খেলতে খেলতে শিখির উদ্যোগে মেলা
· Prothom Alo

শিশুদের সৃজনশীলতা, উদ্ভাবনী চিন্তাশক্তি এবং খেলাধুলার মাধ্যমে শেখার আনন্দকে আরও সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে খেলতে খেলতে শিখি (শিশু বিকাশ কেন্দ্র, শেখেরটেক মোহাম্মদপুর)-এর উদ্যোগে ১৫ আগস্ট ২০২৬ আয়োজন করা হয় টিএলএম (টিচিং লার্নিং ম্যাটারিয়ালস) মেলা।
মেলার মূল উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিজ হাতে তৈরি আকর্ষণীয় শিক্ষণ ও ক্রীড়া উপকরণ প্রদর্শন এবং শিশুদের সেগুলো ব্যবহার করে সরাসরি খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করা। মেলায় প্রদর্শিত অধিকাংশ উপকরণই বিভিন্ন ফেলনা ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণ ব্যবহার করে তৈরি করা হয়। এর মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব শিক্ষা, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী চিন্তার একটি সুন্দর দৃষ্টান্ত তুলে ধরা হয়।
Visit umafrika.club for more information.
মেলায় প্রদর্শিত উপকরণ খেলাগুলো শিশুদের বিকাশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে—শারীরিক, জ্ঞানীয়, ভাষা ও যোগাযোগ এবং সামাজিক-আবেগিক বিকাশ—সহায়ক হিসেবে পরিকল্পনা করা হয়। প্রতিটি উপকরণ এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল, যাতে শিশুরা খেলার মাধ্যমে স্পর্শ, পর্যবেক্ষণ, অনুসন্ধান ও হাতে-কলমে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়।
ইভেন্টের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিল তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী সামারা নুহাইয়া। সে শিশুদের সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের ক্রাফটিং আইটেম তৈরি করে এবং সেগুলো শিশুদের উপহার দেয়। শিশুদের মধ্যে নেতৃত্ব, আত্মবিশ্বাস ও সহযোগিতার মনোভাব গড়ে তোলার লক্ষ্যে এটি ছিল একটি বিশেষ উদ্যোগ।
নাগরিক সংবাদে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই–মেইল: [email protected]
মেলার অন্যতম আকর্ষণ ছিল আউটডোর পেপার পেস্টিং অ্যাকটিভিটি। কাগজ ছেঁড়া, আঠা লাগানো ও নির্দিষ্ট স্থানে কাগজ বসানোর মাধ্যমে শিশুদের দক্ষতা বৃদ্ধি পায়। একই সঙ্গে রং, আকৃতি, ফুল, ফল ও প্রকৃতি সম্পর্কে তাদের ধারণা তৈরি হয় এবং দলবদ্ধভাবে কাজ করার মাধ্যমে শেয়ারিং ও সামাজিক দক্ষতা বিকশিত হয়।
আরেকটি আকর্ষণীয় কার্যক্রম ছিল ডিআইওয়াই। পুনর্ব্যবহারযোগ্য কার্ডবোর্ড দিয়ে তৈরি পাজলের এর মধ্য দিয়ে চামচের সাহায্যে ছোট বল পরিচালনার মাধ্যমে শিশুদের নানামুখী দক্ষতা উন্নত হয়। ভুল হলে পুনরায় চেষ্টা করার মাধ্যমে ধৈর্য ও সমস্যা সমাধানের অভ্যাসও গড়ে ওঠে।
এ ছাড়া ‘কাকতাড়ুয়া পাপেট থিয়েটারের’ প্রাণবন্ত ও শিক্ষণীয় পাপেট পরিবেশনা শিশুদের কল্পনাশক্তি, ভাষা বিকাশ, সামাজিক মূল্যবোধ, নৈতিক শিক্ষা ও ইতিবাচক আচরণ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সার্বিকভাবে মেলাটি ছিল আনন্দ, সৃজনশীলতা, খেলাধুলা ও শিক্ষার এক প্রাণবন্ত আয়োজন—যেখানে শিশুরা ‘খেলতে খেলতে শিখেছে, তৈরি করতে করতে সৃজনশীল হয়েছে এবং একসঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নিয়েছে’।