সাবেক প্রধান বিচারপতিদের কেউ লেখালেখিতে, কেউ সালিসে, কেউ নিভৃতে
· Prothom Alo

স্বাধীন বাংলাদেশে পাঁচ দশকের বেশি সময়ে প্রধান বিচারপতি হিসেবে ২৫ জন বিচারপতি দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁদের মধ্যে দুজন রাষ্ট্রপতি হিসেবে ও দুজন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
প্রধান বিচারপতি হিসেবে নির্ধারিত মেয়াদ অন্তত দুজন শেষ করতে পারেননি, পদত্যাগ করেছেন বা পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ২৫ ব্যক্তির মধ্যে ১১ জন জীবিত আছেন। মারা গেছেন ১৪ জন।
Visit saltysenoritaaz.com for more information.
আইনজীবী ও সংশ্লিষ্টদের ভাষ্যমতে, বেঁচে থাকা সাবেক প্রধান বিচারপতিদের অবসর–পরবর্তী জীবন সবার একরকম নয়। কেউ কেউ অবসরে বই পড়ার পাশাপাশি লেখালেখি করছেন। অবসরজীবনে কেউবা আর্বিট্রেশন (সালিস) পরিচালনা করছেন। আবার কারও অবসরজীবন কাটছে অনেকটাই নীরবে-নিভৃতে। অবসরজীবনে কাউকে আবার মামলার মুখোমুখি হয়ে কারাভোগ করতে হয়েছে। জীবিত ১১ জন সাবেক প্রধান বিচারপতির মধ্যে ১০ জন দেশে ও একজন কানাডায় আছেন।
রাষ্ট্রপতি পদে কারা কত দিন থেকেছেন, কে কোথায় আছেনবর্তমান প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীদেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে বর্তমানে বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি প্রধান বিচারপতি হিসেবে গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর শপথ নেন। সংবিধান অনুযায়ী বিচারপতিদের অবসরের বয়স ৬৭ বছর। সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুসারে, বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর জন্ম ১৯৬১ সালের ১৮ মে। এ হিসাবে তাঁর ৬৭ বছর পূর্ণ হবে ২০২৮ সালের ১৭ মে।
এর আগে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ১১ আগস্ট দেশের ২৫তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ। ৬৭ বছর পূর্ণ হওয়ায় গত ২৭ ডিসেম্বর অবসর যান তিনি। অবসরজীবন কেমন কাটছে জানতে চাইলে বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘একটু পড়াশোনা, লেখালেখি—এসবের মধ্যে কেটে যাচ্ছে। অনেক দিন ধরে আইন অঙ্গনের বাইরের বই পড়া হয়নি। অনেক বই জমে গেছে। এখন সময় নিয়ে বইগুলো মন দিয়ে পড়ছি।’
ওবায়দুল হাসানদেশের ২৪তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে আপিল বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ২০২৩ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর শপথ নেন। সুপ্রিম কোর্টের ফুল কোর্ট সভা নিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কের ফেসবুক পোস্ট, এরপর ফুল কোর্ট সভা স্থগিত, আদালত প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীদের দিনভর অবস্থান-বিক্ষোভের মধ্যে ২০২৪ সালের ১০ আগস্ট ওবায়দুল হাসান ও আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতি পদত্যাগ করেন। মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার এক বছর পাঁচ মাসে আগে পদত্যাগ করেন ওবায়দুল হাসান।
২৩তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে ২০২১ সালের ৩১ ডিসেম্বর শপথ নেন হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। ২০২৩ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর অবসরে যান তিনি। অবসরজীবন কেমন কাটছে, জানতে চাইলে বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী প্রথম আলোকে বলেন, ‘রায় কীভাবে লেখা যায়—এর ওপর পড়াশোনা করছি, লেখালেখি করছি। দেখা যাক কত দিনে শেষ হয়।’
আপিল বিভাগের বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন ২০১৮ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি। ২২তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে ২০২১ সালের ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন তিনি। কেমন আছেন জানতে চাইলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘ভালো আছি। আর্ব্রিটেশন করি দু-একটা—এ নিয়ে ব্যস্ততা।’
মেয়াদ শেষের আগে বিদেশে থেকে পদত্যাগ
সুরেন্দ্র কুমার সিনহাদেশের ২১তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে আপিল বিভাগের বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা ২০১৫ সালের ১৭ জানুয়ারি শপথ নেন। তিনি এস কে সিনহা নামে পরিচিত। তিনি ছিলেন দেশের ইতিহাসে প্রথম কোনো অমুসলিম প্রধান বিচারপতি। তাঁর চাকরির মেয়াদ ছিল ২০১৮ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। মেয়াদ শেষের ৮২ দিন আগেই তিনি পদত্যাগ করেন।
প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে পদত্যাগের আগপর্যন্ত নানা কারণে আলোচনায় আসেন এস কে সিনহা। শেষ বিতর্ক তৈরি হয় সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে দেওয়া তাঁর লেখা রায় নিয়ে। ২০১৭ সালের ২ অক্টোবর থেকে তাঁর ছুটিতে যাওয়া, পরে ছুটির মেয়াদ বাড়িয়ে বিদেশ যাওয়া, এরপর বিদেশ থেকে পদত্যাগপত্র (১০ নভেম্বর) পাঠানো—এসব নিয়ে ছিল ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। রাষ্ট্রপতি ২০১৭ সালের ১৪ নভেম্বর তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন।
বর্তমানে কানাডার টরন্টোতে আছেন এস কে সিনহা। জানতে চাইলে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘দেশে ফিরতে আমি এক পায়ে দাঁড়িয়ে। ট্রাভেল ডকুমেন্ট দিচ্ছে না। ইতিমধ্যে পাসপোর্টের জন্য ফি জমা দিয়ে আবেদনও করেছি, পেন্ডিং আছে। দুই-আড়াই বছর ধরে পেন্ডিং। রিমাইন্ডার দিয়েছি, কোনো রিপ্লাই দিচ্ছে না। শারীরিকভাবে চেষ্টা করছি ভালো থাকার। তবে মানসিকভাবে চাপ পড়ছে; কারণ, অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে যাচ্ছি। আমার পেনশনের জন্যও ডকুমেন্ট দিয়েছি। কিন্তু কেন দেওয়া হচ্ছে না, এর কারণ খুঁজে পাচ্ছি না।’ পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে বলে দাবি করেন সাবেক এই প্রধান বিচারপতি।
প্রসঙ্গত, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় ২০২১ সালের ৯ নভেম্বর রায় দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক। এই মামলার রায়ে দুটি ধারায় সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে ৭ ও ৪ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
২০তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে ২০১১ সালের ১৮ মে শপথ নেন আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেন। তিন বছর সাত মাসের বেশি সময় প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে ২০১৫ সালের ১৬ জানুয়ারি অবসরে যান তিনি।
মামলা, কারাভোগ ও জামিনে মুক্তি
এ বি এম খায়রুল হকদেশের ১৯তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে আপিল বিভাগের বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক ২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর শপথ নেন। পরের বছরের ১৭ মে তিনি অবসরে যান। তাঁর নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে ২০১১ সালের ১০ মে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী (তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রবর্তন করে আনা) বাতিল করে রায় দেন। এ নিয়ে এর পর থেকে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা বিতর্ক ও আলোচনা তৈরি হয়।
২০২৫ সালের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাঁকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদল কর্মী হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর বিভিন্ন মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তাঁর বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা দাঁড়ায় ৯টি। এসব মামলায় এক বছরের বেশি সময় কারাভোগের পর ১৯ আগস্ট জামিনে মুক্তি পেয়ে বাসায় ফেরেন সাবেক এই প্রধান বিচারপতি।
কেমন আছেন তাঁরা
কে এম হাসান১৭তম প্রধান বিচারপতি মো. তাফাজ্জাল ইসলাম ২০০৯ সালের ২৩ ডিসেম্বর শপথ নেন। মাত্র ৪৭ দিন দায়িত্ব পালন করে ২০১০ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি অবসরে যান। কেমন আছেন জানতে চাইলে তাফাজ্জাল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, বনানীর বাসায় আছি। টুকটাক শারীরিক সমস্যা লেগে আছে। চিকিৎসক দেখতে আসেন, ফিজিওথেরাপি নিতে হয়। তবে বয়সের তুলনায় ভালো আছি। প্রথম আলো নিয়মিত রাখি ও দেখি। আর্বিট্রেশন (সালিস) করছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে (১৯৬২ সালে, সম্মান) পাস করা সতীর্থদের সংগঠন আছে, সেখানেও যাই।’
২০০৪ সালের ২৭ জানুয়ারি থেকে ২০০৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্বে ছিলেন ১৪তম প্রধান বিচারপতি সৈয়দ জে আর মোদাচ্ছির হোসেন। জানতে চাইলে ১৯ আগস্ট তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘এলিফ্যান্ট রোডের বাসায় আছি, ভালো আছি। আল্লাহ-বিল্লাহ করি। মাঝেমধ্যে বাইরে যাই।’
দেশের ১৩তম প্রধান বিচারপতি কে এম হাসান ২০০৩ সালের ২৩ জুনে শপথ নিয়ে ২০০৪ সালের ২৬ জানুয়ারি অবসরে যান। জানতে চাইলে গতকাল শনিবার তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘ভালো আছি। দুপা ভেঙে গিয়েছিল, তার পর থেকে একটু সমস্যায় আছি। বই পড়ে সময় কাটে।’
বিচারপতি কে এম হাসানের অবসর গ্রহণের পর ২০০৪ সালে সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনীর মাধ্যমে বিচারপতিদের অবসরের বয়সসীমা ৬৫ থেকে ৬৭ বছর করা হয়।
অষ্টম প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিচারপতি এ টি এম আফজাল। সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুসারে, ১৯৯৫ সালের ১ মে থেকে ১৯৯৯ সালের ৩১ মে পর্যন্ত প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। কেমন আছেন জানতে চাইলে গতকাল তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘মানসিক ও শারীরিক দিক দিয়ে ভালো নেই। ধানমন্ডির বাসায় আছি। ভালো করে কথা বলতে পারি না। আমি সবার মঙ্গল কামনা করি।’
প্রয়াত ১৪ সাবেক প্রধান বিচারপতি
সাহাবুদ্দীন আহমদ (ওপরে বাঁ থেকে), মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান, মোস্তাফা কামাল (নিচে বাঁ থেকে), লতিফুর রহমানসুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখা যায়, সাবেক ২৫ জন প্রধান বিচারপতিদের নাম ও মেয়াদকাল উল্লেখ রয়েছে। তাতে দেখা যায়, তাঁদের মধ্যে ১৪ জন প্রয়াত।
প্রথম প্রধান বিচারপতি থেকে শুরু করে সপ্তম প্রধান বিচারপতি প্রয়াত হয়েছেন। তাঁরা হলেন যথাক্রমে, বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম (১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর থেকে ১৯৭৫ সালের ৫ নভেম্বর পর্যন্ত), বিচারপতি বিচারপতি সৈয়দ এ বি মাহমুদ হোসেন (১৯৭৫ সালের ১৮ নভেম্বর থেকে ১৯৭৮ সালের ৩১ জানুয়ারি), বিচারপতি কামাল উদ্দিন হোসেন (১৯৭৮ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৯৮২ সালের ১১ এপ্রিল), বিচারপতি এফ কে এম মুনিম (১৯৮২ সালের ১২ এপ্রিল থেকে ১৯৮৯ সালের ৩০ নভেম্বর), বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী (১৯৮৯ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে ১৯৯০ সালের ১ জানুয়ারি), বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ (১৯৯০ সালের ১৪ জানুয়ারি থেকে ১৯৯৫ সালের ৩১ জানুয়ারি) ও বিচারপতি এম এইচ রহমান বা মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান (১৯৯৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে একই বছরের ৩০ এপ্রিল)।
প্রয়াত হয়েছেন নবম প্রধান বিচারপতি থেকে দ্বাদশ প্রধান বিচারপতি। যথাক্রমে তাঁরা হলেন, বিচারপতি মোস্তাফা কামাল (১৯৯৯ সালের ১ জুন থেকে একই বছরের ৩১ ডিসেম্বর), বিচারপতি লতিফুর রহমান (২০০০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০০২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি), বিচারপতি মাহমুদূল আমীন চৌধুরী (২০০১ সালের ১ মার্চ থেকে ২০০২ সালের ১৭ জুন) ও বিচারপতি মাইনুর রেজা চৌধুরী (২০০২ সালের ১৮ জুন থেকে ২০০৩ সালের ২২ জুন)।
প্রয়াত অপর সাবেক তিন প্রধান বিচারপতি হলেন, ১৫তম প্রধান বিচারপতি মো. রুহুল আমিন (২০০৭ সালের ১ মার্চ থেকে ২০০৮ সালের ৩১ মে), ১৬তম প্রধান বিচারপতি এম এম রুহুল আমিন (২০০৮ সালের ১ জুন থেকে ২০০৯ সালের ২২ ডিসেম্বর) ও ১৮তম প্রধান বিচারপতি মোহাম্মদ ফজলুল করিম (২০১০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি একই বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর)।
রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান ছিলেন যাঁরা
আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমপঁচাত্তরের নভেম্বরে অভ্যুত্থান আর পাল্টা অভ্যুত্থানের সময়ে প্রধান বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম ওই বছরের ৬ নভেম্বর দেশের ষষ্ঠ রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। ১৯৭৭ সালের এপ্রিলে তিনি পদত্যাগ করেন। ১৯৯৭ সালের ৮ জুলাই মারা যান তিনি।
নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের মুখে স্বৈরশাসক এইচ এম এরশাদ ওই বছরের ৬ ডিসেম্বর পদত্যাগ করেন। পরে বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ (ষষ্ঠ প্রধান বিচারপতি) অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হন। ১৯৯০-৯১ মেয়াদে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ১৯৯১ সালে পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সাহাবুদ্দীন আহমদ আবার প্রধান বিচারপতির পদে ফেরেন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর রাষ্ট্রপতি হন বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ। বিএনপির নেতৃত্বে চারদলীয় জোট ক্ষমতায় আসার পর ২০০১ সালের ১৪ নভেম্বর রাষ্ট্রপতির পদ থেকে অবসর নেন তিনি। সাবেক এই রাষ্ট্রপতি ও প্রধান বিচারপতি ২০২২ সালের ১৯ মার্চ মৃত্যুবরণ করেন।
দেশের সপ্তম প্রধান বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান ১৯৯৫ সালের ৩০ এপ্রিল অবসর গ্রহণ করেন। সর্বশেষ অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হিসেবে তিনি ১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা তথা দেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন। এ সময় ১৯৯৬ সালে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ২০১৪ সালের ১১ জানুয়ারি মারা যান তিনি।
২০০১ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্ব পালন শেষে ওই বছরই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন দেশের দশম প্রধান বিচারপতি লতিফুর রহমান। ২০১৭ সালের ৬ জুন মারা যান তিনি।