শিল্পে-সংগীতে আনন্দময় এক ছুটির দিন 

· Prothom Alo

ছুটির দিন শুক্রবার সকালে রাজধানীতে চারুকলার প্রদর্শনী আর সন্ধ্যায় সংস্কৃতি অঙ্গন ছিল সংগীত ও কবিতায় মুখর।

হাজারীবাগের দাগি আর্ট গ্যারেজে শুরু হয়েছে তরুণ প্রজন্মের শিল্পী অনিন্দিতা অনির প্রথম একক চিত্রকলা প্রদর্শনী। আর ছায়ানটে ছিল শিল্পী লুভা নাহিদ চৌধুরী ও জয়ন্ত রায়ের গান আবৃত্তির যুগল পরিবেশনা।

Visit tr-sport.click for more information.

প্রস্তরে নারী

নারীরা কোমল প্রকৃতির। তবে তাঁদের জীবন কাটে বাস্তবতার কঠিন পরিস্থিতির সঙ্গে সংগ্রাম করে। জন্ম থেকে মৃত্যু অবধি নারীর সেই জীবনসংগ্রাম, প্রেম, ভালোবাসা, সন্তানধারণ, সংসার, বার্ধক্য এসব পাথরে চিত্রিত করে তুলে ধরেছেন শিল্পী অনিন্দিতা অনি। ‘প্রস্তরে নারী’ নামের এই প্রদর্শনীতে বিভিন্ন আকৃতির ৩০টি পাথরে তিনি ফুটিয়ে তুলেছেন নারীর জন্ম, শৈশব, কৈশোর থেকে বিভিন্ন পর্যায়। নারীর আবেগ, আকাঙ্ক্ষা, স্বপ্ন ও অভিব্যক্তির প্রকাশ করেছেন রংরেখার নান্দনিকতায়।

সকালে ৯৫/৫ হাজারীবাগের (পুরাতন থানা মোড়) দাগি আর্ট গ্যারেজে এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন চারুশিল্পীদের সংগঠন হোয়াইট পেপারের প্রধান নির্বাহী শিল্পী সোনিয়া বিনতে হাসান। প্রদর্শনী চলবে ২৩ জুন পর্যন্ত, প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সবার জন্য খোলা থাকবে।

শিল্পী অনিন্দিতা অনি চারুকলার স্নাতক। চিত্রকলা চর্চা ছাড়াও তিনি আবৃত্তি ও অভিনয় করেন। ঢাকা বেতারের তালিকাভুক্ত নাটকের শিল্পী। শিল্পী জানালেন, দুই বছর থেকে তিনি প্রদর্শনীর এই শিল্পকর্মগুলো করেছেন। পঞ্চগড়ে বেড়াতে গিয়ে মহানন্দা নদী থেকে অনেক পাথর সংগ্রহ করেছিলেন। সেই পাথরগুলোর মূল প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ন রেখে তার ওপরে অ্যাক্রিলিকে ছবিগুলো এঁকেছেন। ছবিগুলোর শিরোনাম দিয়েছেন নারীজীবনের বিভিন্ন পর্যায় অবলম্বন করে। পাহাড়–পর্বতের গুহাতেই মানুষ প্রাগৈতিহাসিক কালে ছবি এঁকে মনের ভাব ও সৌন্দর্যবোধের প্রকাশ করেছিল। সেই বিষয়টি থেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে নারীর সংগ্রামী জীবনকে তিনি পাথরের ওপরে তুলে ধরতে চেষ্টা করেছেন। প্রাচীন গুহাচিত্রে যে ধরনের রঙের ব্যবহার করা হয়েছিল, তিনিও অধিকাংশ ক্ষেত্রে তেমন রঙেই নারীদের রাঙিয়ে তুলতে চেষ্টা করেছেন। 

ব্যতিক্রমী এই প্রদর্শনীর শিল্পকর্মের উপস্থাপনা ও গ্যালারিটির পরিবেশও বেশ আলাদা। প্রাঙ্গণভরা সবুজের নিবিড় সমাবেশ। গ্যালারির ইটের দেয়ালে কোনো পলেস্তারা নেই। শিল্পকর্মগুলো উপস্থাপনার ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে। পাটের তৈরি চট দিয়ে ঢাকা ছোট ছোট টেবিলে শিল্পকর্মগুলো সাজিয়ে রাখা। বৈচিত্র্যময় পরিবেশে ভিন্ন ধরনের এই শিল্পকর্ম প্রদর্শনী শিল্পানুরাগী দর্শকদের ভালো লাগবে।

‘প্রস্তরে নারী’ শিল্পকর্ম প্রদর্শনীতে শিল্পী অনিন্দিতা অনি ও দর্শকেরা। গতকাল হাজারীবাগের দাগি আর্ট গ্যারেজে

রত্নাবলীর পরম্পরা

গতকাল বর্ষার সন্ধ্যা সুরে ভরিয়ে দিলেন শিল্পী লুভা নাহিদ চৌধুরী। ছায়ানট সংস্কৃতি–ভবনের রমেশচন্দ্র দত্ত স্মৃতি মিলনকেন্দ্রে সাংস্কৃতিক সংগঠন নন্দন আয়োজন করেছিল ‘রত্নাবলীর পরম্পরা’ নামে বিশেষ সংগীত ও আবৃত্তির যুগল আয়োজন। নন্দনের কার্যক্রম শুরু হয়েছিল ২০০৩ সালে। প্রতি তিন মাস পরপর বিষয়ভিত্তিক গানের অনুষ্ঠান করে থাকে নন্দন। এবার ছিল তাদের ৮৮তম আসর।

অনুষ্ঠানে শিল্পী লুভা নাহিদ চৌধুরী গানের পালা শুরু করেছিলেন অতুল প্রসাদ সেনের ‘তুমি দাও গো দাও মোর পরান ভরি’ গানটি পরিবেশন করে। প্রতিটি গান পরিবেশনের আগে গানগুলোর বৈশিষ্ট্য, কোন শিল্পী প্রথম গেয়েছেন, কোন পরিপ্রেক্ষিতে লেখা, সুর করা—এমন অনেক তথ্য তুলে ধরে পরিবেশনাকে ভিন্নতা দিয়েছিলেন তিনি। অতুল প্রসাদের গানেরই প্রাধান্য দিয়েছেন শিল্পী। পরপর পাঁচটি গান করেছেন অতুল প্রসাদের। অন্য গানগুলো ছিল, ‘তোমার নয়ন পাতে’, ‘তুমি কবে আসিবে মোর আঙ্গিনায়,’ ‘বঁধু ক্ষণিকের দেখা তবু তোমারে ভুলিতে পারি না’ ও ‘আমার পরান কোথা যায়’।

গানের মাঝে মাঝে পাঠ ও আবৃত্তি পরিবেশন করেন জয়ন্ত রায়।

শিল্পী লুভা নাহিদ চৌধুরীর গাওয়া পরের গানগুলোর মধ্যে ছিল নজরুলসংগীত ‘গভীর রাতে খুঁজি তোমারে’, দ্বিজেন্দ্র লাল রায়ের ‘এ জগতে আমি বড়ই একা’, রজনীকান্ত সেনের ‘ওই বধির যবনিকা’। এ ছাড়া ‘ঝরানো পাতার পথে’, প্রদীপ জাগিয়া রহ’, ‘শ্যামলের প্রেম’ এমন বেশ কয়েকটি আধুনিক গানও শুনিয়েছেন। অনুষ্ঠান শেষ হয়েছিল রজনীকান্ত সেনের ‘বেলা যে ফুরায়ে যায়’ গানটি দিয়ে।

গানের সঙ্গে হারমোনিয়ামে ছিলেন রতনচন্দ্র মজুমদার, তবলায় ইফতেখার আলম প্রধান ও কি-বোর্ডে রবিনস চৌধুরী। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ফেরদৌসী কাকলি।

Read full story at source