‘অন্ধকারের মধ্যে সাগরে আমরা, আতঙ্ক আর উৎকণ্ঠা সবার মধ্যে’
· Prothom Alo

চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের গুপ্তছড়া ঘাটের কাছে সন্দ্বীপ চ্যানেলে যাত্রী ও যানবাহন নিয়ে আটকে গেছে ফেরি কপোতাক্ষ। চার দিন বন্ধ থাকার পর আজ বুধবার সন্ধ্যায় ফেরি চলাচল শুরু হলে ঘাট থেকে কিছু দূর যাওয়ার পরই এটি আটকে যায়। নাব্যতাসংকটের কারণে ফেরিটি পন্টুন থেকে বের হয়ে চ্যানেলে প্রবেশের সময় পলিমাটিতে আটকে যায় বলে জানা গেছে।
ফেরির মাস্টার সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, রাতের জোয়ারে ফেরি ভেসে উঠলে বাঁশবাড়িয়ার উদ্দেশে যাত্রা করা সম্ভব হবে। তবে আটকে পড়া যাত্রীরা খাবার ও পানীয় জলের সংকটের পাশাপাশি কখন ফেরি থেকে নামতে পারবেন, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
Visit umafrika.club for more information.
ফেরিতে দুটি যাত্রীবাহী বাস, সাতটি ছোট-বড় ট্রাক ও কয়েকটি ব্যক্তিগত যানবাহন রয়েছে। ফেরির কর্মকর্তারা এতে প্রায় ১০০ যাত্রী থাকার কথা জানিয়েছেন। তবে একাধিক যাত্রী প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, ফেরিতে আনুমানিক ৩০০ যাত্রী রয়েছেন।
যাত্রীদের অভিযোগ, ফেরির ক্যানটিনে পর্যাপ্ত খাবার নেই। চা, বনরুটি ও বিস্কুটের মতো কিছু খাবার থাকলেও সেগুলোর দাম বেশি নেওয়া হচ্ছে। আরমান জারিফ (২০) নামের এক যাত্রী বলেন, ১০ টাকার চানাচুরের প্যাকেট তাঁর কাছ থেকে ২৫ টাকা রাখা হয়েছে।
আরমান জারিফ বলেন, ফেরিতে তাঁর মা ও মামাও রয়েছেন। তাঁর মা বেশ আতঙ্কিত। অনেক যাত্রী ফেরি থেকে নামার চেষ্টা করলেও নিচে পানি ও কাদা থাকায় নামতে পারছেন না।
ওমর ফারুক (৩০) নামের আরেক যাত্রী বলেন, দুই দিন ধরে চট্টগ্রামে যাওয়ার চেষ্টা করেও যোগাযোগবিচ্ছিন্ন থাকায় যেতে পারেননি তিনি। আজ ফেরি চলাচল শুরু হওয়ার খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে রওনা হন। কিন্তু ফেরি ছাড়ার কিছুক্ষণ পরই সেটি থেমে যায়। পরে জানতে পারেন, কাদায় আটকে গেছে।
আটকে আছে ফেরি। আজ রাত ১০টার দিকেওমর ফারুক বলেন, ‘অন্ধকারের মধ্যে সাগরে আমরা। আতঙ্ক আর উৎকণ্ঠা সবার মধ্যে। কখন চট্টগ্রামে পৌঁছাব, জানি না। এমন এক জায়গায় আটকে পড়েছি, নেমে বাড়িতেও চলে যেতে পারব না।’
সন্দ্বীপ চ্যানেল থেকে স্থলভাগের দিকে ড্রেজিং করে প্রায় ৩০০ মিটার ভেতরে পন্টুন স্থাপন করা হয়েছে। নিয়মিত খনন না করায় ভরা জোয়ার ছাড়া পন্টুনে ফেরির প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় আটকে পড়ার আশঙ্কা থাকে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) উপপরিচালক (পোর্ট অফিসার) নয়ন শীল ফেরি আটকে যাওয়ার জন্য মাস্টারের গাফিলতিকে দায়ী করেছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘উপকূলে ফেরি চালানোর ক্ষেত্রে জোয়ার-ভাটা অনুযায়ী সময়সূচি নির্ধারণ করতে হয়। এ ক্ষেত্রে ফেরির মাস্টার দায়ী।’
আটকে পড়া ফেরি সম্পর্কে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) প্রফুল্ল চৌহান বলেন, পরবর্তী জোয়ারে ফেরিটি ভেসে ওঠার কথা। যদি ভেসে না ওঠে, তাহলে বিকল্প ব্যবস্থায় টেনে সরানো হবে।
আবহাওয়া সতর্কতার কারণে চার দিন ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল। আজ বুধবার সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে গুপ্তছড়া ঘাট থেকে সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়া ফেরিঘাটের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে কপোতাক্ষ। কিছু দূর যাওয়ার পরই এটি পলিমাটিতে আটকে যায়।
এর আগে ২০২৫ সালের ১৪ অক্টোবর একই জায়গায় আটকে পড়েছিল ফেরি কপোতাক্ষ। তখন ফেরির মাস্টার রাতের জোয়ারে ফেরিটি ভেসে উঠবে বলে জানিয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত ২৫ ঘণ্টা পর ১৫ অক্টোবর সকাল ৯টার দিকে তিনটি টাগবোট দিয়ে ফেরিটিকে টেনে পানিতে ভাসানো হয়।