ব্যথায় কাতর হনুমান চিকিৎসা নিতে নিজেই হাজির হলো ক্লিনিকে

· Prothom Alo

ব্যথার যন্ত্রণায় কাতর অসুস্থ একটি হনুমান নিজেই চিকিৎসার জন্য হাজির হয় ক্লিনিকে। সেখানে চিকিৎসা নিতে আসা লোকজনকে নিজের অসুস্থতার বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা করে। একটি প্রাণীর এমন আচরণে সবাই বিস্মিত হন। খবর পেয়ে প্রাণিসম্পদ বিভাগ হনুমানটি উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। গত মঙ্গলবার দুপুরে রাজবাড়ীর পাংশা শহরের বেসরকারি ক্লিনিক হামিদা মেডিক্যাল সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে।

Visit newsbetting.club for more information.

প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন বলেন, হামিদা মেডিক্যাল সেন্টারে সাধারণ রোগীদের বসার বেঞ্চে হনুমানটি এসেই মাথা নিচু করে বসে পড়ে। এ সময় সেখানে আসা রোগী ও মেডিক্যাল সেন্টারের লোকজন হনুমানের চারপাশে দাঁড়িয়ে মুঠোফোনে ছবি ধারণ করেন। কেউ কেউ কলা খেতে দেন। অসুস্থ হনুমানটি কখনো মাথা নিচু করে, কখনো বেঞ্চে শুয়ে পড়ে। মাঝেমধ্যে হাতের আঘাতের ক্ষতচিহ্ন দেখানোর চেষ্টা করে।

হামিদা মেডিক্যাল সেন্টারের মালিক আরিফুল ইসলাম বলেন, দুই দিন আগে হনুমানটি এসে হাত দিয়ে নিজের আঘাত দেখাচ্ছিল। সেখানে কয়েকটি সেলাই দেওয়া ছিল। পরে জানতে পারেন, পাংশার হাবাসপুরের এক তাল বিক্রেতা ধারালো অস্ত্র দিয়ে হনুমানটিকে কোপ দিয়েছিলেন। প্রথমে ওই দিন সকালে একবার এসে প্রায় ১০ মিনিট অপেক্ষার পর চলে যায়। আবার পরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হনুমানটি আসে। তাঁদের এখানে প্রাণীদের চিকিৎসক না থাকায় চিকিৎসা দিতে পারেননি, তবে প্রাণিসম্পদ ও বন বিভাগকে বিষয়টি জানানো হয়।

হনুমানটির পাশেই থাকা মোস্তফা কামাল নামের এক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, দুই ঘণ্টার বেশি সময় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও বন বিভাগে যোগাযোগ করেছেন, কিন্তু সাড়া পাননি। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) মুঠোফোনে বিষয়টি জানান। কিছুক্ষণের মধ্যে সেখানে লোক যাবে বলে তিনি জানান।

পাংশা উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের ভেটেরিনারি সার্জন ফাহাদ মোহাম্মদ প্রান্ত বলেন, গত মঙ্গলবার দুপুরে জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে জরুরি ফোন পেয়ে তাঁরা ওই ক্লিনিকে যান। এ সময় হনুমানটির অবস্থা দেখে মনে হয়েছে তার হাতে থাকা আগের ক্ষতস্থানে ইনফেকশন হয়েছে। অনেক কষ্টে দুটি ইনজেকশন দেওয়ার পর ব্যবস্থাপত্র দিয়ে আসেন। পরদিন বুধবার বন বিভাগ থেকে ফোন করেছিল, তখনো পরামর্শ দিয়েছেন। এর পরের অবস্থা জানা নেই। তাঁরা সাধারণত গরু-ছাগলের চিকিৎসা দেন। এ ধরনের বন্য প্রাণীর চিকিৎসা দেওয়ার অভিজ্ঞতা তাঁদের নেই, তবে এখন হনুমানটি আগের থেকে অনেক সুস্থ।

পাংশা উপজেলার বন কর্মকর্তা আজিজুল হক বলেন, মানুষ না হলেও হনুমানটি মানুষের মতো অনেক কিছুই বোঝে। ডান হাতের আগের আঘাতের স্থানে সেলাই দেওয়া আছে। ধারণা করা হচ্ছে, সেলাইয়ের ভেতর ইনফেকশন হওয়ায় ব্যথার যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে হনুমানটি ক্লিনিকে গিয়েছিল। মঙ্গলবার দুপুরে অনেক কৌশলে তাকে আনার পর প্রাণিসম্পদ বিভাগ অনেক কষ্টে ইনজেকশন দেওয়ার পর কিছুক্ষণ পর সে চলে যায়। পরদিন বুধবার খোঁজ করে মাগুরাডাঙ্গী এলাকার একটি স্কুলে ভ্যানে খাবার দিয়ে কৌশলে অফিসের একটি কক্ষে এনে আটকে রাখেন। তাকে নিয়মিত কলা-বিস্কুটসহ অন্যান্য খাবার দেওয়া হচ্ছে। খাঁচায় ভরে খুলনা বন্য প্রাণী সংরক্ষণ অধিদপ্তরে পাঠানোর চেষ্টা চলছে। দ্রুত ব্যবস্থা নিতে খুলনার প্রধান কার্যালয়কে জানানো হয়েছে।

পাংশার ইউএনও মো. রিফাতুল হক প্রথম আলোকে বলেন, হনুমানটি কয়েক দিন আগে কারও দ্বারা আঘাত পেয়ে আহত হয়। পরে উপজেলার বাহাদুরপুর এলাকার এক ব্যক্তির কাছে থেকে অনেকটা সুস্থ হয়। এর মধ্যে হনুমানটি আবার নিজের চিকিৎসার জন্য ক্লিনিকে গেলে স্থানীয়ভাবে জানার পর প্রথমে প্রাণিসম্পদ বিভাগে ও পরে বন বিভাগকে জানানো হয়। বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে প্রাণিসম্পদ বিভাগ চিকিৎসা দিয়ে অনেকটা সুস্থ করে তুলেছে। তারা হনুমানটিকে খুলনায় বন বিভাগের কাছে পাঠানোর চেষ্টা করছে।

Read full story at source