দরজায় টোকা না দিয়ে কারও শোবার ঘরে ঢুকে পড়ছেন না তো
· Prothom Alo

অনেক মানুষই আছেন, যাঁরা কারও ঘরে প্রবেশ করার আগে ন্যূনতম নক করার প্রয়োজন অনুভব করেন না। ঘরে যাঁরা থাকেন, বিষয়টি তাঁদের জন্য অস্বস্তিকর হয়ে দাঁড়ায়।
বিকেলবেলা আয়েশ করে চায়ের কাপ হাতে নিয়ে স্বামীর সঙ্গে শোবার ঘরে নেটফ্লিক্সে হয়তো ছবি দেখতে বসেছেন। ছবির ইন্টারভ্যালে যাওয়ার আগেই ঘরের দরজা খুলে ঢুকে গেলেন দেবর।
Visit milkshake.it.com for more information.
কী করো তোমরা? আমাকে ডাকলে না কেন? আমিও দেখতাম। ছোট্ট ঘটনা, কিন্তু মুহূর্তেই দুজনের ব্যক্তিগত সময়টা আর ব্যক্তিগত থাকল না। এমন ঘটনায় প্রতিদিনই কমবেশি পড়তে হয় কাউকে না কাউকে। হোক সেটা মায়ের বাড়ি, শ্বশুরবাড়ি কিংবা দম্পতির নিজেদের আলাদা সংসার। দরজা আছে, কিন্তু নক করার অভ্যাসটা যেন নেই! অথচ দরজায় ছোট্ট একটা টোকাই অনেক সময় স্বস্তিকর হয় দুই পক্ষের জন্যই।
কেন অন্যের কষ্টে আনন্দ পাই, বিপদে পড়া মানুষকে সাহায্য করি না?আমাদের অনেকের কাছে বন্ধ দরজা মানেই ‘ব্যস্ত আছি’ নয়, বরং ‘দেখি তো ভেতরে কী হচ্ছে!’ দরজায় টোকা দিয়ে না ঢোকাটা অনেক সময় তোমাকে তোয়াক্কা করছি না সেটারও বহিপ্রকাশ। ঘরের দরজায় টোকা না দিয়ে ঢোকার পেছনে বেশ কিছু কারণ থাকতে পারে। সহজভাবে বললে—
অভ্যাসের অভাব তার মধ্যে অন্যতম। ছোটবেলা থেকে পরিবারে কারও ঘরে ঢোকার আগে নক করার চল না থাকলে বড় হয়েও সেই অভ্যাস তৈরি হয় না। শিশুরা তো কথার চেয়ে বড়দের আচরণ দেখেই বেশি শেখে।
আবার ব্যক্তিগত পরিসর সম্পর্কে সচেতনতার অভাবও কারণ হতে পারে। ‘নিজের মানুষ, আবার অনুমতি নিতে হবে কেন’——এমন ভাবনা থেকে নক না করেই ঢুকে পড়েন অনেকে। অতিরিক্ত আপন ভাবা কিংবা নিছক কৌতূহল থেকেও এমনটা হতে পারে।
আরেকটি কারণ হতে পারে নিরাপত্তাহীনতা। বিশেষ করে নতুন সম্পর্ক বা শ্বশুরবাড়ির মতো পরিস্থিতিতে কেউ কেউ মনে করতে পারেন, কাছের মানুষটি হয়তো আগের মতো তাঁর সঙ্গে নেই। সেই অনিশ্চয়তা থেকেও তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে বেশি জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা তৈরি হতে পারে।
সবশেষে আছে পারিবারিক অভ্যাস। যে পরিবারে মা–বাবা, ভাইবোন কেউ কারও ঘরে ঢোকার আগে নক করেন না, সেখানে এটিই স্বাভাবিক আচরণ হয়ে দাঁড়ায়। ফলে ব্যক্তিগত পরিসর যে সম্পর্কেরই অংশ, সেটি আলাদা করে শেখা হয় না।
যেসব জায়গায় দরজায় টোকা দিয়ে ঢোকাটা আবশ্যক—
১. শোবার ঘর বা ব্যক্তিগত কাজের জায়গা।
২. বাথরুম বা পোশাক পরিবর্তনের জায়গায়।
যেভাবে অভ্যাস করাতে হবে
মনের বন্ধুর হেড অব মেন্টাল হেলথ প্রোগ্রাম এবং লিড সাইকো সোশ্যাল কাউন্সেলর কাজী রুমানা হক জানালেন, কারও ঘরে ঢোকার আগে দরজায় নক করা শুধু ভদ্রতা নয়, ব্যক্তিগত পরিসরের প্রতি সম্মানও। কিন্তু পরিবারে অনেক সময় এই অভ্যাসটি থাকে না। এমনকি শুধু নতুন দম্পতির ক্ষেত্রেই নয়, মা–বাবার ঘরেও আমরা অনেক সময় নক না করেই ঢুকে পড়ি। অথচ সবারই নিজের একটি ব্যক্তিগত পরিসর আছে।
১. শৈশব থেকেই মা–বাবার আচরণ দেখে শিশুদের ব্যক্তিগত পরিসরের অভ্যাস গড়ে ওঠে। তাই মা–বাবা যদি সন্তানের ঘরে ঢোকার আগে নক করেন, ধীরে ধীরে শিশুর মধ্যেও একই অভ্যাস তৈরি হবে।
২. বড়দের ক্ষেত্রে অভ্যাসটি বদলানো কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। কাউকে বারবার মনে করিয়ে দেওয়া যায়—ঘরে ঢোকার আগে নক করতে হবে। মনোযোগ দিয়ে নিজের আচরণ খেয়াল করাও জরুরি। মনোবিদের ভাষায়, এটিকে আচরণ পরিবর্তনের চর্চার মাধ্যমে ধীরে ধীরে বদলানো সম্ভব। কেউ যদি নিজের অভ্যাস পরিবর্তন করতে গিয়ে বারবার সমস্যায় পড়েন, তাহলে মনোবিজ্ঞানী বা সাইকোথেরাপিস্টের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে।