গ্যাসের চাপ কম পরোটার চাপ বেশি
· Prothom Alo

সকালে ঘুম থেকে উঠে মনে হলো, আজ একটু ‘রাজকীয়’ নাশতা করা যাক। কারণ, চুলা আছে, হাঁড়ি আছে, বউও আছে—শুধু গ্যাসটাই নেই।
Visit tr-sport.click for more information.
হোটেলের সামনে গিয়ে দেখি বিশাল লাইন। মনে হলো, পরোটা কিনতে আসিনি—টিসিবির লাইনে দাঁড়িয়েছি।
সামনের লোককে জিজ্ঞেস করলাম,
‘ভাই, এত বড় লাইন কেন?’
তিনি বললেন, ‘গ্যাসের চাপ কম।’
আমি বললাম, ‘গ্যাসের চাপ কম বুঝলাম, কিন্তু পরোটার চাপ এত বেশি কেন?’
লোকটি আমার দিকে এমনভাবে তাকালেন, যেন তার মুখে করলার তিতা পোরা হচ্ছে।
যে লোকটি পরোটা ভাজছেন, আমরা সবাই তাঁর দিকে তাকিয়ে আছি। তিনি একবার এদিকে তাকান, একবার ওদিকে তাকান। তাঁর চেহারা দেখে মনে হচ্ছে, পরোটা বানাচ্ছেন না, যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
হঠাৎ হোটেলের ভেতর থেকে ঘোষণা এল—‘পরোটা শেষ!’
লাইনে যেন ৬ মাত্রার ভূমিকম্প হলো।
একজন বললেন, ‘ভাই, পরোটা কি আর হবে না?’
হোটেলওয়ালা বললেন, ‘গ্যাস আইলে হইব।’
একটি রাজনৈতিক দলের জন্ম-মৃত্যুপারব না! থেকে কার এত জ্বালা?‘গ্যাস কখন আসবে?’
এই প্রশ্ন শুনে তাঁর চাহনিতে এমন ভাব, যেন তাঁকে দেশের পরবর্তী বাজেটের তারিখ জিজ্ঞেস করা হয়েছে।
তিনি আকাশের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘আল্লাহই ভালো জানেন।’
কিছুক্ষণ পর আবার চিৎকার—‘গ্যাস আইছে!’
লাইনের সবাই একসঙ্গে নড়েচড়ে দাঁড়াল!
এতক্ষণ যে লোকটি মোবাইলে রিলস দেখছিলেন, তিনি সঙ্গে সঙ্গে মোবাইল পকেটে ঢুকিয়ে বললেন,
‘ভাই, আগে আমার দুইটা পরোটা...!’
মনে হলো, গ্যাস আসার খবর শুনে তাঁর পেট আর এক মিনিটও অপেক্ষা করতে রাজি নয়।
আমি বললাম, ‘ভাই, আমি তো আধা ঘণ্টা ধরে দাঁড়িয়ে আছি। আমাকে আগে দুইটা দেন।’
হোটেলওয়ালা বললেন, ‘একজনকে একটার বেশি না।’
‘কেন?’
‘গণতান্ত্রিক দেশে আমরা সমতায় বিশ্বাসী। তাই সবার জন্য রাখতে হবে।’
তখন বুঝলাম, পরোটা এখন আর খাবার নয়—এটি একটি দুর্লভ প্রাকৃতিক সম্পদ।
অবশেষে আমার হাতে একটা পরোটা এল।
পরোটাটা এতই পাতলা যে আলোতে ধরলে ওপাশের মানুষের মুখ দেখা যায়।
আমি হোটেলওয়ালাকে বললাম,
‘ভাই, এটা পরোটা?’
তিনি বললেন,
‘কেন, অন্য কিছু মনে হচ্ছে?’
সঙ্গে একটা ডিমভাজা চাইলে হোটেলওয়ালা বললেন,
‘ডিম আছে, কিন্তু ভাজাভুজা যাইব না। দেখেন না গ্যাস নাই!’
বললাম, ‘তাহলে কীভাবে খাব?’
তিনি বললেন, ‘আমি কেমনে কমু।’
আমি ডিমের দিকে তাকালাম। ডিমও আমার দিকে তাকিয়ে আছে।
দুজনেরই অপেক্ষা—কখন আসবে কাঙ্ক্ষিত গ্যাস!
গন্ডগোলের ডামাডোলের মধ্যে পেছন থেকে একজন চিৎকার করে বললেন,
‘ভাই, চা হবে নাকি?’
হোটেলওয়ালা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন,
‘চা হইব, তয় কহন দিতে পারমু জানি না।’
তখন বুঝলাম, এই দেশে এখন নাশতার মেনু ঠিক করে মানুষ না—গ্যাসের চাপ।
ঘর্মাক্ত বদনে শেষ পর্যন্ত পরোটাটা হাতে নিয়ে বাসায় ফিরলাম।
বউ দরজা খুলে বলল,
‘এত দেরি হলো কেন?’
আমি বললাম, ‘পরোটা কিনতে গিয়েছিলাম।’
সে বলল, ‘পরোটা কিনতে গেছিলা, নাকি আটা কিনে পরোটা বানায়া আনতে গেছিলা? এত সময় লাগে!’
আমি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললাম—
‘পরোটা কিনতে না, গ্যাসের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম।’
তারপর পরোটাটা প্লেটে রেখে আমরা দুজন চুপচাপ তাকিয়ে রইলাম।
কারণ, পরোটা একটাই, আর ক্ষুধাটা দুজনের!
ইস্যু আসে ইস্যু যায়...অটোরিকশা লইয়া সরকার কী করবে?পিংক বাসবিশেষ খবর গ্রামের রাস্তা মেরামতে কোটি টাকার কম্পিউটার! ৩০ লাখের সফটওয়্যার! লোডশেডিংয়ের সাইড ইফেক্ট!রসচিঠি