আমি চাই না, মানুষ আশাহত হোক
· Prothom Alo

নাটকের অভিনয় নিয়ে ব্যস্ত তানজিম সাইয়ারা তটিনী। এরই মধ্যে মোস্তফা কামাল রাজ পরিচালিত ‘পথহারা মন’ নাটকে অভিনয়ের জন্য প্রশংসিত তিনি। নাটকটি অ্যামাজন প্রাইম থেকেও দেখা যাচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে তিনি কথা বলেছেন প্রথম আলোর সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মনজুর কাদের
আপনার ফোন বন্ধ পাচ্ছিলাম...
Visit mchezo.co.za for more information.
তানজিম সাইয়ারা তটিনী : মঙ্গলবার ভোরে ঘুমিয়েছি। চারটায় ‘আমার হয়ে থেকো’ (নাম বদল হতে পারে) শুটিং শেষে বাসায় ফিরেছি। তাই ফোনের নেট বন্ধ করে ঘুমাচ্ছিলাম।
তানজিম সাইয়ারা তটিনীআপনি তো নিয়মিত কাজ করেন। এখন কোন ধরনের নাটক দর্শক পছন্দ করছেন?
তানজিম সাইয়ারা তটিনী : আমার মনে হয়, যা–ই করি না কেন, আমার রোমান্টিক কাজটাই মানুষ বেশি পছন্দ করে। বিগত এক বছর ধরে তোমাদের গল্প প্রচারের পর থেকে মানুষ আমাকে একটু চটপটে চরিত্রে দেখতে পছন্দ করে। তার আগে মানুষের ধারণা ছিল যে আমি চুপচাপ, শান্ত। বেশি বলে বুলবুলি করেছি, তখন মনে হয়, মানুষ আমাকে চঞ্চল চরিত্রেও দেখতে পছন্দ করে।
বাস্তবে আপনি কেমন ...
তানজিম সাইয়ারা তটিনী : আমি চুপচাপ; কিন্তু যাদের সঙ্গে আমার সম্পর্ক খুবই ভালো, তাদের সঙ্গে আমি আবার খুবই চঞ্চল। তবে বেশির ভাগ মানুষ আমাকে চুপচাপ হিসেবেই চেনে। পরিবারের কাছে আমি কী, তা অবশ্য পরিবারই ভালো বলতে পারবে... (হাসি), তা আর নাই–বা বলি।
আপনার অভিনীত ‘পথহারা মন মানুষ’ কেন এত পছন্দ করল? এটি অ্যামাজান প্রাইম থেকেও এখন দেখতে পারছেন মানুষ।
তানজিম সাইয়ারা তটিনী : আমার কাছে প্রথম যে কারণটা মনে হয়, সেটি হলো গল্প। ‘পথহারা মন’ নাটকের গল্পের সঙ্গে মানুষ খুব সহজেই নিজেদের খুঁজে পেয়েছেন। পাশাপাশি জাহিদ হাসান আঙ্কেল অনেক দিন পর ফিকশনে অভিনয় করেছেন—এটাও দর্শকের মধ্যে আলাদা একটি আগ্রহ ও আকর্ষণ তৈরি করেছে। তবে সবকিছু ছাপিয়ে রাজ ভাইয়ের উপস্থাপনাটাই আমার কাছে সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর মনে হয়েছে। পারিবারিক গল্পের নাটক তো অনেক হচ্ছে। তোমাদের গল্প প্রচারের পর পারিবারিক ড্রামার একটি ট্রেন্ডও তৈরি হয়েছে; কিন্তু সব গল্প আমরা যেভাবে এক্সিকিউট করতে চাই বা দেখতে চাই, সেভাবে সব সময় হয়ে ওঠে না। রাজ ভাইয়ের একটি নিজস্ব প্যাটার্ন আছে। তিনি খুব সহজ ও স্বাভাবিকভাবে গল্পের সঙ্গে মানুষকে কানেক্ট করাতে পারেন। আমার মনে হয়, এটিই রাজ ভাইয়ের অন্যতম বড় শক্তি। এটিকে এক অর্থে তাঁর ‘ম্যাজিক’ও বলা যায়।
তানজিম সাইয়ারা তটিনী‘তোমাদের গল্প’–এর পর এবার ‘ফিরে আসার গল্প’—ধারাবাহিকে কি নিয়মিত হবেন
তানজিম সাইয়ারা তটিনী : আমার তো শুরুই হয়েছিল ধারাবাহিক দিয়ে। সত্যি বলতে, একটু ভয়ও কাজ করে। কারণ, প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর আবার ধারাবাহিকে কাজ করা—এটা আমার জন্যও নতুন একটা অভিজ্ঞতা। তবে রাজ (মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল) ভাইয়ের ওপর আমার আস্থা অনেক বেশি। তাঁর নির্মাণ আমার খুব পছন্দ। তাই তাঁর সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়ে নিজেকে ভাগ্যবান ও কৃতজ্ঞ মনে করছি। সিনেমাওয়ালা এমন একটি প্ল্যাটফর্ম, যেখানে বিপুলসংখ্যক দর্শক রয়েছেন। এত বড় একটি প্ল্যাটফর্মে নিজের অভিনয় দেখানোর সুযোগ সবাই পান না। আমার কাছে এটা অনেক বড় একটি সুযোগ—এত মানুষ আমার অভিনয় দেখতে পারবেন! আমি বিশ্বাস করি, আমার পরিচালক আমাকে সেই সুযোগটা করে দেবেন এবং আমিও চেষ্টা করব নতুন কিছু দর্শকের কাছে পৌঁছাতে। ভবিষ্যতে ধারাবাহিকে নিয়মিত হব কি না, সেটি সময়ই বলে দেবে।
নাটকে জুটি কি আসলেই কাজ করে, নাকি কাকতালীয়...
তানজিম সাইয়ারা তটিনী : জুটি আসলে অনেকটাই আল্লাহ প্রদত্ত। কখন কাকে কার সঙ্গে দর্শক জুটি হিসেবে দেখতে পছন্দ করবেন, সেটি আগে থেকে কেউ বলতে পারেন না। তবে জুটির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা বা ‘জুটি হলেই নাটক ভালো হবে’ এমন একটি ধারণা তৈরি হলে অভিনয়ের জায়গায় কিছুটা সীমাবদ্ধতা চলে আসতে পারে। আমার মনে হয়, যেকোনো কাজের গল্প যদি ভালো হয় এবং আমরা সেটি সততা ও বিশ্বাসের সঙ্গে করি, তাহলে বিপরীতে যে-ই থাকুক না কেন, দর্শক কাজটি পছন্দ করবেন। জুটি হয়তো একটি কাজের প্রতি দর্শকের আগ্রহ বাড়িয়ে দেয়, কাজটাকে কিছুটা এগিয়েও দেয়; কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভালো কাজ ভালোই হবে—সেটি যে জুটিই করুক না কেন।
তানজিম সাইয়ারা তটিনীঅভিনয়শিল্পী পার্থ শেখের সঙ্গে কি নতুন জুটি হচ্ছে ...
তানজিম সাইয়ারা তটিনী : একটি কাজ তো করেছি। দর্শক আমাদের জুটি পছন্দ করেছেন। তবে আমাদের জায়গা থেকে মনে হয়েছে, শুরুটা যদি আরও শক্তিশালী কোনো গল্প দিয়ে হতো; কিংবা একটু ভিন্ন জনরার কিছু দিয়ে হতো, তাহলে হয়তো আমাদের জন্য আরও ভালো হতো। তারপরও কাজটা ভালো হয়েছে, মানুষ পছন্দ করেছে—এটিই সবচেয়ে বড় বিষয়। আমি সব সময়ই ভালো গল্পে কাজ করতে আগ্রহী। আমার কাছে একটি নাটকের ভিউ কত হলো, সেটি কখনো খুব একটা ম্যাটার করে না। এখন তো আমরা প্রায়ই দেখি, কোনো কোনো নাটক ইউটিউবে প্রকাশের এক দিনের মধ্যেই দুই–তিন মিলিয়ন ভিউ হয়ে যাচ্ছে; কিন্তু শুধু ভিউ দিয়ে তো একটা কাজের মান বিচার করা যায় না। আমার কাছে গল্প, চরিত্র আর কাজটা কতটা ভালোভাবে করা হলো—এসবই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
এ পর্যন্ত কাজ করা প্রিয় ৫ চরিত্র কোনগুলো?
তানজিম সাইয়ারা তটিনী : খুব প্রিয় বলব না, তবে এখন পর্যন্ত অভিনয় করা চরিত্রগুলোর মধ্যে কয়েকটি আমার খুব কাছের। এর মধ্যে ‘সুহাসিনী’র আলো, ‘তোমাদের গল্প’র শালু—যেটা আমার ক্যারিয়ারে একটি মাইলস্টোন তৈরি করেছে, ‘হৃদয়ের গভীরে’র রাহা, ‘সময় সব জানে’র ইরা এবং ‘কাজল চোখের মেয়ে’র কাজল—এই পাঁচ চরিত্র আমার কাছে বিশেষ। প্রতিটি চরিত্রই আমাকে আলাদাভাবে কিছু দিয়েছে, অভিনয়শিল্পী হিসেবে নতুন কিছু শেখার সুযোগ করে দিয়েছে; তাই এই চরিত্রগুলোর সঙ্গে আমার আলাদা একটি আবেগ ও ভালো লাগা জড়িয়ে আছে।
তানজিম সাইয়ারা তটিনীএখন তো নানা ধরনের সিনেমা হচ্ছে, আপনি ‘জয়া আর শারমিন’–এ ছোট চরিত্র করেছিলেন। বড় পর্দা নিয়ে কী ভাবছেন?
তানজিম সাইয়ারা তটিনী : বড় পর্দা নিয়ে এখনই আলাদা করে ভাবছি না। তবে ভালো গল্প ও পছন্দের চরিত্র পেলে অবশ্যই বিবেচনা করব। সত্যি বলতে, নাটকের কাজ আমি খুব উপভোগ করি। এখানে যে ধরনের চরিত্র ও গল্প নিয়ে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছি, বড় পর্দায় এখন পর্যন্ত সেভাবে পাইনি। এর আগেও বড় পর্দায় কাজের জন্য কয়েকবার প্রস্তাব এসেছে; কিন্তু কোনোটা আমার কাছে যথেষ্ট কনভিন্সিং মনে হয়নি। আমার কাছে সিনেমায় কাজ করার ক্ষেত্রে গল্প ও চরিত্রটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, বড় পর্দায় ঝুঁকিটাও অনেক বেশি। আমি এমন কোনো কাজ করতে চাই না, যেটা নিয়ে দর্শকের অনেক প্রত্যাশা তৈরি হবে; কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁরা হতাশ হবেন। আমি বরং এমন একটি কাজ করতে চাই, যেটি করার পর মানুষ বলবে—তটিনীকে এই চরিত্রে দেখার জন্যই অপেক্ষা করছিলাম। দর্শক আমার কাছে যে প্রত্যাশা তৈরি করেছেন, সেটি যেন ভালো একটা কাজ দিয়ে পূরণ করতে পারি। আমি চাই না, মানুষ আশাহত হোক।