জামানত ছাড়া অ্যাপ দিয়েই ৫০ হাজার টাকা ঋণ পাচ্ছেন বিকাশ মার্চেন্টরা, শর্ত কী
· Prothom Alo
ব্যবসার জরুরি প্রয়োজনে অল্প কিছু টাকার জন্য ব্যাংকের বারান্দায় ঘোরার বা আত্মীয়স্বজনের কাছে হাত পাতার দিন শেষ হচ্ছে। দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের আর্থিক সংকট দূর করতে যৌথভাবে জামানতবিহীন ডিজিটাল লোন সেবা চালু করেছে ব্র্যাক ব্যাংক ও বিকাশ।
নতুন এ ব্যবস্থার ফলে বিকাশ অ্যাপ ব্যবহারকারী যোগ্য মার্চেন্টরা কোনো ধরনের কাগজপত্র জমা না দিয়েই তাৎক্ষণিকভাবে ঋণ নিতে পারছেন। জামানত ছাড়া ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত এ মার্চেন্ট ঋণ নেওয়া যাবে।
Visit casino-promo.biz for more information.
জাতীয় অর্থনৈতিক শুমারি ২০২৪–এর তথ্য অনুসারে, দেশে প্রায় সোয়া এক কোটি অর্থনৈতিক ইউনিট রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় দুই–তৃতীয়াংশ, অর্থাৎ ৬৫ শতাংশ প্রতিষ্ঠানেরই কোনো ধরনের নিবন্ধন নেই। নিবন্ধন না থাকায় এই ব্যবসায়ীদের সিংহভাগই অনানুষ্ঠানিক বিভিন্ন উৎস থেকে ঋণ করে থাকেন।
আবার যাঁদের নিবন্ধন রয়েছে, তাঁদের অনেকেও ঋণ পেতে দীর্ঘসূত্রতার সম্মুখীন হতে হয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কাগজপত্রের ঝামেলা, দীর্ঘ সময় কিংবা আনুষ্ঠানিকতার জটিলতায় পড়েন। এসব কারণে তাঁরা ব্যাংক থেকে ঋণ না নিয়ে অপ্রাতিষ্ঠানিক কোনো উৎস থেকে ঋণ নেন। বিকাশ জানিয়েছে, ছোট ব্যবসায়ীদের এমন অর্থায়ন সমস্যার ডিজিটাল সমাধান হিসেবে এসেছে এই মার্চেন্ট ঋণ।
যেভাবে মিলবে এই লোন
বিকাশ জানিয়েছে, এই ঋণসুবিধা পাওয়ার জন্য কোনো দৃশ্যমান সম্পত্তি বা জামানতের প্রয়োজন হবে না। ব্যাংকিং জটিলতা এড়াতে মার্চেন্ট অ্যাকাউন্টের লেনদেনের ইতিহাসকেই ঋণ পাওয়ার যোগ্যতা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
যোগ্য মার্চেন্টরা সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। ব্যাংকে না গিয়ে সরাসরি বিকাশ মার্চেন্ট অ্যাপ থেকেই মাত্র কয়েক ক্লিকে ঋণের আবেদন করা যাবে। অ্যাকাউন্টে নিয়মিত পেমেন্ট গ্রহণের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট যত বেশি ও নিয়মিত হবে, ঋণ পাওয়ার সম্ভাবনাও তত বাড়বে।
অর্থাৎ কোনো মার্চেন্ট যত বেশি নিয়মিত বিকাশের মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছ থেকে পেমেন্ট গ্রহণ করবেন, তাঁর ঋণ পাওয়ার সম্ভাবনাও তত বাড়বে। এই ঋণের টাকা পণ্য কেনা, ব্যবসা সম্প্রসারণ, মৌসুমি চাহিদা পূরণ বা অন্যান্য ব্যবসায়িক প্রয়োজনে মূলধন হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন মার্চেন্টরা।
যা বলছেন উদ্যোক্তারা
দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংকিং ব্যবস্থার নানা আনুষ্ঠানিকতা ও দীর্ঘসূত্রতার কারণে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা প্রায়ই ঋণসুবিধা থেকে বঞ্চিত হতেন। তবে নতুন এই সেবা তাঁদের ব্যবসায় স্বস্তি এনে দিয়েছে।
সাতক্ষীরার সম্রাট শু-র স্বত্বাধিকারী মো. শিহার রায়হান সম্প্রতি অ্যাপ থেকে ১০ হাজার টাকা মার্চেন্ট ঋণ পেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আগে হঠাৎ টাকার দরকার হলে আত্মীয়স্বজনের কাছে ধার চাইতে হতো, যা বেশ অস্বস্তিকর ছিল। বিকাশ মার্চেন্ট অ্যাপ থেকে ঋণ পাওয়ার ব্যবস্থা আমার ব্যবসাকে অনেক সহজ করে দিয়েছে।’
কারুপণ্যের উদ্যোক্তা রোকেয়া আকতারও বিকাশের মার্চেন্ট ঋণ নিয়ে ইতিবাচক অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘গ্রাহকদের কাছ থেকে নিয়মিত বিকাশে পেমেন্ট নেওয়ার সুবাদে তাঁর হিসাবে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে লেনদেন হয়। এই ভালো লেনদেন তথ্যের কারণে মার্চেন্ট ঋণ পাওয়া আমার জন্য সহজ হয়েছে।’
বিকাশের চিফ কমার্শিয়াল অফিসার আলী আহম্মেদ জানান, দেশে বর্তমানে বিকাশের প্রায় ৮ লাখ মার্চেন্টের বড় নেটওয়ার্ক রয়েছে। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ডিজিটাল লেনদেনের তথ্য বিশ্লেষণ করে তাঁদের ঋণ পাওয়ার যোগ্যতা হিসাব করা হয়। স্থাবর সম্পদের চেয়ে লেনদেনের ধরনই এখন ঋণ পাওয়ার প্রধান সূচক।