রাজধানীতে দুই ঘণ্টায় ৫৪ মিলিমিটার বৃষ্টি, বিভিন্ন স্থানে পানি জমে দুর্ভোগ
· Prothom Alo

রাজধানীর কল্যাণপুরের খালেক পাম্পে আজ রোববার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা নাগাদ বাসে করে পৌঁছেছিলেন অনিমা রায়। টাঙ্গাইল থেকে আড়াই ঘণ্টা লেগেছে এখানে পৌঁছাতে। যখন ঢাকায় পৌঁছালেন, তখন ঝিরঝির বৃষ্টি পড়ছে। এর মধ্যে অন্তত ২০ মিনিট সময় লাগল সিএনজিচালিত একটি অটোরিকশা পেতে। স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ ভাড়া দিয়ে সেই অটোরিকশায় করে তাঁর বাসা মণিপুরিপাড়ায় আসতে সময় লাগাল দেড় ঘণ্টা। অথচ স্বাভাবিক কর্মদিবসে এই পথটুকু পাড়ি দিতে সর্বোচ্চ আধা ঘণ্টা লাগে। আজ বেশি সময় লাগার কারণ হলো ভারী বৃষ্টিতে বিভিন্ন জায়গায় জলাবদ্ধতার কারণে তৈরি যানজট।
আজ বিকেল চারটার পর থেকেই রাজধানীতে তুমুল বৃষ্টি শুরু হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, রাজধানীতে দুই ঘণ্টায় ৫৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এটাকে ভারী বৃষ্টি হিসেবেই ধরা হয়; আর এই বৃষ্টির ফলে নগরের বিভিন্ন জায়গায় পানি জমে গেছে। সবচেয়ে বেশি কষ্ট হয়েছে অফিস শেষে ঘরমুখী মানুষের। বিকেল পাঁচটার পর ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, মহাখালীসহ বিভিন্ন স্থানে শত শত মানুষকে যানবাহন পাওয়ার আশায় ঠায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।
Visit extonnews.click for more information.
নগরের তেজতুরী বাজার, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, কাঁঠালবাগান, মিরপুরের কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, ধানমন্ডিসহ বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে যাওয়ায় মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।
প্রচণ্ড গরমের পর বিকেল চারটার পর নামে মুসলধারে বৃষ্টি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকা। ২১ জুনআবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. তরীফুল নেওয়াজ কবীর আজ প্রথম আলোকে বলেন, দুপুর ১২টা থেকে ৬টা—এই ছয় ঘণ্টার হিসাব অনুযায়ী ৫৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। তবে বৃষ্টি মূলত হয়েছে বিকেল চারটার পর থেকে। সেই হিসাবে ২ ঘন্টায় ৫৪ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।
সবে বর্ষার মৌসুম শুরু। বাকিটা সময় এর চেয়েও বেশি বৃষ্টি হলে নগরের পরিস্থিতি কী হবে তা নিয়ে শঙ্কিত নগরবিশেষজ্ঞরা। তাঁদের একজন ইকবাল হাবিব আজ প্রথম আলোকে বলেন, পরিকল্পনাহীনভাবে কোনো কাজ করলে যা ফল হয়, এ ক্ষেত্রে তা–ই হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অনেক ঢাকঢোল পিটিয়ে, বিশেষ করে উত্তর সিটিতে বিপুল টাকা ব্যয় করে বলা হয়েছিল, আর জলজট সৃষ্টি হবে না। বিশেষ করে তৎকালীন প্রশাসক এ ধরনের কথা বলেছিলেন।
ইকবাল হাবিব বলেন, নিউমার্কেট এলাকা থেকে বুড়িগঙ্গার খাড়ির দূরত্ব ৩০০ গজের বেশি না। অথচ সেই নিউমার্কেট এলাকায় এখন প্লাবন হয়ে যায় সামান্য বৃষ্টি হলে। একই ঘটনা ঘটে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকা, মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায়। নাব্যতাকে বিবেচনায় না নিয়ে, নগরের নিম্ন অঞ্চলের বৈশিষ্ট্যগুলোকে অক্ষুণ্ন না রেখে যেভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে, তাতে নগরবাসীর জীবনে আরও ভোগান্তি অপেক্ষা করছে।