ঢাকা, গুলশান ক্লাবসহ অভিজাত ক্লাবের সদস্যরা অগ্রিম করের আওতায়

· Prothom Alo

দেশের নিবন্ধিত যেকোনো অভিজাত ক্লাবের সদস্যদের করের আওতায় আনা হয়েছে। এ জন্য আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের অর্থবিলে নতুন ধারা যুক্ত করা হয়েছে। নতুন এই ধারার আওতায় রাজধানীর গুলশান ক্লাব, উত্তরা ক্লাব, ঢাকা ক্লাবসহ দেশের অভিজাত ক্লাবের সদস্যদের জন্য কর দিতে হবে। অর্থবিলের বিধান অনুযায়ী, অভিজাত ক্লাবের সদস্য হতে বা সদস্যপদ নবায়ন করার ক্ষেত্রে আর্থিক যে লেনদেন হবে, তার ওপর ১০ শতাংশ হারে উৎসে কর দিতে হবে। ক্লাব কর্তৃপক্ষ এই কর আদায় করবে।

Visit esporist.com for more information.

উদাহরণ হিসেবে ধরা যাক, দেশের কোনো একটি অভিজাত ক্লাবের সদস্যপদ কেউ এক কোটি টাকায় কিনেছেন। সেই ক্ষেত্রে ওই সদস্যকে ১ কোটি টাকা সদস্যপদের দামের সঙ্গে ১০ শতাংশ হারে উৎসে কর বাবদ ১০ লাখ টাকা পরিশোধ করতে হবে। ক্লাব কর্তৃপক্ষ সদস্যপদ বিক্রির সময় এই উৎসে কর সংগ্রহ করবে। একইভাবে সদস্যপদ নবায়নের ক্ষেত্রে যে লেনদেন হবে, তার ওপরও ১০ শতাংশ হারে উৎসে কর দিতে হবে। তবে অভিজাত ক্লাবের সদস্যদের মাসিক, ত্রৈমাসিক বা বার্ষিক যে চাঁদা দিতে হয়, তার ওপর এই কর প্রযোজ্য হবে না।

অর্থবিলের নতুন বিধানে বলা হয়েছে, সোসাইটি নিবন্ধন বা অন্য কোনো আইনের আওতায় নিবন্ধিত ক্লাবগুলোকে নতুন করে কর দিতে হবে। সে ক্ষেত্রে ক্লাবের সদস্যপদ গ্রহণ, নবায়ন, হস্তান্তর বা পরিবর্তনের জন্য পরিশোধিত অর্থের ওপর ১০ শতাংশ হারে উৎসে কর সংগ্রহ করবে ক্লাব কর্তৃপক্ষ। পরে এসব ক্লাব থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সেই কর সংগ্রহ করবে।

বাংলাদেশের প্রাচীনতম ক্লাবগুলোর মধ্যে ঢাকা ক্লাব অন্যতম। ক্লাবটির নিবন্ধিত হয় ১৯১১ সালে। বর্তমানে ক্লাবটির সদস্যসংখ্যা প্রায় ৩ হাজার ৮০০। তবে কিছুদিনের মধ্যে এ সংখ্যা সাড়ে চার হাজার হয়ে যাবে বলে জানান ক্লাব–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

নতুন এই করের বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা ক্লাবের পরিচালক মো. রবিউল ইসলাম প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘এই করের বিষয়ে প্রথম শুনলাম। আমরা সদস্যপদ স্থানান্তরের সময় ছয় লাখ টাকা ফি নিয়ে থাকি। এখন উৎসে কর নেওয়া হলে সরকার হয়তো ৬০ হাজার টাকা নিয়ে যাবে।’ তবে এখনকার সদস্যরা যাঁর যাঁর ক্ষেত্রে সব ধরনের কর দেন। এখন নতুন করে এখানে করারোপ করা হলে তা ক্লাবের আয়ের ওপর কিছুটা চাপ তৈরি করতে পারে।

দেশের আরেক অভিজাত ক্লাব ‘গুলশান ক্লাব’ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭৮ সালে। ক্লাবটির বর্তমান সদস্যসংখ্যা দুই হাজারের বেশি। রাজধানীর আরেক অভিজাত ক্লাব ‘উত্তরা ক্লাব লিমিটেড’। ১৯৯২ সালে যাত্রা শুরু করা এ ক্লাবের এখন সদস্যসংখ্যা প্রায় আড়াই হাজার। বনানী ও চট্টগ্রাম ক্লাবসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ওঠা ক্লাবগুলোর সদস্যসংখ্যা প্রায় এমনই।

নতুন করে অভিজাত ক্লাবের সদস্যদের করের আওতায় আনা গেলে করের আওতা বাড়ার পাশাপাশি এই খাত থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কর আদায় হবে বলে আশা করছেন রাজস্ব কর্মকর্তারা।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের আয়কর বিভাগের এক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঢাকার প্রথম সারির ১০টি ক্লাবের প্রতিটির সদস্যসংখ্যা হাজারের ওপর। আর একেকটি ক্লাবে সদস্যপদ প্রাপ্তি ও স্থানান্তরের ফি গড়ে ৫০ লাখ টাকার কম নয়। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন এলাকায় নতুন নতুন অনেক ক্লাব গড়ে উঠছে এবং নতুন সদস্যও বাড়ছে। তাই অভিজাত এ শ্রেণিকে করের আওতায় আনতেই এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

Read full story at source