ঘরে ঢোকার সময় অতিথিকে জুতা খুলতে বলা কি অভদ্রতা

· Prothom Alo

রাস্তার ধুলা বা কাদা বিনা আমন্ত্রণে তোমার ড্রয়িংরুমে ঢুকে পড়তে পারে শুধু একজোড়া জুতার মাধ্যমে! অনেক সময় এই জুতা পরে ঘরে ঢোকা নিয়ে রীতিমতো তর্কবিতর্কও চলে। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে তো জুতা খোলার নিয়ম নিয়ে খুব কড়াকড়ি আছে। যেমন মিনেসোটায় গেলে তোমার মোজায় কোনো ছিদ্র আছে কি না, তা নিয়ে সারাক্ষণ সতর্ক থাকতে হবে। অন্যদিকে কলোরাডোর চিত্র একেবারেই ভিন্ন। পাহাড়ি পরিবেশের কারণে সেখানে অনেকেই ঘরের ভেতর দিব্যি হাইকিং শু বা বুট পরে হাঁটাচলা করে; খুব বেশি কাদা বা পানি না লাগলে জুতা খোলার কথা কেউ ভাবেই না।

এখন প্রশ্ন হলো, বাড়িতে আসা কোনো অতিথিকে জুতা খুলে ঢুকতে বলাটা কি আসলেই অভদ্রতা? নাকি স্বাস্থ্যরক্ষার জন্য এটি অত্যন্ত জরুরি? বিজ্ঞান ও সামাজিক শিষ্টাচারের মানদণ্ডে এই বিতর্কের উত্তর খোঁজা যেতে পারে।

Visit sport-tr.bet for more information.

যেকোনো ফোনে ভালো ছবি তুলব কীভাবে

জীবাণুর গোপন বাহন

অনেকেই বাইরের জুতাকে ভয়ংকর সব জীবাণু বহনের বাহন হিসেবে দেখেন। ২০২৩ সালে ইনডোর অ্যান্ড বিল্ট এনভায়রনমেন্ট নামে একটি জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা থেকে জানা যায়, জুতার তলায় ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক থেকে শুরু করে নানা ধরনের ক্ষতিকর অণুজীব লেপটে থাকে। কেউ যখন জুতা পায়ে ঘরের ভেতর ঢোকে, তখন এই জীবাণুগুলো অনায়াসেই মেঝের কার্পেট বা গালিচায় ছড়িয়ে পড়ে। গবেষকদের মতে, বাইরে থেকে আসা জুতার তলা ও পাবলিক টয়লেটের মেঝের মধ্যে পরিচ্ছন্নতার দিক থেকে খুব একটা পার্থক্য নেই। তাই বিজ্ঞানীরা ঘরের ভেতর জুতা খুলে রাখার পক্ষেই জোরালো মত দেন।

বিজ্ঞানীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের চিন্তাধারাও প্রায় একই রকম। ২০২৩ সালের সিবিএস নিউজের একটি জরিপে দেখা যায়, প্রতি তিনজনের মধ্যে দুজন মার্কিন নাগরিকই নিজেদের ঘরে জুতা খুলে রাখেন। কাদা, জল, বরফ বা রাস্তার ধুলা জুতায় লেগে ঘরের মেঝে নোংরা হওয়াটাও একটা বড় সমস্যা, তা ছাড়া ঘরে সারাক্ষণ ভারী জুতা পরে থাকলে পায়ের স্পর্শকাতরতা কমে যায়। এতে ভুল করে অন্যের পায়ে বা ঘরের পোষা প্রাণীর লেজে পা দিয়ে ফেলার মতো দুর্ঘটনাও হরহামেশাই ঘটে।

পিটুলিগাছ যেভাবে আগলে রাখে নদীর পাড়

জুতা খোলার অস্বস্তি এবং শিষ্টাচার

জরিপের ওই দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ নিজেরা জুতা খুলে রাখলেও, তাঁরা কিন্তু অতিথিদের জুতা খুলতে বাধ্য করেন না। এর পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে। প্রথমত, আমরা অতিথিদের সম্মান দেখাতে চাই। হুট করে কাউকে জুতা খুলতে বললে তিনি অপমানিত বোধ করতে পারেন বা ব্যাপারটি তাঁর কাছে অসম্মানজনক মনে হতে পারে। ঘনিষ্ঠ বন্ধু বা আত্মীয়ের ক্ষেত্রে বিষয়টি সহজ হলেও, অপরিচিত কারও ক্ষেত্রে ব্যাপারটা বেশ অস্বস্তিকর। অবশ্য জরিপের ৯০ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, আয়োজক যদি বিনয়ের সঙ্গে জুতা খুলতে বলেন, তবে তাঁরা বিষয়টিকে অযৌক্তিক মনে করবেন না।

এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে লজ্জার বিষয়টিও। জুতা খুললে যদি দেখা যায় মোজাটা ছেঁড়া বা নোংরা, তবে বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আবার কারও পায়ে হয়তো দুর্গন্ধের সমস্যা রয়েছে, কিংবা পায়ের গড়ন নিয়ে তিনি নিজেই অস্বস্তিতে ভোগেন। ফ্যাশনের ব্যাপারটিও এড়িয়ে যাওয়ার মতো নয়। কোনো সুন্দর পোশাকের সঙ্গে মানানসই জুতাটি খুলে ফেললে পুরো সাজটাই যেন অসম্পূর্ণ হয়ে যায়। সাধারণ আড্ডায় এটি খুব একটা সমস্যা না হলেও, কোনো আনুষ্ঠানিক পরিবেশে এটি অনেকের জন্যই বিরক্তির কারণ হতে পারে।

ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ মহাকাশে পাঠিয়েছে নাসা

কখন কী করবে

জুতা পরে ঘরে ঢুকলে মেঝে তো নোংরা হবেই, তবে তারও বেশ সহজ সমাধান আছে। মেঝে মুছে ফেললে প্রায় ৮০ শতাংশ ব্যাকটেরিয়া দূর করা সম্ভব। আর জীবাণুনাশক ব্যবহার করলে ৯৫ থেকে ৯৯ শতাংশ পর্যন্ত জীবাণু ধ্বংস করা যায়। তাই জুতা খোলার নিয়ম নিয়ে কড়াকড়ি করার আগে কয়েকটি বিষয় বিবেচনা করা দরকার।

প্রথমেই আসে অনুষ্ঠানের ধরন। সাধারণ আড্ডায় জুতা খুলতে বলাটা স্বাভাবিক হলেও, কোনো উৎসব বা বড় আয়োজনে অতিথিদের জুতা খুলতে বলাটা শিষ্টাচারবহির্ভূত হতে পারে। এরপর আসে ব্যক্তিগত প্রয়োজনের দিকটি। অনেকের শারীরিক সমস্যা, ভারসাম্য রক্ষা বা বয়সের কারণে হাঁটাচলার সুবিধার জন্য জুতা পরে থাকাটা জরুরি। তাঁদের কখনোই জুতা খুলতে বাধ্য করা উচিত নয়।

আবহাওয়ার প্রভাবও এখানে বেশ গুরুত্বপূর্ণ। গ্রীষ্মকালের পরিষ্কার রাস্তার চেয়ে বর্ষাকালে জুতার তলায় কাদা ও নোংরা বেশি জমে। তাই আবহাওয়ার ওপর ভিত্তি করে জুতা খোলার অনুরোধ করা যেতে পারে।

সবচেয়ে জরুরি হলো অনুরোধ করার ধরন। অতিথিদের জুতা খুলতে বলার জন্য দরজার সামনে একটি সুন্দর নোটিশ রাখা যেতে পারে। হুট করে ঘরের মাঝপথে গিয়ে কাউকে জুতা খুলতে বলাটা মোটেও শোভন নয়। চাইলে অতিথিদের জন্য আরামদায়ক ইনডোর স্লিপার বা পরিষ্কার মোজার ব্যবস্থাও রাখা যায়, যা অনেক সংস্কৃতিতেই বেশ জনপ্রিয় একটি প্রথা। দরজার পাশেই জুতা রাখার র‍্যাক বা বসার জন্য ছোট বেঞ্চ রাখলে অতিথিদের জন্য ব্যাপারটা অনেক সহজ হয়ে যায়।

প্লাস্টিক দিয়ে প্লাস্টিক ধ্বংস করার উপায় বের করে দ্য আর্থ প্রাইজ পেলেন আয়ারল্যান্ডের শিক্ষার্থী

জোর খাটানো নয়

অতিথিকে জুতা খুলতে বলা কোনোভাবেই অভদ্রতা নয়, যদি তা যথেষ্ট বিনয় ও ভদ্রতার সঙ্গে করা হয় এবং পর্যাপ্ত বিকল্প ব্যবস্থা থাকে। তবে কেউ যদি জুতা খুলতে না চান, তবে তাঁর সেই সিদ্ধান্তকেও সম্মান জানাতে হবে। কাউকে তাঁর ব্যক্তিগত স্বাচ্ছন্দ্যের বাইরে গিয়ে বাধ্য করার কোনো মানে হয় না। ছোটখাটো এই বিষয়গুলো নিয়ে তর্কে জড়িয়ে সম্পর্কের মাধুর্য নষ্ট করার চেয়ে বরং অতিথি চলে যাওয়ার পর হাসিমুখে মেঝে পরিষ্কার করার দায়িত্বটা মেনে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

সূত্র: রিডার্স ডাইজেস্ট

ম্যাপে আফ্রিকাকে এত ছোট দেখায় কেন

Read full story at source