উত্তরবঙ্গের কৃষি খাতের জন্য বিশেষ তহবিল, ৯% সুদে ঋণ পাবেন কৃষি উদ্যোক্তারা

· Prothom Alo

দেশের উত্তরবঙ্গে কৃষিভিত্তিক বিশেষ অর্থনৈতিক কেন্দ্র গড়ে তোলার লক্ষ্যে তিন হাজার কোটি টাকার একটি পুনঃ অর্থায়ন তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মূলত রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের জেলাগুলোতে কৃষিপণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি, আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প বিকাশের মাধ্যমে গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য এই বিশেষ ঋণ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, এই তহবিল থেকে ঋণ পেতে গ্রাহকদের সুদ দিতে হবে ৯ শতাংশ, যা বর্তমান সুদহারের চেয়ে কম। আর ঋণদাতা ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৪ শতাংশ সুদে তহবিল নিতে পারবে।

Visit rouesnews.click for more information.

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত এবং দারিদ্র্য বিমোচনে উত্তরবঙ্গে উৎপাদিত কৃষিপণ্যের আধুনিক ফসল-উত্তর ব্যবস্থাপনা ও বাজারজাতকরণ অবকাঠামো সীমাবদ্ধতা, বিশেষায়িত হিমাগারের অভাব এবং পর্যাপ্ত প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এই বাধাগুলো দূর করে সম্পূর্ণ কৃষি মূল্য শৃঙ্খলকে শক্তিশালী করতে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি বাড়াতে এই ঋণ সহায়তা দেওয়া হবে।

কাদের জন্য কত ঋণ

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এই ঋণের সুবিধা পাবেন মূলত রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের জেলাগুলোর বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান। এককভাবে বা দলবদ্ধভাবে ফসল উৎপাদন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ পালনের জন্য কৃষকেরা এই তহবিল থেকে ঋণ নিতে পারবেন। কৃষিভিত্তিক কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা (সিএমএসএমই) প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প স্থাপনের জন্যও তহবিল থেকে সুবিধা পাবেন। কৃষি ও কৃষিভিত্তিক পণ্য রপ্তানির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানও পাবেন এই তহবিল সুবিধা। এ ছাড়া নারী ও প্রান্তিক কৃষকদের অর্থায়ন সহজ করতে স্থাবর সম্পত্তির পরিবর্তে সামাজিক বা দলগত জামানতের ভিত্তিতে ঋণের সুযোগ রাখা হয়েছে।

তহবিলের তিন হাজার কোটি টাকাকে বিতরণের সুবিধার্থে চারটি প্রধান খাতে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে কৃষি উৎপাদন খাতে বরাদ্দ করা হয়েছে মোট তহবিলের ১৫ শতাংশ, কৃষিপণ্য সংরক্ষণ, পরিবহন ও অবকাঠামো খাতের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে তহবিলের ৩৫ শতাংশ, কৃষিভিত্তিক পণ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণে বরাদ্দ রাখা হয়েছে তহবিলে ৩৫ শতাংশ অর্থ ও কৃষিপণ্য রপ্তানি খাতের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে বাকি ১৫ শতাংশ অর্থ।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, কৃষি উৎপাদন খাতে ঋণ দেওয়া হবে সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকা, কৃষিপণ্য সংরক্ষণ, পরিবহন, বাজারজাতকরণ ও অবকাঠামো খাতের উন্নয়নে সর্বোচ্চ ঋণসীমা ৪০ কোটি টাকা, কৃষিভিত্তিক পণ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের জন্য ৪০ কোটি টাকা, কৃষিপণ্য ও কৃষিভিত্তিক পণ্যের রপ্তানি খাতের জন্য সর্বোচ্চ ঋণসীমা ১৫ কোটি টাকা। তবে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাংকগুলো ঋণের সীমা ২০ শতাংশ বৃদ্ধি বা কমাতে পারবে।

কৃষি উৎপাদন খাতের ঋণের মেয়াদ সর্বোচ্চ ১৮ মাস (৩ মাসের গ্রেস পিরিয়ডসহ)। অন্যান্য খাতের (সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানি) জন্য মেয়াদ সর্বোচ্চ ৩৬ মাস (৩ থেকে ৬ মাসের গ্রেস পিরিয়ডসহ)।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এই তহবিলের অর্থ শুধু ‘নতুন ঋণ’ হিসেবে বিতরণ করতে হবে। কোনোভাবেই পুরোনো ঋণ সমন্বয় বা খেলাপি ঋণ নিয়মিত করার জন্য এই তহবিল ব্যবহার করা যাবে না। খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এই ঋণ পাওয়ার যোগ্য হবেন না। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত মাশুল ছাড়া গ্রাহকের কাছ থেকে অন্য কোনো ফি বা মাশুল আদায় করা যাবে না। আগ্রহী গ্রাহকদের এই সুবিধা নিতে তাঁদের নিকটস্থ তফসিলি ব্যাংকের শাখা, উপশাখা বা এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে নির্দেশনায়।

Read full story at source