দুই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি মাদ্রাসাশিক্ষকের

· Prothom Alo

সিলেটের একটি মাদ্রাসার হিফজ বিভাগের ৮ থেকে ১০ বছর বয়সী দুই শিশুকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন ওই মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক (মুহতামিম) ফয়জুল হক। গতকাল বৃহস্পতিবার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর সিলেটের একটি আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পুলিশ এ কথা জানিয়েছে।

Visit somethingsdifferent.biz for more information.

ফয়জুল হকের বাড়ি সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায়। এদিকে গতকাল থেকে সিলেট সদর উপজেলার ওই মাদ্রাসা তালাবদ্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন। ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর থেকে মাদ্রাসার শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সেখানে নেই বলেও তাঁরা জানান।

তবে শুধু ওই দুই শিশু নয়, মাদ্রাসাটির আরও অনেক শিক্ষার্থী নির্যাতনের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কয়েকজন অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলে এমন অভিযোগের কথা জানা গেছে। তাঁদের দাবি, কয়েকজন শিশুর শরীরেও নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে। এসব অভিযোগ তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।

নির্যাতনের শিকার এক শিশুর বাবার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কিছুদিন আগে মাদ্রাসার আট বছর বয়সী এক শিশু অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ শিশুটির অভিভাবককে ডেকে এনে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে বলে। চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়ার পর বিষয়গুলো সামনে আসে।

ওই শিশুর বাবা বলেন, মাদ্রাসা বন্ধ হওয়ার পর তাঁর ছেলে আর সেখানে যেতে চাইছিল না। অনেক জিজ্ঞাসা করেও সে প্রথমে কিছু বলেনি। পরে এক পর্যায়ে মাদ্রাসায় তার সঙ্গে কী হয়েছে, তা জানায়।

ওই অভিভাবক প্রথম আলোকে বলেন, এরপর কয়েকজন অভিভাবক মিলে মাদ্রাসায় গিয়ে অন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। তখন আরও কয়েকজন শিশু একই ধরনের নির্যাতনের কথা জানায়। শিশুদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় প্রতি রাতে এক থেকে দুজন শিক্ষার্থীকে হুজুরের কক্ষে নিয়ে যাওয়া হতো। সেখানে তাদের সঙ্গে খারাপ কাজ করা হতো। বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য শিশুদের ভয়ভীতি দেখানো হতো বলেও তিনি দাবি করেন।

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আগেও শিশুদের সঙ্গে খারাপ আচরণের অভিযোগ উঠেছিল। ঘটনার পর স্থানীয় লোকজনের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। মাদ্রাসাটি আর চালাতে দেওয়া হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

এর আগে দুই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে ফয়জুল হককে গত বুধবার আটক করে শাহপরান থানা-পুলিশ। পরে নির্যাতনের শিকার এক শিশুর বাবা মামলা করেন। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ওই শিক্ষককে আদালতে পাঠানো হয়।

শাহপরান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মুজিবুর রহমান বলেন, ৮ থেকে ১০ বছর বয়সী দুই শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মাদ্রাসার শিক্ষক ফয়জুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়। শিশু দুটি সম্প্রতি মাদ্রাসা থেকে বাড়িতে চলে আসে। তারা আর মাদ্রাসায় যেতে চাইছিল না। অভিভাবকেরা কারণ জানতে চাইলে তারা প্রতি রাতে হুজুরের কক্ষে যেতে হতো বলে জানায়। না গেলে মারধর করা হতো এবং কক্ষে গেলে তাদের সঙ্গে খারাপ কাজ করা হতো বলেও জানায়।

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, ফয়জুল হক শিশুদের ধর্ষণের কথা আদালতে স্বীকার করেছেন। অন্য আরও কোনো শিক্ষার্থী নির্যাতনের শিকার হয়েছে কি না, সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Read full story at source