আব্বার সঙ্গে ভারতযাত্রা

· Prothom Alo

ছবি: লেখকের সৌজন্যে

আব্বার হার্টে ব্লক ধরা পড়েছিল। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ভারতের ভেলোরে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। পরিবারের অনেকেই দ্বিধায় ছিলেন—আমিও কখনো দেশের বাইরে যাইনি। শেষ পর্যন্ত আমিই আব্বার সঙ্গী হলাম। ভিসা, টিকিট, হাসপাতালের অ্যাপয়েন্টমেন্ট, ডলার এনডোর্সমেন্ট—সবকিছু নিজ হাতে সামলাতে গিয়ে বুঝতে পারলাম, দায়িত্ব মানুষকে কত দ্রুত বড় করে তোলে।

বেনাপোল সীমান্ত পেরিয়ে কলকাতা, তারপর বিমানে চেন্নাই হয়ে ভেলোর। পুরো যাত্রাপথে আব্বা ছিলেন শান্ত, আর আমি ছিলাম উদ্বিগ্ন। পরে জেনেছিলাম, কলকাতার একটি হোটেলে এক রাতে তাঁর প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট হয়েছিল। কিন্তু আমি ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়েছিলাম বলে তিনি আমাকে ডাকেননি। সেই মুহূর্তটি আজও মনে করিয়ে দেয়—বাবারা নিজের কষ্ট লুকিয়ে সন্তানের স্বস্তিকে আগলে রাখেন। তাঁদের ভালোবাসা অনেক সময় শব্দে নয়, ত্যাগ আর নীরব সহনশীলতায় প্রকাশ পায়।

Visit extonnews.click for more information.

এই দেখো, আমি তোমার বাবা

ভেলোরে আমাদের ১৫ দিনের অবস্থান ছিল সংগ্রাম, শিক্ষা ও আশার মিশেলে ভরা। হাসপাতালের করিডরে অপেক্ষা, নিজের হাতে রান্না করা, নতুন শহর চেনা, বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে পরিচয়—সবকিছুর মধ্যেই আব্বাকে আরও কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছিলাম। তাঁর ধৈর্য, সাহস, সরলতা এবং জীবনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব আমাকে নতুন করে অনুপ্রাণিত করেছিল। সেই সফরে শুধু একজন রোগীর সহযাত্রী ছিলাম না; ধীরে ধীরে একজন দায়িত্বশীল সন্তান হয়ে উঠেছিলাম।

২০২২ সালের ডিসেম্বরে আব্বা আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। কিন্তু আজও সেই ভারতযাত্রার প্রতিটি মুহূর্ত আমার স্মৃতিতে জীবন্ত। ভেলোর থেকে আমি কোনো দামি স্মারক নিয়ে ফিরিনি; ফিরেছিলাম একজন দায়িত্বশীল মানুষ হয়ে ওঠার শিক্ষা নিয়ে।
এই বাবা দিবসে আমি শুধু একজন বাবাকে স্মরণ করছি না; স্মরণ করছি সেই মানুষটিকে, যিনি নিজের নীরব ভালোবাসা দিয়ে আমার জীবনকে চিনতে শিখিয়েছেন।

শাপলা হাউজিং সোসাইটি, পশ্চিম আগারগাঁও, ঢাকা

Read full story at source