প্রেমের টানে বিয়ে করতে সখীপুরে চীনা যুবক, ফিরিয়ে দিল পরিবার
· Prothom Alo

অনলাইনে পরিচয়, এরপর প্রেম। সেই প্রেমের টানে চীন থেকে টাঙ্গাইলের সখীপুরে আসেন দং লিয়াং নামের এক যুবক। তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে সখীপুরের এক তরুণীকে (২৫) বিয়ে করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। কিন্তু ভিসার মেয়াদ কম থাকায় ‘প্রতারণার শিকার হতে পারে’ সন্দেহে ওই যুবককে ফিরিয়ে দিয়েছে মেয়েটির পরিবার ও এলাকাবাসী।
গতকাল শনিবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে ঢাকা থেকে সখীপুর বাজারে এসে পৌঁছান দং লিয়াং। খবর পেয়ে ওই তরুণী বাড়ি থেকে সখীপুরে গিয়ে তাঁকে স্বাগত জানান এবং সঙ্গে নিয়ে বাড়িতে যান। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে চীনা যুবককে দেখতে ওই বাড়িতে ভিড় করেন স্থানীয় লোকজন। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সিরাজুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
Visit newsbetting.cv for more information.
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন মাস আগে একটি অ্যাপের মাধ্যমে সখীপুরের ওই তরুণীর সঙ্গে চীনের নাগরিকের পরিচয় হয়। নিয়মিত কথাবার্তার এক পর্যায়ে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই সম্পর্কের জেরে বিয়ে করার জন্য গতকাল সন্ধ্যায় সখীপুরে আসেন দং লিয়াং। মেয়েটি প্রতারণার শিকার হতে পারেন—এমন ভেবে দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলেন স্থানীয় লোকজন। বিষয়টি থানা-পুলিশকেও জানানো হয়। পরে একটি গাড়ি ভাড়া করে দং লিয়াংকে ঢাকায় চীনা দূতাবাসে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
আজ রোববার দুপুরে মেয়েটির নানা প্রথম আলোকে বলেন, চীনা নাগরিকের ভিসার মেয়াদ আছে মাত্র ৯ দিন। এর মধ্যে তাঁর নাতনিকে বিয়ে করে চীনে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। তিনি মানব পাচারকারীও হতে পারেন। চীনের নাগরিক সেজে অনেক মেয়েকে বিয়ে করে প্রতারণার নানা ঘটনা ঘটছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তাঁরা চীনা নাগরিককে দেশে ফিরে নাতনির জন্য সে দেশের ভিসার ব্যবস্থা করতে বলেছেন। এরপর প্রমাণপত্র নিয়ে আবার সখীপুরে এলে তাঁরা বিয়ের বিষয়টি ভেবে দেখবেন। তবে তাঁদের ধারণা, ওই যুবক আর আসবেন না।
ভিসার মেয়াদ বাড়িয়ে খুব শিগগির বাংলাদেশে ফিরে আসবেন এবং ধর্মীয় রীতি মেনে ওই তরুণীকে বিয়ে করবেন বলে জানান দং লিয়াং।
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুরাদ হোসেন আজ দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, ‘মেয়েটি যাতে প্রতারণার শিকার না হন, সে জন্য স্থানীয় লোকজন দিবাগত রাত ১২টার দিকে কথা বলে ওই যুবককে চীনা দূতাবাসে পাঠিয়ে দেন। তাঁকে পাঠিয়ে দেওয়ার বিষয়টি স্থানীয় লোকজন আমাকে জানিয়েছেন।’