তুমি, একুশ শতক

· Prothom Alo

আমাদের পৃথিবী রূপকথার সঙ্গে বসে
নদী দেখে না;
আমাদের পৃথিবী বিহ্বলতাকে সঙ্গে নিয়ে আর
অরণ্যে হয় না মুগ্ধ।
আমাদের পৃথিবীর ভাষা ভালোবাসার গলি থেকে
বেরিয়ে হত্যার মাঠে এসে দাঁড়িয়েছে।
আমরা দেখছি, খুনের হাতে প্রেম,
নৃশংসতার হাতে দয়া মারা পড়ছে।
যেখানে কোমল, নরম, মানবিক বৃক্ষগুলো
কাটা পড়ে যাচ্ছে রক্ষাকবচের অভাবে;
খুন আর নৃশংসতা জয়ী হয়ে ঘোষণা করেছে,
পৃথিবীকে তারাই শাসন করবে।

Visit bettingx.club for more information.

টি–শার্ট কবিতাকে গলা চেপে শাসাল—
‘শাহবাগ থেকে অন্য কোথাও চলে যা।’
আমরা খাব প্রতারণা, খেতে খেতে কীটের মতো
ক্ষমতার পায়ের কাছে বসে থাকব অনন্তকাল।
কবিতাকে চলে যেতে হবে। একইভাবে,
ভালোবাসা গিয়ে দাঁড়াবে যৌনতার ভাগাড়ে;
সততা ঘোড়ার মুতের মতো
দুর্গন্ধময় হয়ে অভিধানে ঢুকে যাবে।
সুর অবদমনের বগলে চাপা পড়ে
সুর করে চাঁদা চাইবে গলিতে গলিতে।
আমাদের শাসন করবে যৌথ ভয়
আর ঘিরে ফেলার চোখ-রাঙানো,
আর বলবে, অন্য কোথাও চলে যা;
বাঘের থাবা থেকে বেরিয়ে
হায়েনার প্রান্তরে এসে দাঁড়িয়েছি,
ধু ধু প্রান্তরে অন্ধকার আর মৃত্যুফাঁদ।
দেখছি, আমাদের যাওয়ার
জায়গা সব পুড়ে গেছে বোমায়।

হাতপাখার নিচে বসে, যাত্রাপালা ধরে
ঢুকে যাব বিশাল বাংলায়।
কিন্তু বলছে, অন্য কোথাও চলে যা,
না-হয় তোর মুখ ডেউয়া ফলের মতো ভচকে দেব,
তুই ভুলে যাবি তোর ইতিহাস, ভূগোল, অক্ষর
এমনকি তোর জন্মদাগ!
তবে কোথায় যাব,
ঢেউয়ে আর সময়ে, নক্ষত্রেরা ডাকে,
কোথায় যাব!
সবখানে হত্যার উল্লাস, মানুষ মরছে,
আলপনার ভেতর কি যাওয়া যাবে, বা
কিচ্ছার স্বপ্নভূমি, পরাবাস্তব পৃথিবী
সেখানে কি আমাদের লুকানো যাবে;
আমরা যেতে পারব?

যেখানে অশোকা জন্মাচ্ছে, সেখানে
অগণন বছর ধরে অশোকাই জন্ম নিচ্ছে,
যা কনকসুধার আবাস, তা–ও কনকসুধারই।
কেননা, পৃথিবী বলছে, তথাস্তু;
প্রকৃতির চোখ ভালোবাসায় জ্বলজ্বল।
কিন্তু মানুষ অন্যের বাস্তু জ্বালাতে
পুড়িয়ে ফেলছে নিজের সংস্কৃতি;
নিজের ভাষার গলায় ছুরি বসিয়ে
যা বলছে, তার ভাষা আমাদের জানা নেই!
এভাবে একটা দিনের ওপর আরেকটা দিন
ঝরে পড়ে স্তূপ হয়ে গেছে;
খুনের ওপর খুন পড়ে স্তূপ হয়ে গেছে,
আমরা শুধু হাত জোড় করে প্রার্থনা করছি,
বলছি, আমরা এখানেই থাকতে চাই।

রূপ বদলাতে বদলাতে গিরগিটিকে
হার মানিয়ে তুমি একুশ শতক হয়েছ,
একটু কথা বলো, আগের মতো, প্লিজ।

Read full story at source