বাংলাদেশের ক্লাবে বিশ্বকাপ খেলা ফুটবলার
· Prothom Alo

লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচ। ব্রাজিলের পোর্তো আলেগ্রের মাঠে টান টান উত্তেজনায় আহমেদ মুসার গোলে ম্যাচে ফিরল নাইজেরিয়া। দারুণ এক অ্যাসিস্ট করেছিলেন মাইকেল বাবাতুন্দে। ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপের স্মৃতিজড়ানো সেই নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড এবার নাম লিখিয়েছেন বাংলাদেশের ক্লাব ফুটবলে।
দানিয়েল কলিনদ্রেস খেলে যাওয়ার প্রায় সাড়ে তিন বছর পর কোনো বিশ্বকাপে খেলা খেলোয়াড়কে পেতে যাচ্ছে দেশের ফুটবলপ্রেমীরা। ৩৩ বছর বয়সী বাবাতুন্দে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন ঢাকা আবাহনী লিমিটেডের সঙ্গে।
Visit truewildgame.online for more information.
বাংলাদেশ বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলার সুযোগ পায়নি কখনো। সেই সুযোগ পেতে কত বছর লাগে কে জানে! তবে ঘরোয়া ফুটবলে বিশ্বকাপে খেলা ফুটবলারের আগমন নতুন নয়। বাবাতুন্দে হতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের ক্লাবে খেলা পঞ্চম বিদেশি ফুটবলার, যিনি বিশ্বকাপ খেলে বা বিশ্বকাপের স্কোয়াডে থেকে বাংলাদেশের ক্লাব ফুটবলে আসছেন। বাংলাদেশ থেকে গিয়ে বিশ্বকাপে খেলেছেন, এমন ফুটবলারও একজন আছেন।
বিশ্বকাপে খেলার অভিজ্ঞতা নিয়ে সর্বশেষ বাংলাদেশের ক্লাব ফুটবলে এসেছিলেন কোস্টারিকার দানিয়েল কলিনন্দ্রেস। ২০১৮ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে খেলেছেন কলিনদ্রেস, সে বছরই বাংলাদেশে এসে বসুন্ধরা কিংসের সাফল্যে বড় ভূমিকা রাখেন এই ফরোয়ার্ড। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে কিংস ছেড়ে যোগ দেন আবাহনীতে। আকাশি–নীলে ছিলেন দুই মৌসুম।
বাংলাদেশের ক্লাব ফুটবল প্রথম বিশ্বকাপ তারকাকে পেয়েছে ১৯৮৭ সালে। সে বছর ঢাকায় এসেছিলেন বিশ্বকাপে খেলা তিন মুখ—ইরানের কিংবদন্তি গোলরক্ষক নাসের হেজাজি, ইরাকের ডিফেন্ডার সামির শাকির ও করিম মোহাম্মদ। এশিয়ার ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক নাসের হেজাজি ১৯৭৮ আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপে ইরানের এক নম্বর গোলকিপার ছিলেন। খেলেছেন গ্রুপ পর্বে নেদারল্যান্ডস, স্কটল্যান্ড ও পেরুর বিপক্ষে তিনটি ম্যাচেই।
কোচ কাম খেলোয়াড় হিসেবে মোহামেডানে আসা হেজাজির। তবে খেলোয়াড় হেজাজিকে সাদাকালোর পোস্টের নিচে দেখা গেছে একবারই। সেটি ওই মৌসুমে ঢাকা লিগে মোহামেডানের কাছে আবাহনীর ৩-২ গোলে হারের ম্যাচে। সাদাকালোর গোলকিপার ছাইদ হাসান কানন আহত হলে শেষ ২১ মিনিট পোস্টের নিচে ছিলেন হেজাজি। কিংবদন্তি এই ফুটবলার ২০১১ সালে না–ফেরার দেশে চলে গেছেন।
বিশ্বকাপে মেসিদের বিপক্ষে খেলা ফুটবলার এবার আবাহনীতেসামির ১৯৮৬ মেক্সিকো বিশ্বকাপে ইরাকের জার্সিতে দুটি ম্যাচ খেলেছেন প্যারাগুয়ে ও বেলজিয়ামের বিপক্ষে। বেলজিয়াম ম্যাচে রেফারিকে হেনস্তা করায় তাঁকে ফিফা এক বছর আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিষিদ্ধ করে। পরে আর ইরাকের হয়ে খেলা হয়নি তাঁর। করিম ১৯৮৬ বিশ্বকাপ স্কোয়াডে থাকলেও ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি। দুজনই ছিলেন ইরাকের নামী ক্লাব আল রশিদের খেলোয়াড়। ১৯৮৭ সালে শুরুর দিকে ঢাকায় সপ্তম এশিয়ান ক্লাব কাপের বাছাইয়ে আল রশিদের হয়ে তাঁদের ঢাকায় আসা প্রথম। যে টুর্নামেন্টে খেলতে এসেছিল ভারতের মোহনবাগান, পাকিস্তান বিমানবাহিনী, নেপালের মানাং মারসিংয়াদি ক্লাব। সেন্টারব্যাক সামির ছিলেন আল রশিদের অধিনায়ক। তাঁর নেতৃত্বে আল রশিদ এতটাই শক্তিশালী ছিল যে নালজেগার-বোরহানজাদেদের ঢাকা মোহামেডানকে তারা উড়িয়ে দেয় ৫-১ গোলে।
এরপরই সামির শাকির আর করিম মোহাম্মদের আবাহনীর হয়ে খেলতে আসা। সামির পরে আবাহনী-মোহামেডান ও বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের কোচ হয়েছিলেন। ১৯৯৯ সালে তাঁর কোচিংয়েই কাঠমান্ডু সাফ ফুটবলে সোনা জেতে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের ফুটবলে প্রথম বড় সাফল্য ছিল সেটিই। যা তাঁকে অমর করে রেখেছে বাংলাদেশের ফুটবলে। সামির ও করিম ১৯৮৭ মৌসুমটা খেলেন আবাহনীর হয়ে।
হেজাজী, সামির শাকিরের পর ব্রুজোনতালিকায় নাইজেরিয়ার এমেকা ইজিউগো একটু ব্যতিক্রম। ১৯৮৭ সালে মোহামেডানে আসা এমেকা টানা দুই মৌসুম খেলেছিলেন সাদাকালোয়। ঢাকার মাঠ কাঁপিয়ে ১৯৯৪ যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপে নাইজেরিয়া জাতীয় দলের জার্সিতে সুযোগ পান এমেকা। ১৯৯৪ বিশ্বকাপে একটি ম্যাচ খেলেছেন, বুলগেরিয়ার বিপক্ষে নাইজেরিয়ার ৩-০ গোলের জয়ে ৭৭ মিনিটে বদলি নেমেছিলেন এমেকা। তাঁকে কোচ হিসেবেও পেয়েছে মোহামেডান।
সামির শাকির-করিম মোহাম্মদ, কলিনদ্রেসদের ধারাবাহিকতায় এবার আসছেন মাইকেল বাবাতুন্দে। ‘সুপার ইগলস’-এর জার্সিতে ১১টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা এই তারকার ক্যারিয়ারের বড় অর্জন ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপে দুটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাওয়া। গ্রুপ পর্বে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মূল একাদশে নেমে বাবাতুন্দে গোলে সহায়তা করার পর মাঠেই আঘাত পান, হাড় ভেঙে যায় তাঁর, করাতে হয়েছিল অস্ত্রোপচার।
বাবাতুন্দে সর্বশেষ খেলেছেন আলবেনিয়ার পেশাদার ক্লাব কেএস পোগ্রেদেসিতে। যা দেশটির ফুটবলের দ্বিতীয় স্তর। নিজের ক্যারিয়ারের পড়ন্ত বেলা হলেও বাবাতুন্দের সংযোজন আবাহনীর আক্রমণের ধার বাড়াবে বলেই বিশ্বাস ক্লাবটির। এ মৌসুমে বাবাতুন্দেসহ আবাহনীতে চুক্তিবদ্ধ চার নাইজেরিয়ানই এখন নিজ দেশে। বাংলাদেশের ভিসা পাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন তাঁরা। ভিসা পেলেই আসবেন।
আবাহনী কোচ মারুফুল হক জানিয়েছেন, বিশ্বকাপের ভিডিও নয়, বাবাতুন্দের গত মৌসুমে পারফরম্যান্সের একঝলক ভিডিওতে দেখেই তাঁকে পছন্দ করা। দুই দিকের উইংয়েই খেলতে পারেন এই ফুটবলার। আবাহনীরও একজন ভালো উইঙ্গার দরকার ছিল। আকাশি-নীল জার্সিতে তাঁর অভিজ্ঞতা দলের আক্রমণভাগকে কতটা ধারালো করতে পারে, এখন সেটিই দেখার।