কক্সবাজার সৈকত থেকে দুই দিনে সাত টন বর্জ্য অপসারণ
· Prothom Alo

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের লাবণী এবং ইনানী সমুদ্রসৈকত থেকে ৭ টন বর্জ্য অপসারণ করেছেন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্য ও পর্যটকেরা। বর্জ্যের বেশির ভাগ প্লাস্টিক বোতল, পলিথিন, চিপসের প্যাকেটসহ অপচনশীল ময়লা-আবর্জনা। পরে এসব বর্জ্য কক্সবাজার পৌরসভার ডাম্পিং স্টেশনে ফেলা হয়।
আন্তর্জাতিক সমুদ্র দিবস-২০২৬ উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার সকালে সৈকতের লাবণী পয়েন্টে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘কেওক্রাডং বাংলাদেশ’। আজ শনিবার বিকেলে উখিয়ার ইনানী সৈকতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হয়। দুই দিনের এই অভিযানে স্বেচ্ছাসেবীরা প্রায় ৭ মেট্রিক টন বর্জ্য সংগ্রহ করেন। সংগঠনটির সদস্যদের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও সামাজিক সংগঠনের সদস্যরা।
Visit turconews.click for more information.
কেওক্রাডং বাংলাদেশের পরিচালক মুনতাসির মামুন বলেন, ‘প্রায় ২০ বছর ধরে আমরা পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালিয়ে আসছি। আন্তর্জাতিক সমুদ্র দিবস উদ্যাপনের লক্ষ্যে এবার আমরা কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের ইনানী ও লাবণী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেছি। কক্সবাজার সৈকত ভ্রমণে আসেন বিপুলসংখ্যক পর্যটক। যে কারণে সৈকত ময়লা–আবর্জনায় ভরপুর থাকে। এসব ময়লা সাগরের পানিতে ছড়িয়ে পড়ে পানি দূষিত করে। পরিবেশ নষ্ট হয়। ময়লা–আবর্জনা ফেলার ক্ষেত্রে লোকজন সচেতন থাকলে এ সংকট দেখা যেত না।’
মুনতাসির মামুন বলেন, প্লাস্টিক এবং অপচনশীল জাতীয় বর্জ্যের কারণে দিন দিন সৈকতের সৌন্দর্য হারিয়ে যাচ্ছে। সৈকতকে তার আগের রূপে ফিরিয়ে আনার জন্য এবং পর্যটকদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কেউক্রাডং বাংলাদেশ দীর্ঘদিন যাবৎ সমুদ্র দিবসকে কেন্দ্র করে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। দুই দিনের এই পরিচ্ছন্নতা অভিযানে সমুদ্রসৈকত এলাকা থেকে প্রায় ৭ টন প্লাস্টিক এবং অপচনশীল বর্জ্য সরানো হয়েছে।
পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নেওয়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং বিআরএফ ইয়ুথ ক্লাব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক নিয়াজ মাখদুম বলেন, ‘সমুদ্র দিবসকে কেন্দ্র করে আমরা পরিচ্ছন্ন কার্যক্রমে অংশ নিয়েছি। আমরা সমুদ্রসৈকত এলাকায় অভিযান পরিচালনার সময়ে লক্ষ করেছি অসংখ্য পরিমাণে অপচনশীল বর্জ্য রয়েছে। যেগুলো দেখে আমরা অবাক হয়েছি। আমরা ট্যুরিস্টরা সচেতন হলে সাগর সুন্দর থাকবে।’
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নিতে আসা সৃজিতা রায় বলেন, ‘সমুদ্র দিবস উদ্যাপন উপলক্ষে কক্সবাজারে যে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়েছে, এতে অংশগ্রহণ করার জন্য আমি ভারত থেকে এসেছি। আমরা সমুদ্রে ঘুরতে এসে প্লাস্টিক–জাতীয় অনেক বর্জ্য সমুদ্রে ফেলে দিই। আমরা যে আবর্জনাগুলো তৈরি করছি, সেগুলো নিজেরাই যদি একটি নির্দিষ্ট স্থানে ফেলি, তাহলে সেগুলোকে সহজেই রিসাইক্লিং করা সম্ভব হবে। বাংলাদেশ এবং ভারতের মানুষের প্লাস্টিক–জাতীয় জিনিস ব্যবহারের প্রবণতা বেশি। সচেতন করা গেলে প্লাস্টিক–জাতীয় বর্জ্য কমে আসবে।’