড় কর্তনের ঘটনায় মামলা হয়েছে ৯টি। তিন পাহাড়ি জেলার মধ্যে আয়তনে সবচেয়ে বড় রাঙামাটিতেও পাহাড়ের মাটি কাটা থেমে নেই। এই জেলায় মামলা হয়েছে ১৬টি।
নিয়মিত মামলার পাশাপাশি গত দেড় বছরে তিন জেলায় পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের কাছ থেকে পরিবেশগত ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৮৯ লাখ ৪৭ হাজার টাকা আদায় করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। পাহাড় রক্ষায় এই সময়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত ১০০টি অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে ৮৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। ১৭ ব্যক্তিকে ১৫ দিন করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে ৭টি খননযন্ত্র ও ৯টি ডাম্প ট্রাক।
পাহাড় কাটছে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও
তিন পার্বত্য জেলায় পাহাড়ের মাটি কাটার সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নামও উঠে এসেছে। স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে। এরই মধ্যে মামলা ও জরিমানা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর।
রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অনুমোদনের আগেই একাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক ভবন ও শিক্ষার্থীদের আবাসিক হল করার জন্য সদর উপজেলার ঝগড়াবিল এলাকায় পাহাড় কাটে। অনুমোদনের আগে এবং অতিরিক্ত পাহাড় কাটার কারণে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক আবদুল গফুরসহ সাতজনের বিরুদ্ধে গত বছরের ডিসেম্বরে মামলা করে পরিবেশ অধিদপ্তর।
অনুমোদন ছাড়া বান্দরবানের লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নের ডলুছড়ি এলাকায় ভবন নির্মাণের জন্য পাহাড় কাটার কারণে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনকে ৫৫ লাখ টাকা জরিমানা করে পরিবেশ অধিদপ্তর। শুনানির পর ছয় হাজার ঘনফুট পাহাড় কাটার কারণে গত বছরের জুলাইয়ে এ জরিমানা করা হয়। একই এলাকার লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডকে ১৬ লাখ টাকা জরিমানা করে অধিদপ্তর।
গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ধসের ঘটনা শুরু হয় স্বাধীনতার আগে থেকেই। তবে ভয়াবহ পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে ২০১৭ সালের ১৩ জুন। ওই দিন বৃহত্তর চট্টগ্রামের পাঁচ জেলায় পাহাড়ধসে ১৬৪ জনের মৃত্যু হয়। তাঁদের মধ্যে রাঙামাটিতেই মারা যান ১২০ জন। ওই বছরের জুন ও জুলাইয়ে বান্দরবান জেলায় মারা যান ১৪ জন। পরবর্তী সময়েও রাঙামাটি ও বান্দরবানে পাহাড়ের নিচে চাপা পড়ে মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় প্রায় ৬০ হাজার বর্গফুট পাহাড় কাটার ঘটনায় সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সুদর্শন চাকমার বিরুদ্ধে গত বছরের আগস্টে মামলা করে পরিবেশ অধিদপ্তর। সুদর্শন চাকমা পার্বত্য চট্টগ্রামের একটি আঞ্চলিক দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা। এ ছাড়া রাঙামাটির লংগদু উপজেলায় একটি রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতাদের বিরুদ্ধে পাহাড় কাটার অভিযোগ রয়েছে।
খাগড়াছড়ির রামগড়ে স্থলবন্দরের জমি ভরাট করার জন্য পাহাড়ের মাটি কাটার অভিযোগ ওঠে। গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে এ ব্যাপারে গত বছরের জানুয়ারিতে তদন্ত কমিটি গঠন করে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়।
পাহাড় কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান খান প্রথম আলোকে বলেন, যে পাহাড় কাটার জন্য জরিমানা করা হয়েছে, সেটি চলাচলের রাস্তা। তাঁরা পাহাড় কাটেননি। তাই আদালতে জরিমানার বিরুদ্ধে আপিল করেছেন।
বাঘাইছড়ি উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান সুদর্শন চাকমার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তাঁর মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
সড়কের রক্ষা দেয়ালের মাটি ভরাট করতে কাটা হয়েছে পাহাড়। ২০২৪ সালের ১৩ জানুয়ারি তোলাএখন ড্রোন ব্যবহারের পরিকল্পনা
তিন পার্বত্য জেলায় পরিবেশ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয় থাকলেও তাতে জনবলসংকট রয়েছে। তিনটি কার্যালয়ে মাত্র দুজন করে কর্মকর্তা-কর্মচারী আছেন। তাঁদের ১৩ হাজার ২৯৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের ২৬টি উপজেলা তদারক করতে হয়। পার্বত্যাঞ্চলের অনেক উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সড়কপথে যাতায়াতের সুযোগ নেই। দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকা হওয়ায় এসব এলাকা নিয়মিত নজরদারি করা সম্ভব হয় না। আবার কর্মকর্তাদের যাতায়াতের জন্য কোনো যানবাহন নেই। এ কারণে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হিমশিম খেতে হয় বলে জানান কর্মকর্তারা।
জনবল ও যানবাহনসংকটের কথা স্বীকার করেছেন পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক জমির উদ্দিন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, সীমাবদ্ধতা থাকলেও পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড় রক্ষায় তাঁরা কাজ করে যাচ্ছেন। পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, জরিমানা করা হচ্ছে।
পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড় রক্ষায় ড্রোন ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান পরিচালক জমির উদ্দিন। তিনি বলেন, ড্রোন ব্যবহার করা হলে পাহাড় কাটার দৃশ্য সহজে জানা যাবে। আর পাহাড় কাটার জন্য ব্যবহৃত খননযন্ত্রের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বাড়াতে উপজেলা পরিবেশ সুরক্ষা কমিটি গঠন করা হবে। স্থানীয় হেডম্যান, শিক্ষক, গণমাধ্যমকর্মীসহ এলাকার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়ে এই কমিটি করা হবে।
পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড় নিয়ে গবেষণা করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ইকবাল সারোয়ার। গবেষণার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিবেশের ভারসাম্যের জন্য পাহাড়গুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সেখানে পাহাড় ও বন দুটিই ধ্বংস করা হচ্ছে। নির্বিচার পাহাড় কাটার ফলে পাহাড়ি ভূমির ঢাল বৃদ্ধি পায়, মাটির বুনট হ্রাস পায়, গাছপালা মারা যায় এবং বৃষ্টির পানি মাটির গভীরে দ্রুত অনুপ্রবেশ করে। যেসব পাহাড় খাড়াভাবে কাটা হয়, সেসব পাহাড়ে ধসের ঝুঁকির মাত্রাও বেশি থাকে। তাই সরকারকে পাহাড় রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।