ফিফা থিম সং—৫০ কোটি ফুটবলপ্রেমীর টাইমলাইনে!

· Prothom Alo

তোমার সবটুকু উজাড় করে দাও (Dai Dai)—ফিফা বিশ্বকাপের অফিশিয়াল থিম সংয়ের তরঙ্গমালা আছড়ে পড়ছে আটলান্টিকের নীলাভ ঢেউয়ের সঙ্গে। আর প্রশান্ত মহাসাগরের হাওয়ায় ভেসে আসা সুর কোটি ফুটবলপ্রেমীর মনকে ছুঁয়ে যাচ্ছে। ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর অফিশিয়াল মূল থিম সং আনুষ্ঠানিকভাবে রিলিজ করার সঙ্গে সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল ঝড়ে উঠেছে। প্রথম ২৪ ঘণ্টায় এক কোটি মানুষ (১০ মিলিয়ন) গানটি উপভোগ করেছেন।

Visit sport-newz.biz for more information.

সর্বশেষ (৮ জুন ২০২৬ পর্যন্ত) পরিসংখ্যানে জানা যায়, সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যালগরিদমে ঘুরতে ঘুরতে পরোক্ষভাবে গানটি ৫০০ মিলিয়ন (৫০ কোটি) মানুষের টাইমলাইনে জায়গা করে নিয়েছে। গানটি ২২ কোটি বৈশ্বিক মানুষ সরাসরি শুনেছেন। ১১ জুন মেক্সিকোর এস্তাদিও আজতেকাতে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শাকিরা ও বার্না বয় লাইভ পারফর্ম করবেন। তখন এ সংখ্যা আরও কয়েক গুণ বেড়ে যাবে। শাকিরা এর আগে ২০১০ বিশ্বকাপের বিশ্বকাঁপানো অফিশিয়াল গান ‘Waka Waka’ গেয়েছিলেন। ২০২৬ সালের এই মেগা আসরের মাধ্যমে শাকিরা চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপের অফিশিয়াল গানের সঙ্গে যুক্ত হলেন। অন্যদিকে আয়োজক দেশের থিম লাইন হলো—এক পৃথিবী, এক বল, অনন্ত স্বপ্ন (One World, One Ball, Endless Dreams)।

২০২৬ বিশ্বকাপের মূল থিম সংয়ের নাম ‘দাই দাই’ (Dai Dai)। এটি গেয়েছেন বিখ্যাত কলম্বিয়ান গায়িকা শাকিরা এবং নাইজেরিয়ান আফ্রোবিট তারকা বার্না বয়। গানটিতে ল্যাটিন পপ ও আফ্রোবিটসের চমৎকার মিশ্রণ ঘটানো হয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের ঐক্য ও আনন্দকে ফুটিয়ে তোলে। গানটি চলাকালে অফিশিয়াল মিউজিক ভিডিওতে লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে, আর্লিং হলান্ড, হ্যারি কেন ও ভিনিসিয়াস জুনিয়রের মতো বর্তমান ফুটবল বিশ্বের নামীদামি তারকাদের দেখা যাবে। গ্লোবাল ও লোকাল কালচারের সমন্বয় করে গানটি তৈরি করা হয়ে থাকে। গানটি লেখা ও সুর করার পেছনে প্রাথমিকভাবে ছয়জন যুক্ত ছিলেন। অফিশিয়াল ক্রেডিট অনুযায়ী তাঁরা হলেন—শাকিরা, বার্না বয়, বেনি অ্যাডাম, এড শিরান, জন বেলিয়ন ও অ্যালেক্সান্ডার কাস্তিলো।

যুক্তরাষ্ট্রের পালে বিশ্বকাপের হাওয়া, মেসির আইকনিক ১০ নম্বর ফ্লাইট!

ফিফার অফিশিয়াল বিশ্বকাপ গান বা অ্যান্থেম নির্বাচনের প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল, সুপরিকল্পিত ও আন্তর্জাতিক মানের হয়ে থাকে। কোনো একটি সাধারণ গানকে হুট করে বিশ্বকাপ গান হিসেবে ঘোষণা করা হয় না। ফিফা বেশ কয়েকটি ধাপ এবং নির্দিষ্ট কিছু মানদণ্ড বজায় রেখে এই গান নির্বাচন করে। সাধারণত তারা বিশ্বের বড় বড় রেকর্ড লেবেল ও গ্লোবাল মিউজিক ডিস্ট্রিবিউটরদের সঙ্গে চুক্তি করে। ফিফার নিজস্ব একটি বিশেষজ্ঞ দল এবং মিউজিক পার্টনারদের টিম যৌথভাবে এ কাজ শুরু করে। এতে এক থেকে দুই বছর সময় লাগে। ফিফা এবার একক কোনো গানের ওপর নির্ভর না করে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ১৮টি গানের একটি অফিশিয়াল বিশ্বকাপ অ্যালবাম-২০২৬ রিলিজ করেছে। এ অ্যালবামের মূল গানগুলোর জন্য পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক সংগীত তারকাকে শুরু থেকেই চূড়ান্ত করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে অন্যতম প্রধান কয়েকজন হলেন বিখ্যাত কে-পপ ব্যান্ড ব্ল্যাকপিঙ্ক লিসা, ব্রাজিলের জনপ্রিয় পপ তারকা আনিত্তা, নাইজেরিয়ার তরুণ আফ্রোবিট সেনসেশন রেমা, আমেরিকার নামকরা র‍্যাপার শিল্পী ফিউচার, দক্ষিণ আফ্রিকার বিশ্বখ্যাত ‘ওয়াটার’খ্যাত গায়িকা টাইলা, পুয়ের্তো রিকোর ল্যাটিন আরবান ও রেগেতন কিংবদন্তি ড্যাডি ইয়াঙ্কি, কানাডিয়ান ও ফিলিস্তিনি-চিলিয়ান তারকা জুটি জেসি রেয়েজ ও এলিয়ানা। এ ছাড়া আইকনিক ব্রিটিশ ব্যান্ড ‘দ্য রোলিং স্টোনস’–এর রিমিক্স আকারে যুক্ত হয়েছে। এবার প্রথম এত বড় সংগীত তারকার মেলা বিশ্বকাপের অফিশিয়াল অ্যালবামে ঠাঁই করে পেল। ফিফা জানিয়েছে, গানটি থেকে অর্জিত সব আয় ‘ফিফা গ্লোবাল সিটিজেন এডুকেশন ফান্ড’-এ দান করা হবে, যা বিশ্বজুড়ে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা ও ফুটবলের সুযোগ তৈরিতে কাজ করবে।

দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: [email protected]

Read full story at source