ভালো উদ্যোগ, এখন কার্ডের সীমা বাড়ানো দরকার
· Prothom Alo

বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে ট্রাভেল কোটা বা ভ্রমণ কোটায় বৈদেশিক মুদ্রা খরচের বার্ষিক সীমা বাড়ানোর যে সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়েছে, সেটি নিঃসন্দেহে খুবই ভালো উদ্যোগ। বাংলাদেশ ব্যাংক যে এই বিষয়টি অনুধাবন করে বৈদেশিক মুদ্রায় খরচের সীমা বাড়িয়েছে, সে জন্য আমি বাংলাদেশ ব্যাংককে ধন্যবাদ জানাই। আগে এই সীমা ছিল বছরে ১২ হাজার মার্কিন ডলার। এখন তা বাড়িয়ে ১৮ হাজার ডলার করা হয়েছে। আমরা যাঁরা ট্রাভেল বা ভ্রমণ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তাঁরা এই সিদ্ধান্তে উপকৃত হব। যদিও আমি মনে করি, অনলাইনকেন্দ্রিকসহ বিদেশে ট্রাভেল ব্যবসার সঙ্গে যাঁরা জড়িত এবং খুব বেশি ভ্রমণ করেন, তাঁদের জন্য ১৮ হাজার মার্কিন ডলার খুব বেশি নয়। তারপরও বলব আপাতত যে সীমা বাড়ানো হয়েছে, সেটিতে আমরা যাঁরা এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত, তাঁরা কিছুটা হলেও দুশ্চিন্তামুক্ত হয়েছি। আমার নিজের অভিজ্ঞতায় বলতে পারি, এই বছরের জন্য ভ্রমণ কোটায় আমার ডলারের যে সীমা ছিল, তা এরই মধ্যে পূরণ হওয়ার পথে ছিল। বছর শেষ হতে আরও বেশ কয়েক মাস বাকি। এর মধ্যে আমাকে আরও কিছু দেশ ভ্রমণ করতে হবে। তাই আমি ডলারের কোটা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলাম। বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্তে আমার সেই দুশ্চিন্তার আপাতত অবসান হয়েছে।
আমরা যাঁরা নিজেরা ও অন্যদের বিদেশ ভ্রমণের কাজের সঙ্গে যুক্ত, তাঁরা বিদেশ গিয়ে সব সময় একটি বাধার সম্মুখীন হই। আর সেটি হচ্ছে দ্বৈত মুদ্রার কার্ড ব্যবহার করে কোনো বিমান টিকিট, হোটেল ভাড়া বা কেনাকাটার ক্ষেত্রে ডলার পরিশোধ করার ক্ষেত্রে। বর্তমান নিয়মে কার্ড ব্যবহার করে বিদেশে কোনো টিকিট, হোটেল বুকিং বা কেনাকাটা করতে গেলে একসঙ্গে ৩০০ ডলারের বেশি খরচ করা যায় না। এতে আমরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসুবিধার সম্মুখীন হই। তাই আমি মনে করি ভ্রমণ কোটায় বৈদেশিক মুদ্রা খরচের সীমা বাড়ানোর পাশাপাশি কার্ডে ৩০০ ডলারের সীমাও পুনর্বিবেচনা করা উচিত। আমি জানি, এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক হয়তো কার্ডে বিদেশি মুদ্রা খরচের অপব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত। বিষয়টি মাথায় রেখেই বলছি, এ ক্ষেত্রে তদারকি জোরদার করেও প্রকৃত ব্যবহারকারীদের জন্য এই সীমা বাড়ানো এখন জরুরি।
Visit biznow.biz for more information.
আমি নারীদের বিদেশ ভ্রমণ নিয়ে কাজ করি। এই কাজ করতে গিয়ে ব্যবসার প্রয়োজনে আমাকে নানা খাতে কার্ডে লেনদেন করতে হয়। সেই লেনদেন করতে গিয়ে অনেক সময় অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। কার্ডে ৩০০ ডলারের সীমা বর্তমান বাস্তবতায় খুবই অপ্রতুল। ধরা যাক কোনো একজন ভ্রমণকারী বিদেশে গিয়ে একটি ফোন, ল্যাপটপ কিনতে চান। তখন দেখা যায় কার্ডে সেই লেনদেন করা যায় না। করা গেলেও কয়েক দফায় ভেঙে ভেঙে লেনদেন করতে হয়। তখন দেখা যায় অনেক ক্ষেত্রে বারবার লেনদেনের কারণে কার্ড ব্লক করে দেওয়া হয়। তখন বিদেশে বসে ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করে সেই ব্লক তুলে নিতে হয়। তাতে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয় অনেককে। তাই এই কার্ডে বিদেশে কেনাকাটার ক্ষেত্রে এই বাধা দূর করা দরকার। আশা করছি বাংলাদেশ ব্যাংক বিষয়টি বাস্তবতার ভিত্তিতে বিবেচনা করবে। সেটি হলে ভ্রমণকারী ও ভ্রমণ ব্যবসার সঙ্গে জড়িতরা অনেক বেশি উপকৃত হবেন। বাংলাদেশে এখন অনেক উদ্যোক্তা ই-কমার্স, এফ কমার্স ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তাঁদের জন্যও কার্ডে লেনদেনে ৩০০ ডলারের সীমাটি ব্যবসার ক্ষেত্রে বড় বাধা।
পরিচিতি: ওয়ান্ডার ওমেন নারীদের ট্রাভেল ব্যবসার সঙ্গে জড়িত একটি প্রতিষ্ঠান
সাবিরা মেহেরিন,
প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও, ওয়ান্ডার ওমেন