‘মুখে গামছা প্যাঁচাইয়া গরম পানি ঢাইলা আমারে নির্যাতন করে’

· Prothom Alo

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় চুরির অভিযোগে এক কিশোরকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় মামলা হয়েছে। তার মুখে গামছা পেঁচিয়ে, গরম পানি ঢেলে নির্যাতন ও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তার মা। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলার গোবিন্দপুর এলাকায় ওই কিশোর নির্যাতনের শিকার হয়।

এ ঘটনায় গতকাল বুধবার রাতে তারেকের মা খুকি বেগম বাদী হয়ে পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পুলিশ মামলার অন্যতম আসামি মো. শফিকুল ইসলাম প্রধানীয়াকে গ্রেপ্তার করেছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে তাঁকে চাঁদপুর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

Visit asg-reflektory.pl for more information.

ওই কিশোরের নাম মো. তারেক (১৭)। সে মতলব দক্ষিণ উপজেলার গোবিন্দপুর এলাকার মৃত জাকির ঢালীর ছেলে। সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হলের ক্যানটিনে কর্মচারী হিসেবে কাজ করে। কয়েক দিন আগে ছুটি নিয়ে বাড়িতে এসেছিল।

মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রোববার রাতে গোবিন্দপুর এলাকার ব্যবসায়ী আল আমিন প্রধানীয়ার বাড়িতে চুরি হয়। বাড়ির ফটকে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে চুরির ঘটনা ধরা পড়লেও চোরকে স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা যায়নি। এরপর চুরির সঙ্গে জড়িত সন্দেহে তারেককে মঙ্গলবার বিকেলে বাড়ি থেকে কৌশলে ডেকে বের করে আনেন আল আমিন প্রধানীয়া, শফিকুল ইসলাম প্রধানীয়াসহ কয়েকজন।

পরিবার জানায়, তারেককে এলাকার একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর ও নির্যাতন করা হয়। এ সময় তার মুখে গামছা পেঁচিয়ে গরম পানি ঢালা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তারেকের মা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে ছেলেকে নির্যাতন না করার জন্য অনুনয়-বিনয় করলেও তাকে ছাড়া হয়নি বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়। একপর্যায়ে তারেক অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

‘আমি চুরি করিনি। সন্দেহ করে আমাকে তারা চোর বানাইছে’, কাঁদতে কাঁদতে প্রথম আলোকে এ কথা বলে তারেক। তার ভাষ্য, ‘চোরের অপবাদ দিয়া গাছের সঙ্গে বাঁইধা আমারে মারধর করছে। মুখে গামছা প্যাঁচাইয়া সেখানে গরম পানি ঢাইলা আমারে নির্যাতন করে। আমার কাছ থেইকা জোরপূর্বক চুরির স্বীকারোক্তিও আদায়ের চেষ্টা করে।’

তারেকের মা খুকি বেগমের দাবি, তাঁর ছেলে নির্দোষ। সন্দেহের বশে ছেলেকে মারধর ও নির্যাতন করা হয়। তিনি ছেলেকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য অনেক অনুনয়-বিনয় করলেও তাঁরা শোনেননি। এ ঘটনার বিচার চান তিনি।

কিশোরের মা বাদী হয়ে আল আমিন প্রধানীয়া, শফিকুল ইসলাম প্রধানীয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগে মামলা করেছেন বলে জানান মতলব দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান মানিক। তিনি বলেন, পুলিশ অভিযান চালিয়ে শফিকুলকে গ্রেপ্তার করেছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

Read full story at source