অভাবকে জয় করে সেবিকা হওয়ার স্বপ্ন উপকূলের রিনার

· Prothom Alo

পিতার অনুপস্থিতি আর চরম অভাবে ছেয়ে আছে মোছাম্মদ রিনা বেগমদের পরিবার। কিন্তু শত প্রতিকূলতার মধ্যেও দমে যায়নি মোছাম্মদ রিনা বেগম। বুড়িগঙ্গার জল কিংবা মেঘনার উত্তাল তরঙ্গ যেমন থেমে থাকে না, তেমনই চোখভরা স্বপ্ন আর অদম্য ইচ্ছাশক্তি নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া রিনা। ভোলা জেলার দৌলতখান উপজেলার উপকূলীয় 'মদনপুর আলোর পাঠশালা'র এই নিয়মিত ছাত্রী ভবিষ্যতে একজন সেবিকা (নার্স) হয়ে অসুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়াতে চায়।

Visit betsport24.es for more information.

রিনার শৈশব সহজ ছিল না। অসহায় অবস্থায় চার কন্যা সন্তানসহ রিনাদের ফেলে রেখে তার বাবা অন্যত্র দ্বিতীয় বিয়ে করে চলে যান। বাধ্য হয়ে রিনার মা রুমা বেগম সন্তানদের নিয়ে আশ্রয় নেন নানা বাড়িতে। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে কিছুদিন পরই মারা যান রিনার নানা। চরম বিপদে পড়েও হাল ছাড়েননি রিনার মা ও নানু। সংসারের চাকা সচল রাখতে তারা অন্যের গরু ও মহিষ বর্গা নিয়ে লালন-পালন শুরু করেন। সেই স্বল্প আয় দিয়েই কোনোমতে টেনেটুনে চলছে তাদের জীবনসংগ্রাম।

মদনপুর আলোর পাঠশালার ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ছে মোছাম্মদ রিনা বেগম।

রিনার মা রুমা বেগম জানান, ‘চারটা মেয়ে নিয়ে ভীষণ কষ্টে সংসার চালাচ্ছি। মদনপুর আলোর পাঠশালা না থাকলে মেয়েটাকে হয়তো স্কুলেই পাঠাতে পারতাম না। বিনা খরচে পড়ার সুযোগ পাওয়ায় আজও রিনার পড়ার স্বপ্নটা বেঁচে আছে।’

অভাবের সাথে প্রতিনয়ত লড়াই করলেও রিনা এখন আলোর পাঠশালার একজন নিয়মিত ও মেধাবী শিক্ষার্থী। নিজের লক্ষ্য প্রকাশ করে রিনা বলে, ‘আমি বড় হয়ে সেবিকা হতে চাই। যাতে অসুস্থ মানুষের সেবা করার পাশাপাশি পরিবারের কষ্ট দূর করতে পারি।’

ভোলার উপকূলীয় ও পিছিয়ে পড়া দুর্গম অঞ্চলে আলোর পাঠশালা রিনার মতো শত শত সুবিধাবঞ্চিত শিশুর মাঝে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে এবং জুগিয়ে যাচ্ছে ঘুরে দাঁড়ানোর নতুন সাহস। রিনার মতো শিশুদের এই স্বপ্নপূরণই আজ উপকূলের মানুষের নতুন আশা।

Read full story at source